১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে

  • রেশমা খানম

আমরা কথায় কথায় বলি, তরুণরাই জাতির ভবিষ্যত। সেই তরুণরা আজকে দেশ তথা সামাজিকভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য কতটুকু ভাবে এবং কি তাদের ভূমিকা থাকা উচিত, তার কিছু চিত্র আমি তুলে ধরছি। আমাদের দেশের তরুণ সমাজ দেশের জন্য; দেশের মানুষের জন্য, উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বর্তমানে তরুণ সমাজ নব্য ধনী ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের দ্বারা কিভাবে বিপথগামী হচ্ছে তা আমরা অনেকেই জানি না। নব্য ধনী ও সম্পদশালী লোকদের ছেলেমেয়েরা আজ ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য খেয়ে পুরো জাতিকে কলুষিত করছে এবং সেই সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরাও তাদের বিভিন্নভাবে দেখা সাক্ষাত বা ক্লাসের সহপাঠী হিসেবে পরিচয় লাভ করে তারাও নেশাগ্রস্ত হয়ে পুরো পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছে। আমার জানা মতে উচ্চবিত্ত ও সম্পদশালীদের আচার আচরণ, চলাফেরা এবং তাদের ছেলেমেয়ের সামনে তাদের অতীতে কৃতকর্মগুলো তুলে ধরে দাম্ভিকতা প্রকাশ করার কারণে তাদের ছেলেমেয়েরা অনুরূপ আচরণ এবং অস্বাভাবিক চলাফেরাসহ লেখাপড়া না করে নেশাগ্রস্ত হয়ে সমাজকে কলুষিত করছে। আমরা ‘বাব-মা’রা যদি আমাদের সন্তানদের ভাল আচরণ, লেখাপড়াসহ সমাজ তথা দেশকে একটি সুন্দর সমৃদ্ধিশালী দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ না করি, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা জাতি গঠনে তথা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের নিয়ে যে, আশার আলো দেখিয়েছিন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সমাজের তথা দেশের প্রতিটি সন্তানের বাবা-মার অগ্রণী ভূমিকা থাকতে হবে। বাবা-মাই পারে তার সন্তানকে সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। কারণ আমাদের সন্তান কোথায় পড়ে, কোথায় যায়, কার সঙ্গে মিশে এবং সে ক্লাস শেষ করে সঠিক সময়ে বাসায় আসে কিনাÑ তার দেখার দায়িত্ব কিন্তু প্রতিটি অভিভাবকের। আমাদের সময় বাবা-মার একটি নির্দেশই ছিল, সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে পড়তে বসবে এবং বিকেলে খেলাধুলা করে-বেলা ডুবার অর্থাৎ মাগরিবের আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়ার টেবিলে বসবে। এর কোন ব্যত্যয় ঘটলে শাসন করত, এমনকি মারধর করত। যার কারণে আমরা সমাজ তথা দেশের জন্য কিছুটা হলেও অবদান রেখে চলেছি। কিন্তু সঙ্গদোষে এবং বাবা-মার অহঙ্কার ও খেয়ালিপনার কারণে আমাদের যুবসমাজ এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। আমাদের দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তখনকার তরুণ সমাজ কত উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৬ দফা থেকে শুরু করে ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে-তরুণদের মুখ্য ভূমিকা ছিল। যার কারণে পশ্চিম পাকিস্তান শত চেষ্টা করেও বাঙালী তরুণ সমাজকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি।

উত্তর বাসাবো, ঢাকা থেকে