১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশেই বছরে ১২শ’ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য

  • তিনদিনের প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই উৎসবে রূপান্তর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ‘ফুলের মতন আপনি ফুটাও গান, হে আমার নাথ এই তো তোমার দান।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসংখ্য কবিতা ও গানে এভাবে ফুলের বন্দনা করে গেছেন। সব মানুষই ফুল ভালবাসে। প্রেম ও ভালবাসার জগতে যুগে যুগে ফুল এক অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তাই তো ফুলের কদর ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ফুলের এই চাহিদাকে পুঁজি করে দেশ-বিদেশে হচ্ছে বড় অঙ্কের বাণিজ্য। বাংলাদেশের কৃষি খাতেও সম্ভাবনাময় অর্থকরী পণ্য হিসেবে উঠে এসেছে ফুলের নাম। বর্তমানে দেশেই প্রতিবছর ১২শ’ কোটি টাকার ফুলের বাণিজ্য হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনদিনের জন্য আন্তর্জাতিক ফুল উৎসব ও প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। দেশে এত বড় আয়োজনে ফুল প্রদর্শনী এই প্রথম। চলবে আগামী শনিবার বিকেল পর্যন্ত। ফুল প্রদর্শনীর এই উৎসবে ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের ১২ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আরও ৫৮ প্রতিষ্ঠান স্টলে তাদের ফুলের প্রদর্শন করছে। গোলাপ, অর্কিড, চামেলী ও রজনীগন্ধাসহ নাম নাজানা অসংখ্য দেশী-বিদেশী ফুলের দেখা মিলছে প্রদর্শনীতে। ফুলের উৎসব বলে কথা! তাই প্রদর্শনী উদ্বোধনীর পরই শত শত মানুষ ফুল দেখতে ঢুকে পড়ে উৎসব প্রাঙ্গণে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণীরা খোঁপায় গুঁজে দিচ্ছে তাদের প্রিয় ফুল। ভিড় বাড়তে থাকায় প্রথম দিনেই উৎসবে রূপ নিয়েছে ফুল প্রদর্শনী।

ইউএসএআইডির সহায়তায় ও বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ফুল উৎসব ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। মূলত ফুলের রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ খাতে নীতিগত সহায়তা প্রদানের জন্য এই প্রদর্শনী ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এর আগে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুর রউফ বিশেষ অতিথি হিসেবে ফুলের বাণিজ্য নিয়ে তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।

বিডা চেয়ার‌্যমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদী নীতি-সহায়তা দেয়ার ফলে বর্তমানে সারাবিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে যেতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক তেমনি ফুল চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগোনোর জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী নীতি-সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। কারণ ফুল কৃষিভিত্তিক একটি অতি সম্ভাবনাময় খাত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল বিদেশে রফতানির জন্য প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, হিমাগার স্থাপন, ফুলের নতুন নতুন জাত উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপের জন্য এ খাতের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ফুল খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার গ্রোয়ার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। যারা ফুল খাতে নীতি-সহায়তা প্রাপ্তিতে সরকার ও স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।

আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪ দশমিক ৩২ ভাগ এবং মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০.৬ শতাংশ কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক একটি পণ্য হিসেবে ফুলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য মতে, সারা পৃথিবীতে ফুলের বাজার প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে সার্বিক ফুলের বাজারমূল্য প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা। তাই সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এর সঙ্গে জড়িত কৃষক ও উদ্যোক্তাদের স্বল্প হারে ঋণ সুবিধা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাপ্তি ও ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত ও নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ করা, ওয়্যারহাউস ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং সর্বোপরি অবকাঠামো উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি জরুরী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় হিমাগারের অভাবে দেশের কৃষি খাতে উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে না।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুর রউফ বলেন, ফুল একটি উচ্চ মূল্যমানের কৃষিপণ্য এবং বাংলাদেশে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ২০ জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। ফুল খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি সরকারী-বেসরকারী যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, বাংলাদেশ ফুল খাতের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ফুলের জন্য স্থায়ী পাইকারি বাজার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচিত সংবাদ