১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সত্য আলোর পথযাত্রী

  • সাগর কোড়াইয়া

তারুণ্যের জয়গান দেশ-সীমা-কালের উর্ধে। আজকের তরুণরাই আগামীর দিক নির্ণয়কারী। জাতির ভবিষ্যত স্বপ্নদ্রষ্টা-স্রষ্টা ও উন্নয়নের আলোক শিখা বহনকারী। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের প্রতিটি আন্দোলনের ইতিহাস তারুণ্যনির্ভর। অতীত ও বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও তারুণ্যের জয় পতাকাতলেই গাঁথা হবে ইতিহাস। যুগে যুগে তরুণরা জাতি ও বিশে^র জন্য বয়ে এনেছে সাফল্য। দূর করেছে যত অমানিশা; জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আলোর রশ্মি ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী। মানবিকতা ধ্বংসকারীর রণহুঙ্কার স্তব্ধ করেছে তরুণের বজ্রনিনাদ। যারা না জানার মতো নীরবে-নিঃশব্দে নিজের পিঠ বাঁচানোয় ব্যস্ত তাদের এই জেগে ঘুমানো থেকে জাগিয়ে তুলতে রবিঠাকুর তাই তরুণদেরই আহ্বান করেছেন, ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’

তরুণরা সকল ধরনের সীমাবদ্ধতা, অন্যায্যতার বেড়াজাল ছিন্ন করে একটি নতুন পৃথিবী দেখতে চায়। কিন্তু যে সুন্দর পৃথিবী তারা দেখতে চায় তা তারা পায় না। অনেক সময় বাস্তবতার তিক্ত অভিজ্ঞতা তাদেরকে ব্যর্থ করে দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখে। আর এর ফলে যখন হতাশা-ব্যর্থতা এসে উপস্থিত হয় তখন তরুণ সমাজ অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়ে। কখনও হয়তো প্রেমিক-প্রেমিকা, পরিবার, সমাজ প্রশাসনিক ব্যবস্থা তথা পারিপার্শ্বিক নেতিবাচক সামগ্রিক অবস্থা তরুণদের অন্ধকারে ঠেলে দেয়। কিন্তু তরুণ সমাজ সত্যকে জানতে আগ্রহী।

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাদের স্বপ্নগুলো শুনে নিজেও তরুণদের নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো ব্যক্ত করেছেন। আমাদের দেশের তরুণদের জন্য অবশ্যই এটা একটি বড় পাওয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মাঝে যে স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন তা আগামী বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করবে। তরুণ সমাজ কোন বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চায় না। সত্য ও স্বাধীন আলোর সন্ধান তারা সমাজ, দেশ ও বিশে^র নেতৃবৃন্দের কাছে পেতে চায়। আর এর ফলে সত্যবোধের চর্চা তারা নিজের মধ্যে করতে পারে। তখন এক একজন তরুণ হয়ে উঠে সত্য আলোর পথের যাত্রী। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে পোপ ফ্রান্সিস তাঁর টুইটার বার্তায় তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রিয় তরুণ-তরুণী ভাইবোনেরা আমার সঙ্গে তোমরা বিশে^র শান্তির জন্য প্রার্থনা কর। হ্যাঁ, শান্তির জন্য প্রার্থনা কর।’

বৃদ্ধি ও বিকাশই তরুণদের ধর্ম। তাই তরুণদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সমাজ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভরপুর জীবন একটি বিশেষ মূল্যবান সম্পদ। তাই সব সময় তারুণ্যকে বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রক্রিয়া হতে হবে। ফলে তরুণদের মাঝে ধীরে ধীরে যা কিছু সত্য, মঙ্গলজনক ও সুন্দর তা সঞ্চিত হয়ে প্রকাশিত হবে অবলীলায়। প্রযুক্তি ও শিল্প সভ্যতার এই ব্যাপক অগ্রগতির যুগে তরুণরা দিশাহারা হয়ে পড়ছে সত্য। কিন্তু তারা যে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে তা নয়; তরুণদের অন্তরে যে বিশ্বাস ও দয়ার আলো প্রজ্বলিত তা একবার জাগিয়ে দিতে পারলেই হলো। তারপর শুধু দরকার যত্ন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের মতামতকে অপরিপক্ব হিসাবে দেখা হয়। তরুণরা যে আশার বাণী বড়দের নিকট থেকে শুনতে চায় তা তারা প্রায় সময়ই পায় না। বরং এর বিপরীতে সমাজ ও দেশের অবক্ষয়ে বড়দের সংশ্লিষ্টতাই প্রত্যক্ষ করে। এ অবক্ষয় যেন মাছের মাথায় প্রথম পচনের শামিল। কিন্তু বাঙালী জাতি হিসেবে আমরা এ চিত্র দেখতে চাই না। বরং বড়দের পাশাপাশি তরুণদেরও স্বাধীন মতামত প্রকাশ করার সুযোগ দিতে হবে। তরুণদের সত্য আলোর পথযাত্রী করে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ, দেশ ও সমগ্র বিশে^র রয়েছে নৈতিক দায়িত্ব।

ঢাকা থেকে

নির্বাচিত সংবাদ