১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ন্যায়বিচার পেলে খালেদাও প্রার্থিতা ফিরে পাবেন

  • ফখরুলের আশাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ন্যায়বিচার পেলে খালেদা জিয়াও প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থীর আপীলে ন্যায়বিচার পাওয়াকে বিজয় হিসেবে দেখছে বিএনপি। এর আগে দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে ঐক্যফ্রন্ট। তবে রাতে জানানো হয় জনসভাটি স্থগিত করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, যাচাই-বাছাইকালে বিএনপির অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আপীলে ন্যায়বিচার করায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করার জন্য প্রশাসন যুক্ত হচ্ছে। আর বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে।

বিএনপি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি উনার বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ উনি নিজের দলের চেয়ে বিএনপি নিয়ে বেশি কথা বলেন। তিনি তো বলেছিলেন আমরা প্রার্থী পাব না। কিন্তু আমরা তো সারাদেশে ৮০০ প্রার্থী দিয়েছি।

১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে ঐক্যফ্রন্ট-রিজভী ॥ ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওইদিন বেলা ২টায় এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান। তবে রাতে জানানো হয় জনসভাটি স্থগিত করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, আইন ও ন্যায়বিচারের তোয়াক্কা না করে সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। আর আওয়ামী লীগ কষছে নির্বাচনে কারচুপির ফন্দি। তারা জানেন, অন্যায় পথে নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া জনসমর্থন শূন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনে বিজয়ের অন্য কোন উপায় নেই। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আবার ক্ষমতায় যেতে চায় আওয়ামী লীগ।

রিজভী অভিযোগ করেন দেশব্যাপী গ্রেফতারের মহোৎসব চলছে। নির্বাচন সামনে রেখে ৭ দিনে বিএনপির ২৭ প্রার্থীসহ দুই সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপিয়ে দেয়া শত শত মামলার বোঝায় নির্বাচনের মাঠ দূরে থাক, নিজের ঘরে পর্যন্ত থাকতে পারছে না ধানের শীষের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। নামে- বেনামে এবং গায়েবি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বন্দিত্বের লাল দেয়ালের ভেতরে ঘিরে রাখা হয়েছে।

রিজভী বলেন, মামলা আর পুলিশী হয়রানির কারণে নেতাকর্মীরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপরও ক্ষান্ত হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিবারের অন্য সদস্যদের হয়রানি করছে। পুলিশি হেনস্তার ভয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ভয়ে প্রচার চালাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

রিজভী বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আইন মন্ত্রণালয়ে জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। সেখানে আইন সচিব নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচনের পূর্বে তারা যেন বিএনপির কাউকে জামিন না দেন। এ পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বদলে আসন্ন নির্বাচন আবর্জনাময় হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ