১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ স্কাইপের ব্যবহার বেড়েছে ২০ ভাগ

  • নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের যোগাযোগ

ফিরোজ মান্না ॥ নির্বাচন কেন্দ্র করে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত দুই মাসের তুলনায় এ মাসে ১২৮ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ফোন কলও। নেতাকর্মীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ফোন ও ইন্টারনেট এখন সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছে বিটিআরসি ও বিএসসিসিএল। ইতোমধ্যে ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ, স্কাইপে, ইমো ব্যবহারের পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগ বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব এ্যাপ ব্যবহার করে নেতাকর্মীরা কথা বলছেন। নির্দিষ্ট কোন দল শুধু যে এ কাজ করছে তা নয়। সব দলই এসব এ্যাপ ব্যবহার করছেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাছাকাছি সময়ে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ৮শ’ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যান্ডউইথের ব্যবহারের পরিমাণ ১২৮ জিবিপিএসের মতো বেড়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর এই হার আরও অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা। তারা বলছেন, নেতাদের কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এসব মাধ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছেন। এখন একটা ফোন কলেই ভোট চাওয়ার কাজ হয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই শাখা নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা সেতু বন্ধন তৈরি করে দিয়েছে। তবে কেউ কেউ মাধ্যমগুলোর অপব্যবহারও করছেন। যারা অপব্যবহার করছেন তাদের বিষয়ে সরকারের কয়েক সংস্থা সতর্ক দৃষ্টি রেখে যাচ্ছে। সরকার ও দেশবিরোধী অপপ্রচার শনাক্ত করতে সরকারের সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, দেশে দিন দিন স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের ব্যবহারও বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ৯ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছেন। মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি। সারাদেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪২ লাখের কিছু বেশি। এই হিসাবে প্রায় প্রত্যেক ভোটার ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির মধ্যেই রয়েছে। প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম ব্যবহার করে ভোট চাইতে পারছেন। আবার কোথাও কোথাও মোবাইল ‘কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সঙ্গে ভোট চাওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও ফেসবুক লাইভ দিয়ে প্রার্থী তার প্রচার কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদ সদস্য পদে প্রতিযোগী প্রার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করছেন।

বিএসসিসিএল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০০৫ সালে সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৪’র সঙ্গে যুক্ত হয়। এই ক্যাবলের মধ্যে দেশে আসছে ২৫০ জিবিপিএসর ব্যান্ডউইথ। আর দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৫ দিয়ে আসছে ৪৫০ জিবিপিএস। যদিও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা এক হাজার ৫শ’ জিবিপিএস করা সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ক্যাবলের মধ্যে সাড়ে চার শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দুটি ক্যাবলের মাধ্যমে মোট ৭শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসছে। বাকি ছয়টি আইটিসি সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড, ফাইবার এ্যাট হোম, নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া, বিডি লিঙ্ক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে ভারত থেকে দেশে আসছে এক শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। সরকারী-বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় দেশে মোট ব্যান্ডউইথের পরিমাণ মোট ৮শ’ জিবিপিএস। দেশে অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ থেকে নির্বাচনের কারণে ১২৮ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি জানিয়েছে, নির্বাচন সিডিউল ঘোষণার পর থেকেই গ্রাহকরা ডাটার (ইন্টারনেট) ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা বুঝতে পারছি ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দেখে। নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী, দলীয় কর্মীসহ এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা বাড়িয়েছে। আমরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি, গ্রাহকরা মোবাইল কলের মতোই ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করছেন। দুই মাস আগের তুলনায় বর্তমানে ২০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ বেশি ব্যবহার হচ্ছে।

একইভাবে মোবাইল ইন্টারনেটেও নির্বাচনী প্রভাব পড়েছে। অপারেটরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহক ডাটার ব্যবহার বেশি করছেন। কিন্তু এটা নির্বাচন উপলক্ষে কিনা তা বলতে রাজি না মোবাইল অপারেটররা।

নির্বাচিত সংবাদ