১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দ্বৈত মনোনয়নের ১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

  • শরিকরা পেল ১৬ আসন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দ্বৈত মনোনয়নের ১৭টি আসনের যারা নৌকা প্রতীক নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে লড়বেন, তাদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া কেন্দ্রীয় ১৪ দলের প্রার্থীদেরও মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা নৌকা প্রতীক নিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে মহাজোটের আসন চূড়ান্ত করা হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। আজ শনিবার নির্বাচন কমিশনে তালিকা জমা দেয়ার সময় তা প্রকাশ করা হবে।

শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৭ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি চূড়ান্ত মনোনয়নের

চিঠি শরিক দলগুলোর হাতে তুলে দেন। তিনি জানান, নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টিকে ৪০ থেকে ৪২, ওয়ার্কার্স পার্টিকে পাঁচটি, জাসদকে (ইনু) তিনটি, জাসদ (আম্বিয়া) একটি, তরিকত ফেডারেশনকে দুটি, যুক্তফ্রন্টকে (বিকল্পধারা) তিনটি ও জাতীয় পার্টি (জেপি) দুইটি আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬০ হবে। বাকি ২৬০টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ।

ব্রিফিংকালে ওবায়দুল কাদের জানান, কারা মনোনয়ন পেলেন এ তালিকা আগামীকাল (শনিবার) নির্বাচন কমিশনে জমা দেব। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দলের সংসদীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত মনোনয়নের তালিকা ইসিতে জমা দেয়া হবে। তখন মহাজোটের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, মহাজোটের শরিকদের ৫৫ থেকে ৬০টি আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে দু’একটি আসনে এদিক-সেদিক হতে পারে। যা ইসিতে মনোনয়নের তালিকা জমা দেয়ার আগে চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহজোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের যেসব আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ছাড়া অন্যরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে ১৭টি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল সে আসনগুলোতে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বিকল্পধারা চাইলে কুলা মার্কায় নির্বাচন করবে, জাসদ মশাল মার্কা, তরিকত ফুলের মালা মার্কায় তাদের প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে। তবে আমরা যাদের নৌকা প্রতীক দিয়েছি তাদের চূড়ান্ত তালিকা এটাই। আমরা দফায় দফায় আলাপ-আলোচনা করে দলের এবং জোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তার সঙ্গে কথা বলে জানাবো তার আসলে কী সমস্যা। আমাদের শরিকদের মাঝে মান-অভিমান হবে, আবার একসঙ্গে নির্বাচন করব।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব) এম এ মান্নান, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আকতারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৭টি আসনে একক প্রার্থী হলেন যারা ॥ দ্বৈত মনোনয়নের ১৭টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যেখানে কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। রংপুর-৬ আসনে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি বৃহস্পতিবার রাতেই তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নিতে শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিন চৌধুরী দু’জনের মনোনয়নপত্রই দাখিল করা হয়েছিল রংপুরের এই আসনে।

এছাড়া চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলের মনোনীত অপর প্রার্থী ছিলেন গোলাম রহমান। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান পরিবহন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল চূড়ান্ত চিঠি পেয়েছেন। যেখানে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন গোলাম ফারুখ পিংকু। পটুয়াখালী-৩ আসনে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখানে খোন্দকার শামসুল হক রেজাকেও দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

এছাড়া চাঁদপুর-৪ আসনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান পেয়েছেন চূড়ান্ত চিঠি, যেখানে মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়াকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। টাঙ্গাইল-২ আসনে তানভীর হাসান ছোট মনির চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মসিউজ্জামান রোমেল। নড়াইল-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক নৌকার চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে আরেক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ১৪ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাসদের শরিফ নুরুল আম্বিয়া।

এছাড়া নওগাঁ-৫ আসনে প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের পুত্র নিজাম উদ্দিন জলিল জন, নাটোর-১ আসনে মোঃ শহিদুল ইসলাম বকুল, বরগুনা-১ আসনে এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া জামালপুর-১ আবুল কালাম আজাদ, জামালপুর-৫ আসনে মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন চূড়ান্ত চিঠি পেয়েছেন। এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা। ঢাকা-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা-৭ হাজী সেলিম, ঢাকা-১৭ আসনে খ্যাতনামা চলচ্চিত্র অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক (নায়ক ফারুক) এবং চাঁদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মোঃ নুরুল আমিন খান রুহুল। আইনগত জটিলতা থাকায় এ আসন থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন ত্রাণমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।

১৪ দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হলেন যারা ॥ এদিকে মহাজোটের শরিকদলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে যারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন তাদের হাতেও চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাসদের (আম্বিয়া) মইন উদ্দীন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮), জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (পিরোজপুর-২), রুহুল আমিন (কুড়িগ্রাম-৪), তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী (চট্টগ্রাম-২), আনোয়ার হোসেন খান (লক্ষ্মীপুর-১), যুক্তফ্রন্টের এফ এম শাহীন (মৌলভীবাজার-২), মেজর (অব) এম এ মান্নান (লক্ষ্মীপুর-৪) এবং মাহী বি চৌধুরী (মুন্সীগঞ্জ-১) আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য চিঠি পেয়েছেন।

এছাড়াও ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ (ইনু)’র নৌকা মার্কায় নির্বাচনের মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন শিরীন আখতার (ফেনী-১), রেজাউল করিম তানসেন (বগুড়া-৪) ও হাসানুল হক ইনু (কুষ্টিয়া-২), অপর শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন (ঢাকা-৮), ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২), মোঃ ইয়াসিন আলী (ঠাকুরগাঁও-৩), শেখ টিপু সুলতান (বরিশাল-৩) ও মোস্তফা লুৎফুল্লাহ (সাতক্ষীরা-১) আসন থেকে নির্বাচন করার চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় নির্বাচনের মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির এমপি ছিল ৩৪ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি) দু’জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ৬ জন, জাসদের ৫ জন ও তরিকত ফেডারেশনের ২ জন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী বেড়েছে, কমেছে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের।