১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জেগে আছে তরুণেরা

  • সাদিয়া তাবাস্সুম বৃষ্টি

সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনের সব থেকে সম্ভাবনাময় মানবসম্পদ হিসেবে তরুণ সমাজকে বিবেচনা করা হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তরুণদের ভূমিকাই ছিল মুখ্য, ইতিহাস তো এমনটাই সাক্ষ্য দেয় আমাদের।

’৫২ থেকে ’৭১ বরাবরই দেখা গেছে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অকপটে নিজের জীবনকে বিসর্জন দেয়ার দুঃসাহস এদেশের তরুণরা দিয়ে গেছে বহুবার। দেশের মাটিকে অন্যায় অবিচার তথা পাপমুক্ত করতে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকেই শুরু হয়েছিল পথচলা। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বাঙালী জাতি পেয়েছে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। কোন অন্যায় অপশক্তির কালো ছায়া বাংলার তরুণদের থামাতে পারেনি। বাংলাকে সব অপশক্তির ছোবল থেকে মুক্ত করতে এক সাগর রক্ত ও লাশের মিছিল পেরিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। জীবনের দামে কেনা স্বাধীনতা, মানচিত্রের বুকে এক টুকরো মুক্তভূমির জন্ম যাদের-মুখ্য ভূমিকায় সফল তারাই এদেশের তরুণ। বিজয় উল্লাসে আজ আমরা স্বদেশের বুকে বিজয় কেতন উড়াই। বিজয়ের প্রায় অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মশাল তরুণরা অত্যন্ত সুদৃঢ় হাতেই বহন করে চলেছে। সব প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতার মাঝেও পথচলা থেমে থাকেনি, তরুণ সমাজ অবিচল আছে ইতিহাসের মশাল হাতে। সেই বাংলার বুকে জন্ম নেয়া তরুণরা আজ কখনও বা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়ছে, করছে নতুন কিছুর আবিষ্কার। আবার কখনও বা অন্যায়ের প্রতিবাদে মুখরিত হচ্ছে, লাখো কণ্ঠ একসঙ্গে গেয়ে চলে দেশ গড়ার অদম্য সঙ্গীত। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু পেছনে ফিরে তাকালেই আমরা একটি দৃষ্টান্তের মুখোমুখি হতে পারব। একটি অনাকাক্সিক্ষত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাকে (স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা) কেন্দ্র করে যে অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল তার প্রতিবাদে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে যে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রতিবাদ ও একযোগে গ্রহণ করা পদক্ষেপ ছিল আশা করি তা দেখে গোটা দেশ এবং দেশের পরবর্তী প্রজন্ম সম্পর্কে সকলেরই ধারণা হয়েছে। যে তরুণদের ভিড়ে ছিল আমারও অবস্থান। আমাদের স্লোগান ও পদক্ষেপ কেবল জানান দিতে সক্ষম যে, আমরা এ মাটির সন্তান, আমরা ’৫২-৭১-এরই রক্ত বহনকারী।

অনেকেই ভাবেন তরুণরা ঘুমিয়ে আছে, আমি সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নির্দ্বিধায় বলতে চাই, আমরা জেগে আছি, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে। দেশ গড়ার কাজ তরুণদের হাত ধরেই অব্যাহত রয়েছে এবং এগিয়ে চলেছে। আজও এদেশের মানুষের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে একচুল পরিমাণ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয় না। সময়মতো তরুণরা তাদের পরিচয়ের জানান আগেও দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে। ভবিষ্যত বাংলাদেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইতিহাসকে লালন ও ধারণ করে বাংলাদেশের তরুণরা স্বপ্ন দেখে, একটি সুখী ও দুর্নীতিমুক্ত, লিঙ্গবৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ দেশের এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি অপশক্তির বিরুদ্ধে সকলে একসঙ্গে জ্বলে ওঠার দুরন্ত উচ্ছ্বাস তরুণদের আছে।

যতদিন বাংলার বুকে আপোসহীনতার ইতিহাস বেঁচে থাকবে, ততদিন বাংলার তরুণরা জেগে থাকবে, স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অদম্য আশা বুকে নিয়ে।

জামালপুর থেকে