১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গায়ে মুজিব কোট, হাতে ধানের শীষ

রশিদ মামুন ॥ রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কোন কালে ছিলও না। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সেই চিরন্তন সত্যর সামনে প্রতিদিনই আমাদের দাঁড়াতে হচ্ছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরী নৌকায় চড়ে বসেছেন। অন্যদিকে বাবার খুনীদের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছেন শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তবে কারও কারও মন ভাঙ্গছে তো বটেই। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর যে গুটিকয়েক মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ছিলেন তাদেরই একজন। এখন সুলতান মনসুরের গায়ে মুজিব কোট, হাতে ধানের শীষ। কেউ কেউ প্রতিবাদও করছেন। তাদের একজন আ.ব.ম মোস্তাফা আমীন। তিনি ড. কামালের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠজন। তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মূল উদ্যোক্তা। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের এই পথ চলা মানতে পারেনি তিনি। প্রতিবাদ করে ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে এসেছেন।

নিজের দলের প্রতীক কুলা বাদ দিয়ে নৌকা নিয়ে এবার নির্বাচনে লড়ছেন মাহী বি চৌধুরী। মাহীর বাবা বি চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের দুই নির্বাচন এবং ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। মাহীর দাদা কফিলউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন। রেজা কিবরিয়ার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি একই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকা-ের পর যে চার্জশীট দেয়া হয় তাতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়াসহ যারা আসামি তারা সকলেই বিএনপি আর জঙ্গী নেতা। এখন এই মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৫।

বাবার খুনের বিচার না হওয়ায় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন কিবরিয়া পুত্র। কিন্তু বাবার খুনীদের দলে গিয়ে চাইছেন বাবা হত্যার বিচার পাবেন রেজা কিবরিয়া।

সুলতান মনসুর ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেও মুজিব কোট খুলতে পারেনি। মুখে ধানের শীষ আর গায়ে মুজিব কোট। ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা বিব্রত হতেই পারে। একই অবস্থা তো ড. কামাল, আ স ম আব্দুর রব, মস্তফা মহসিন মন্টুসহ আওয়ামী লীগ ত্যাগী নেতাদের তাদের সবার অভিযোগ আওয়ামী লীগ এখন আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নেই। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কারা জামায়াত। বিএনপি তো জামায়াতকে ছাড়তে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের সরাসারি বিরোধী নয় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী পাকিস্তানপন্থী এই দলকে সঙ্গে নিয়ে বাঘা বাঘা এসব নেতা কি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন করবেন!

মুখে এক- মনে ভিন্নতা। এই অবস্থা সকলে মেনে নেন না। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নীতিহীন আঁতাত ও আদর্শচ্যুতির প্রতিবাদে জোট থেকে বেরিয়ে গেছেন ড. কামাল একান্ত ঘনিষ্ঠ আ. ব. ম মোস্তাফা আমীন। তিনি বলছেন, বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে জামায়াত চলতে পারলেও আদর্শগত কারণে আমরা একই যাত্রায় শামিল হতে পারি না। এখন দেখার পালা ড. কামাল কতদিন জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে কতদিন চলতে পারেন?