১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশিষ্টজনের স্মরণীয় উক্তি, বীর বাঙালীর দেশপ্রেম...

বিশিষ্টজনের স্মরণীয় উক্তি,  বীর বাঙালীর দেশপ্রেম...
  • বরেণ্য বাঙালী

মাকসুদ আহমদ ॥ আমরা বীর বাঙালী-এই গর্বটুকু করতে পারি শুধু জাতির পিতার অগাধ দেশপ্রেমের কারণে। আর আমরা বাংলাদেশী তাও বলতে পারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণেই। বঙ্গবন্ধুই হানাদার পাকিদের বিরুদ্ধে বাঙালী জাতিকে জাগ্রত করতে কারাগারের প্রকোষ্ঠে থেকেও হুঙ্কার দিয়েছিলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে “....এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”- বাংলার মুক্তিপাগল মানুষকে পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়েই সাড়ে সাত কোটি বাঙালী এবং তাদের বীরসন্তান মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। ফলে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা। পেয়েছি লাখো শহীদের রক্তে মাখা লাল সবুজের জাতীয় পতাকা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখানে ‘বরেণ্য বাঙালী’ স্মরণে সড়কের দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ প্রাতঃস্মরণীয় কবি-সাহিত্যিক আর বীর- বিদ্রোহীদের প্রতিকৃতি। সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় তৃতীয় প্রজন্মকে বাঙালী চেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং বিকশিত করতে ব্যতিক্রমী এই কর্মকা-ের সূচনা হয়েছে।

উদ্যোগের শুরুতেই স্মরণ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, স্মরণ করা হয়েছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। এছাড়া, জাতীয় (বিদ্রোহী) কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ বায়ান্নর বীর ভাষাসৈনিক এবং বাংলার প্রথিতযশা কবি-সাহিত্যিকদের; যারা আমাদের স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে অসংখ্য গান-কবিতা-নাটক আর ইতিহাস লিখে বাঙালী জাতিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তাদের। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।

বিশিষ্টজনদের উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে বাঙালীর দেশপ্রেম। এর মধ্যে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই উক্তি যেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন নিজের স্বাধীনতা অর্জনের মূলমন্ত্র। বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতির উদ্দেশে বলেছেন-“এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে যেদিন বাংলার কৃষক, মজুর ও দুঃখী মানুষের দঃখের অবসান হবে।” বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলের উদ্দেশে বলেছেন-“মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন”। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন “বল বীর-বল উন্নত মম শির! শির নেহারী আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর”। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন “যে দেশে গুণের সমাদর নেই সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।” এই বাংলাকে নিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন “বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।” মাইকেল মধুসূদন দত্ত বলেছেন- জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে? চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন নদে?”। ফকির লালনশাহ বলেছেন “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পা’য়।”

মাস্টারদা সূর্যসেন বলেছেন “বিপ্লবের ঢেউ যা সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সীমাবদ্ধ পরিসরে তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে।” দেশের প্রতি প্রেম বোঝাতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারী বীর বাঙালী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বলেছেন “আমার পরিবারের জন্য আমার গভীর টান রয়েছে। কিন্তু যখন দেশের ডাক আসে তবে সেটাই আমার কাছে প্রাধান্য পাবে।” মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন “কোন কিছু গড়তে গেলে অবশ্যই ভাঙ্গতে হয়। স্বাধীনতা দীর্ঘ মেয়াদী সমঝোতার মধ্য দিয়ে অর্জিত হতে পারে না।” শেরে বাংলা একে ফজলুল হক বলেছেন “জাতির স্বার্থই হবে ব্যক্তির স্বার্থ, জাতির কল্যাণই হবে ব্যক্তির কল্যাণ।” হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেছেন “একজন নির্লোভ রাজনৈতিক ব্যক্তি তিনি, যিনি ভিক্ষুকবেশে রাজকীয় মৃত্যুবরণ করেন।” ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগর বলেছেন “কোন বিষয়ে প্রস্তাব করা সহজ, কিন্তু নির্বাহ করে ওঠা কঠিন।” অতীশ দীপঙ্করের মতে “আমার শারীরিক এবং মৌখিক কর্মকান্ডের সামগ্রিক পরিশুদ্ধতা দিয়ে আমি আমার অন্তরের কর্মকা-গুলো বিশুদ্ধ করব।” শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বলেছেন “আপন শিল্প সৃষ্টির চেয়ে, আমাকে বেশি আনন্দ দেয় যখন দেখি সমাজে শিল্পের পরিচর্যা হচ্ছে।” পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বলেছেন “তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়।” বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন “আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরূপে।” সুফিয়া কামাল বলেছেন “জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে মরি যেন এই দেশে।” কবি শামসুর রাহমান বলেছেন “আমি ধর্মের বিরুদ্ধে নই কিন্তু ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে।”