১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিমানবহরে হংসবলাকা

যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অর্জন উন্নয়নের গতিধারাকে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। সড়ক, রেল, নৌ এবং আকাশপথ যেখানেই হোক কেন সর্বত্র এর সুফল সুষ্ঠুভাবে দৃশ্যমান। বাংলাদেশ বিমান তার সময়োপযোগী ভূমিকায় পরিবহনের এই খাতটিকে নতুন নতুন কর্মযোগে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। তেমনি এক বিমানযাত্রায় দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার হংসবলাকা পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান যাত্রীসেবাকে আরও যুগান্তকারী করার নির্দেশনা দিয়ে এর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সেই লক্ষ্যে বিমান এভিয়েশনকে গতিশীল ও মানসম্মত পর্যায়ে নিতে আরও কিছু বিষয়কে আমলে নেয়া অত্যন্ত জরুরী। যেমন বিমানকে যদি উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলাতে হয় সেখানে কার্গো ফ্লাইট চালু করাও বিশেষ প্রয়োজন। এছাড়াও অতি অল্প সময়ে নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর ওপর সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। যাত্রীসেবার মানও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যথার্থ পরিচর্যা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সার্ভিসের মান বাড়ানো বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিমান ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তার যথার্থ মর্যাদায় নিতে গেলে একটি উন্নতমানের কর্মপরিকল্পনাকে তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেইÑ এমন অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ‘ড্রিমলাইনার হংসবলাকা’ উড়োযানটি ঘুরে-ফিরে বিভিন্নভাবে দেখতে থাকেন। শুধু তাই নয়, সদ্য সংগৃহীত এই বোয়িং ড্রিমলাইনারের ককপিটেও বসে বিমানটি আরও সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নতুন এই ড্রিমলাইনারটির ‘হংসবলাকা’ নামও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া। হংসবলাকার ককপিটে বসে তিনি আকাশে উড়ে যাওয়ার কায়দায় স্টিয়ারিং-এ হাত রাখেন। বিমানের আরও দুটি ড্রিমলাইনার আসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় খোঁজ-খবরও নেন। নিউইয়র্ক ফ্লাইটের সম্ভাবনা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে অবহিত করেন। নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেই সব দায় শেষ হয়ে যায় না। পরবর্তীতে আরও জোরালোভাবে প্রয়োজন পড়ে নির্দিষ্ট বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ। এক্ষেত্রে সামান্যতম গাফিলতি যাত্রীসেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং এসব বিষয়ের ওপর সব সময় সচেতন এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান কর্তৃপক্ষও প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। নতুন এয়ারক্রাফটগুলোকেও বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণে তার সঠিক মানকে অক্ষুণœ রেখে যাত্রীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে তারা উদ্যোগী বলেও প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিউইয়র্ক এবং কার্গো ফ্লাইট চালু করতে প্রয়োজনীয় কর্মতৎপরতাও অব্যাহত থাকবে। তবে নিউইয়র্ক ফ্লাইটির কার্যক্রম নির্ভর করবে সিভিল এভিয়েশনের ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়ার ওপরে। আর কার্গো ফ্লাইটটি বিমান কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হওয়ায় যথাসম্ভব অতি দ্রুত তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উন্নয়নের প্রতিটি খাতকে যেভাবে অবারিত করেছেন বাংলাদেশ বিমান পরিবহন ব্যবস্থায়ও সে মাত্রাকে গতিশীল করে অগ্রযাত্রার পথপরিক্রমাকে এগিয়ে দিতে চান। কার্গো বিমান, ড্রিমলাইনার এবং নিউইয়র্ক ফ্লাইট সে সব ব্যবস্থার নবসংযোজন। সুদূরপ্রসারী প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যে নতুন কর্মযোগ সূচিত হচ্ছে সেটাই পরবর্তীতে পুরো দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যেতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ বিমান ব্যবস্থাপনাও সেই মাত্রায় তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যাবে এই আশা যেমন প্রধানমন্ত্রীর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, একইভাবে দেশের সাধারণ মানুষেরও।