১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আয়কর বাড়ানোর কৌশল নেয়া হয়েছে

করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আয়কর বাড়ানোর কৌশল নেয়া হয়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সব ধরনের ভয়ভীতি দূর করে করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আয়কর বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জনগণ এখন সেবার বিনিময়ে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এনবিআর সত্যিকারের করবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। কর দেয়া এখন নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। আর এ কারণে দেশে দ্রুত করদাতার সংখ্যা বাড়ছে।

শুক্রবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত আয়কর দিবস-২০১৮ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুন বাগিচায় রাজস্ব ভবনের সামনে আয়কর দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন তারকা শিল্পীরাও। তাঁরাও অনুষ্ঠানে তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। এ অনুষ্ঠানে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সবাইকে আয়কর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আয়কর আদায়ের পরিমাণ ১০ গুণ বাড়ালে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে যাবে। তিনি বলেন, ৩৩ বছরের চাকরি জীবনে দেখলাম, আয়কর বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ গুণ। ১৯৮৬ সালে এনবিআরের সংগ্রহ ছিল দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা, সেখান থেকে ২৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে অনেক বড় ফিগার হয়েছে। আরও যদি ২৬ গুণ বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ইকোনমি হয়ে যাবে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে মোট কর সংগ্রহ হয়েছে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২৬ গুণ বাড়লে হবে ৭৮০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে চীনের দেড় হাজার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজার বিলিয়ন ডলার। ২৬ গুণ না হয় ১০ গুণ হলে উচ্চ আয়ের দেশে চলে যাবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এনবিআর সেই লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করছে। এ কারণ করদাতাদের সাথে এনবিআরের সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। এখন আয়কর মেলার পাশাপাশি আয়কর দিবস পালন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু পরিকল্পনা আছে, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সত্যিকারের করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। আয়কর বিবরণী দাখিল গত দুই বছর ধরে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ্যাকটিভ করদাতা এখন ১৫ লাখ, সেটা যখন এক কোটি হয়ে যাবে, তখন দেশের আরও বেশি উন্নয়ন হবে। কর অনুপাত ১২ শতাংশে নিয়ে যেতে পারলে অর্থনীতি মজবুত হবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য (আন্তর্জাতিক করনীতি) কালিপদ হালদার বলেন, গত বছর করদাতা ছিল ৩২ লাখ, এ বছর তা ৩৮ লাখ হয়েছে। ২০১৪ সালে করদাতার সংখ্যা ছিল ১২ লাখ। মাত্র ৪ বছরে করদাতার সংখ্যা তিনগুণের বেশি হয়েছে। প্রকৃত কর আদায় ১০ বছরে পাঁচগুণ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য করদাতা ১ কোটিতে উত্তীর্ণ করা। সামাজিক ভারসাম্য ও দায়িত্ব বজায় রাখার জন্য আয়কর দিতে হয়। করদাতাদের ভেতর আয়কর নিয়ে আগে নেতিবাচক প্রবাদ ছিল। কিন্তু আয়কর মেলা ও দিবস পালনের মাধ্যমে তা দূর হয়েছে। অন্যদিকে অনুষ্ঠানে তারকা শিল্পীরা বলেন, আয়কর দেয়া অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

চলচ্চিত্র তারকা গুলশান আরা আক্তার চম্পা বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ, যাদের কর দিতে হবে, তাদেরকে কর দেয়ার অভ্যাস করে গড়ে তোলার সময় হয়েছে। অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, কর প্রদানে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষত তরুণদের। আর তরুণদের প্রথম ভোট যেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হয়। গায়ক শুভ্র দেব বলেন, বাংলাদেশে এখন কর প্রদানের পরিবেশ খুবই ভালো। নিজেদের টাকা দিয়ে আমরা পদ্মা সেতু করতে পারলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারও করতে পারব। আর তা করতে চাইলে সবাইকে কর দিতে হবে। চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন কর দেয়া বাহাদুরি, কর দেয়ার মাধ্যমে আমিও তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। কর দেয়া অভ্যাসের ব্যাপার। তাই সবাইকে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এনবিআর সদস্য (আয়কর) জিয়া উদ্দিন মাহমুদসহ এনবিআরের কর্মকর্তারা আয়কর দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷

এদিকে, আয়কর দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছর বর্ণাঢ্য র্যালী করা হয়। তবে এবার নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো র্যালী করা হয়নি৷ ভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল এনবিআর।