১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘টেকসই জীববৈচিত্র্যের জন্য চাই প্রাণীদের আবাস সংরক্ষণ’

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মানবসৃষ্ট কারণেই জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখনই এ সম্পর্কে আমাদের নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন না হলে অদূর ভবিষ্যতে মানব অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। পৃথিবীতে বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টিকিয়ে রাখতে হবে।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির আয়োজনে ‘টেকসই জীববৈচিত্র্যের জন্য প্রাণীদের আবাস সংরক্ষণ’ শীর্ষক ২১তম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সেলিনা খাতুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিমাই চন্দ্র সাহা, ঢাবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হুমায়ুন রেজা খান, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি গুলশান আরা লতিফা প্রমুখ।

ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন পরিবেশগত হুমকির মোকাবেলা করছে, যার জন্য দেশটি দায়ী নয়। বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যে সব নদী প্রবাহিত হয়েছে, সেগুলোর পানিও সুষম মাত্রায় প্রবাহিত না হওয়ায় তা জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এটি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সমঝোতার পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব পরিধি থেকে সচেনতা বাড়াতে হবে। কেননা বর্তমান মাত্রায় পরিবেশ দূষণ চলতে থাকলে পৃথিবীতে মানব অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হলেও অতিরিক্ত জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক উৎসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, পরিবেশ দূষণসহ নানা মানবসৃষ্ট কারণে তা হুমকির মুখে পড়েছে। পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ টিকিয়ে রাখতে হবে। এজন্য প্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা আবশ্যক।

পরে ‘টেকসই জীববৈচিত্র্যের জন্য প্রাণীদের আবাস সংরক্ষণ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট প্রাণিবিজ্ঞানীরা অংশ নেন। এর আগে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত ‘প্রাণিবিদ্যা অলিম্পিয়াডে’র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।