১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসডিজি অর্জনে স্থানীয় পর্যায়ে সুষম উন্নয়ন ও বণ্টনের তাগিদ

এসডিজি অর্জনে স্থানীয় পর্যায়ে সুষম উন্নয়ন ও বণ্টনের তাগিদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘ ঘোষিত স্থায়ীত্ব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সুষম উন্নয়ন ও বণ্টনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে অর্থায়নসহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন। দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতের নিয়ে আসতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সব ধরনের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করে সেবাব মান বাড়ানো যেতে পারে।

বুধবার রাজধানীর একটি স্থানীয় হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) আয়োজনে এসডিজি বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। এছাড়া মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মিসেস শাহীন আনাম ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সিপিডি আয়োজিত সেমিনারে সহযোগি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অংশগ্রহণ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গত কয়েক বছরে দেশে সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে। এ সময় উন্নয়নেও বৈষম্যে বেড়েছে। তবে কাউকে পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাউকেই পেছনে রাখা যাবে না।

বিশেষ করে উন্নয়নে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং কাজ করার সাথে কাজের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকতে হবে, সমাজের কণ্ঠস্বর উচ্চারিত না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরেও প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। সেজন্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি জবাবদিহিতার বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।

ড. শামসুল আলম বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২১ বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণের ঘোষণা রয়েছে। এই ঘোষণার বাস্তবায়িত হলেই এসডিজি অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশে এখন সব ধরনের অবকাঠামোখাত উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে পাকা রাস্তা ও গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। এসবই এসডিজির সাথে সম্পৃক্ত। শুধু তাই নয়, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে এমডিজির মতো এসডিজিও সঠিক সময়ে অর্জিত হবে।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, আয়ের বৈষম্য যেমন বেড়েছে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে সম্পদের বৈষম্য। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের আয়ের উৎস, জীবন চক্র কোথায় আছে, তাদের অবস্থান শহর বা গ্রাম নিয়ে আলোচনা করা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এতসব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এসডিজি বাস্তায়নে সরকার, নাগরিক সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। শাহীন আনাম বলেন, এসডিজি অর্জনে সবাইকে সচেতন করতে হবে ও জানাতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাকে কার্যকর ও দৃশ্যমান করাসহ এসডিজি অভিষ্টগুলোর তাৎপর্য সম্পর্কে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কোনোভাবেই যেন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।