১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রাহকের কাছে প্রি-পেইড মিটার, ভুতুড়ে বিল থেকে মুক্তি

গ্রাহকের কাছে প্রি-পেইড মিটার, ভুতুড়ে বিল থেকে মুক্তি

অনলাইন রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৩৯ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক পান প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা। ২০১৮ সালের নবেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখে। কমে যায় বিদ্যুতের অপচয়। মুক্তি মিলে ‘ভুতুড়ে বিল’ (অতিরিক্ত টাকা) দেয়ার অভিশাপ থেকে।

গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনতে এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ‘প্রিপেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ডিস্ট্রিবিউশন সাউদার্ন জোন’।

নগরের আগ্রাবাদ, স্টেডিয়াম, পাহাড়তলী ও খুলশী এই ৪ বিতরণ বিভাগে ওই প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সরকারি অর্থায়নে ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়।

পিডিবি সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। প্রকল্পের আওতায় মিটার তৈরি ও বসানোর জন্য ২০১৫ সালের মার্চে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড এর সঙ্গে চুক্তি হয় পিডিবি’র। পরে এ প্রকল্পের আওতায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ও ২০১৮ সালের নবেম্বরের মধ্যে ৪ লাখ গ্রাহককে মিটার সুবিধা দেওয়া হয়।

যদিও পিডিবি’র গ্রাহক আছে ১০ লাখ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালের মধ্যে বাকি ৬ লাখ গ্রাহককেও প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। এদিকে প্রি-পেইড মিটার দেওয়ার আগে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল-বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও ‘ভুতুড়ে বিল’ আসার। কিন্তু প্রি-পেইড মিটার পাওয়ার পর সেসব গ্রাহকরা এখন বলছেন, তাদের এখন ভুতুড়ে বিল আসে না। বরং আগে যেখানে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসতো সেখানে এখন সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিল আসছে।

চকবাজার বড়মিয়া মসজিদ এলাকার বাসিন্দা কহিনুর আকতার বাংলানিউজকে বলেন, আগে একটি ফ্রিজ, ৩টি পাখা ও ৪টি বাতি জ্বালালে মাসে কখনও ১৫০০ টাকা আর কখনও ১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিল আসতো। এমনও হয়েছে, ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কারণে ১৫ দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও একই বিল দিতে হয়েছে। কিন্তু এখন প্রি-পেইড মিটার পাওয়ার পর ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিল আসছে।

পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন জানান, প্রি-পেইড মিটার আসার পর গ্রাহক ও সরকার দুই পক্ষই লাভবান হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকছে না, সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়ছে। এমনকি বিদ্যুৎ চুরিও কমছে। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ গ্রাহককে এ সুবিধা দেওয়া হবে।