১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত ও পোশাকে বিনিয়োগ

অতীব সম্ভাবনাপূর্ণ বিদ্যুত খাত এবং পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশের সুবিধা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী বিদ্যুত সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিদ্যুত খাতে সহায়তা সম্প্রসারণে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-নেপাল কমিটি। দুটি কমিটির একটি পর্যবেক্ষণ করবে কারিগরি দিক। অন্যটি নেপালে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে বিদ্যুত আমদানি এবং সেদেশে যৌথ উদ্যোগে জলবিদ্যুত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত সিংহভাগ বিদ্যুত উৎপাদনের উৎস জ্বালানি তেল ও কয়লা, যা পরিবেশ দূষণের জন্য মারাত্মক হুমকি। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারে জলবিদ্যুত প্রকল্পে বিনিয়োগ পরিবেশবান্ধব নিঃসন্দেহে। নেপালে অন্তত ৩০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুত উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমারে ৪০ হাজার মেগাওয়াট। ভুটানও জলবিদ্যুত উৎপাদনের অনুকূল ক্ষেত্র। সে অবস্থায় এই তিনটি দেশই বিদ্যুত উৎপাদন ও আমদানির জন্য আকর্ষণীয় স্থান। ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কয়েক শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি করছে। তবে নেপাল এবং ভুটান থেকে বিদ্যুত আমদানিতে সঞ্চালন ও লাইনের প্রয়োজনে ভারতের সহযোগিতা ও সম্মতি লাগবে, যাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ-ভারত টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ ফোরাম গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বলা যায়, বাংলাদেশে বিদ্যুত খাত ও পোশাক শিল্প হতে যাচ্ছে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ইতোমধ্যে সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগ এসেছে এ খাতের জায়ান্ট হিসেবে বিশ্বখ্যাত দুই কোম্পানিÑ যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক ও জাপানের মিতসুবিসি কর্পোরেশন থেকে। সরকারের প্রতিষ্ঠান পিজিটি এবং বেসরকারী সামিট গ্রুপের সঙ্গে আলাদাভাবে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন বাংলাদেশী টাকাসহ ৬০ হাজার কোটি টাকা যৌথ বিনিয়োগে অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়ে সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অর্থাৎ এলএনজিভিত্তিক ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র দুটো উৎপাদনে গেলে তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুত পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

সম্প্রতি দেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুত বিভাগ। বর্তমানে নতুন বিদ্যুত সংযোগ দিতে লাগে ২৮ দিন। উল্লেখ্য, দেশ এখন বিদ্যুত উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মংলা, পায়রা ও মাতারবাড়িতে তৈরি হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। সেই হিসেবে বর্তমান ২১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নতুন ৪২টি ইপিজেডে স্বল্প সময়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া অসম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে এসব ইপিজেডে শতভাগ শিল্পায়ন ঘটবে। ফলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগসহ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কয়েকটি শিল্প পার্কসহ নতুন এক শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলেছে। নেপাল ও ভুটানের পরিবেশবান্ধব এবং নবায়নযোগ্য জলবিদ্যুত এই উন্নয়নে সহায়ক হবে নিশ্চয়ই।