১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে একসাথে চার নবজাতকের জন্ম

রাজধানীতে একসাথে চার নবজাতকের জন্ম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক মায়ের গর্ভে চার নবজাতকের জন্ম হয়েছে। নবজাতকদের মধ্যে একটি ছেলে ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। বুধবার রাত বারটার দিকে সহকারী অধ্যাপক ডা. রত্মা পালের অধীনে প্রসূতি মা রেখারকে অস্ত্রোপচার করে এ চার নবজাতককে জন্মগ্রহণ করানো হয়। নবজাতকদের হাসপাতালটির নিউন্যাটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিউটে (এনআইসিইউ) শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে চার নবজাতকই ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের শরীরের অনেক অঙ্গেই সমস্যা রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হাসপাতালটির কস্টোমার কেয়ার জানায়, বুধবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের ইমরান হোসেনের স্ত্রী রেখা হাসপাতালটির গাইনি বিভাগে ভর্তি হন। রাত বারটার দিকে রেখাকে অস্ত্রোপচার করা হয়। রেখার গর্ভে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান ও তিন কন্যাসন্তান। পুত্র সন্তানের ভর ১৫০০ গ্রাম, অপর কন্যা নবজাতকের ভর যথাক্রমে ১২০০ গ্রাম, ১৫৪০ গ্রাম ও ১১০০ গ্রাম।এইচার নবজাতকের মধ্যে পুত্র নবজাতক এনআইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে, প্রথম কন্যা নবজাতক সিপ্যাপ বা মিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তবে তার পায়খানার সঙ্গে রক্ত ঝরছে। অপর দু নবজাতককে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।

এই চার নবজাতকের চিকিৎসায় নিয়োজিত ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সহাকারী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আক্তার বলেন, এই চার নবজাতক নির্ধারিত সময়ের আগেই ভূমিষ্ট হয়েছে। প্রসূতি মা রেখা ৩১ সপ্তাহ ৫ দিনে এই নবজাতকের জন্ম দেন। ফলে এই চার নবজাতক অপূর্ণাঙ্গ শারীরিক গঠন নিয়ে জন্ম হয়। সহাকারী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আক্তার আর বলেন, এই নবজাতকরা মায়ের গর্ভে ওভুলেশন ইনডাসিং ড্রাগের মাধ্যমে জন্মেছে। ফলে এই চার নবজাতকের শরীরের অনেক অঙ্গই পরিপূর্ণ হয়নি । ফলে সবাই ঝুঁকিতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত যেসব রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি, তাতে দেখা যাচ্ছে এই চার নবজাতকের কারোর ফুস ফুস পরিপূর্ণ হয় নি। তাই শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

চলতি বছর গত ২১ ও ২২ মে এই হাসপাতালে গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমার অধীনে প্রসূতি মা সনিয়া আক্তারের গর্ভে চারটি ও সোমবার বিকালে অধ্যাপক ডা. রুমানা শেখের অধীনে সুইটি খাতুনের গর্ভে অপর তিন নবজাতক জন্ম গ্রহণ করেন। একই হাসপাতালে গত জুলাই মাসে পুলিশ সদর দপ্তরের কল্যাণ ও ফোর্সের সদস্য গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী ছন্দার দম্পতির তিন জন নবাজতক (ট্রিপলেট ) জন্ম নেয়। হয়।

ট্রিপলেট বেবিরা হলেন তোহা, জোহা ও তাহি। জন্মের পরপরই তাদের ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের এনআইসিওতে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আক্তারের অধীনে এনআইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সুস্থ হয়ে তারা ময়মনসিংহ চলে যায়।