১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৈদেশিক বাণিজ্যে ঝুঁকি বাড়ছে

বৈদেশিক বাণিজ্যে ঝুঁকি বাড়ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকারদের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে বিল অব লেডিং, এয়ারওয়ে বিল, ট্রাক রিসিপ্টের বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকারদের সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শুল্ক বিভাগ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, শিপিং লাইন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যাতে বাণিজ্য সংক্রান্ত উদ্ভুদ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়।

রবিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ট্রান্সপোর্ট ডকুমেন্টস ইন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাই ব্যাংকস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রমে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের কার্যক্রমের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্মস অ্যাডভাইজার এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (ট্রেনিং) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুবিধার গুণগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি নতুন গাইড লাইন প্রকাশ করা হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ‘আমদানি-রফতানির আকার ক্রমেই বাড়ছে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত জটিলতাও বাড়ছে। সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আলাদা রোড ম্যাপ তৈরি করে সমাধান করতে হবে। ’

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘শুল্ক বিভাগে ডেট এক্সপায়ার ব্যাংক গ্যারান্টিগুলো ব্যাংককে ফেরত দিতে হবে। একইসঙ্গে ফরেন এক্সচেঞ্জ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ’

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, ‘ট্রান্সপোর্ট ডকুমেন্টস উন্নত বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না হলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো খুব গুরুত্ব দেয়। কারণ, এ ধরনের ডকুমেন্টের সঙ্গে রফতানির হিসাব এবং ঋণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে এসব তথ্য আরও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা জরুরি।’

কাস্টমস ভ্যালুয়েশান অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিট কমিশনারেটের কমিশনার ড. মঈনুল খান বলেন, ‘বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার মোট অর্থপাচারের ৮০ শতাংশ। অর্থপাচরের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে শুল্ক বিভাগের সমন্বয় জরুরি। কারণ, এক পণ্যের আড়ালে ভিন্ন পণ্য আনছে এ ধরনের অভিযোগ আছে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’