১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রুহুল কবির রিজভীর আবিষ্কার!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির জন্য পুলিশের ১২ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রিজভী বলেন, নির্ধারিত ব্যালটের বাইরে অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানো হবে, যা থানায় ভোটের আগে সংরক্ষণ করে রাখা হবে এবং প্রয়োজন মতো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হবে। প্রস্তুত করে রাখা নকল সিল প্যাড প্রিজাইডিং অফিসারদের সরবরাহ করবে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনে মূল সিল প্যাড এবং স্বাক্ষর থাকবে আর বিএনপির পোলিং এজেন্টদের নকল সিলপ্যাড ও স্বাক্ষরে মূল ফলাফল সম্বলিত শিট সরবরাহ করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসারদের মূল স্বাক্ষরে ফলাফল শিটে ভোট গণনা পরিবর্তন করে রিটার্নিং অফিসারকে পাঠানোর নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

রিজভী বলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইলেকশন ওয়ার্কিং ফোরাম নামে ইসির নিবন্ধিত ২০ সংস্থার ব্যানারে একটি মোর্চা গঠন করেছে। এই মোর্চার অধীন ২০ হাজার দেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করছে, যারা নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে থাকবে। এই বিষয়গুলো সমন্বয় করছে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ মনাদের নিয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাচন পর্যবেক্ষক সমন্বয় উপ-কমিটি।

রিজভী বলেন, আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাৎ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে তাদের ভূমিকা ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম নিয়মিত তাদের সঙ্গে ফোনে নির্বাচনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে থাকেন। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব তাদের মধ্যে সিনিয়র একজনকে দেয়া হয়েছে। এই কমিশনারের মাধ্যমে ইসিকে এইচ টি ইমাম সব ধরনের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সিইসি’র কাছে বার্তা বাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেল স্থাপন করা হয়েছে। ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সেলের কাছে থেকে পরামর্শ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থী না করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা ছিল। নির্বাচন কমিশনও আপীলে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা না করার ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারককে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা সেলের আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সারাদেশে দুই লাখ পোলিং এজেন্টকে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। নিয়ন্ত্রিত ভোট করার বিষয়ে তাদের ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের কৌশল শেখানো হচ্ছে।