১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌন্দর্য ও বাণিজ্য

ফুল হলো সৌন্দর্যের প্রতীক। আবার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য ফুলের ব্যবহার সর্বজনবিদিত। দেশে ব্যাপকহারে ফুলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এটির বাণিজ্যও হয়ে উঠেছে রমরমা। ফুলের সঙ্গে মানুষের এক ধরনের সম্পর্ক রয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। এ ধরনের সম্পর্ক বিচিত্র রকমের হয়ে থাকে। বিশেষ করে ফুলবাগান করা মানুষের শখের মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া ফুলবাগান করে ফুল বিক্রির মাধ্যমে মানুষ অনেকটা স্বাবলম্বীও হচ্ছে। আজকাল শহরে ফ্ল্যাটের ছাদে টবে ফুলগাছ লাগাচ্ছে। তাছাড়া বাসার বারান্দায়ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য টবে ফুলগাছ লাগানো হচ্ছে। এতে বারান্দার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফুলকে ভালবাসেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। ঢাকায় পুষ্পমেলার আয়োজন সফল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো তিনদিনের আন্তর্জাতিক ফুল উৎসব ও প্রদর্শনী। দেশে এত বড় আয়োজনে ফুল প্রদর্শনী এই প্রথম। এই উৎসবে ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের ১২ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৫৮ প্রতিষ্ঠান স্টলে তাদের ফুলের প্রদর্শন করেছে। গোলাপ, অর্কিড, চামেলী ও রজনীগন্ধাসহ নাম না জানা অসংখ্য দেশী-বিদেশী ফুলের দেখা মিলছে প্রদর্শনীতে। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী দিনেই উৎসবের রূপ নেয় এই ফুল প্রদর্শনী।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে মাত্র ৩০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয়। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার হেক্টরে। পাশাপাশি হাজার টাকার ফুলের বাজার উন্নীত হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষের। বাংলাদেশ ফুল বিশ্ববাজারে ভারত ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও এখানে সরকারী-বেসরকারী বড় ধরনের কোন বিনিয়োগ নেই। উদ্যোগ নেই ফুল সংরক্ষণ, বাজারজাত কিংবা গুণমান বৃদ্ধির। তাই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগের পাশাপাশি ফুলবিষয়ক গবেষণা ও নীতিমালা প্রয়োজন, সেকথা বলাই বাহুল্য।

শিশু শ্রেণীতে পড়ানো হয়Ñ ‘জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি, দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী।’ হাদিসের আলোকে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের আহ্বানে সাড়া দেয়ার মানুষ দেশে ক্রমশ বাড়ছে। দেহ-মনে ভাল থাকতে ফুলের গুরুত্ব অনেক। শুধু বিভিন্ন জাতীয় উৎসব নয়, আজকাল বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এবং নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচীতেও ফুলের চাহিদা বাড়ছে। দেশে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বিকাশের কারণেও ফুল বাণিজ্য দিন দিন ফুলেফেঁপে উঠছে। নাগরিক জীবনে ফুলের চাহিদা মেটাতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে গড়ে উঠছে পুষ্পবিপণি। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হলে ব্যাংক ঋণের সুবিধাও থাকা প্রয়োজন। ফুল সতেজ ও তরতাজা রাখার জন্য দরকার হিমাগার স্থাপন। তাছাড়া ফুল উৎপাদন, বাজারজাত ও রফতানি নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক। বীজ উৎপাদনে দরকার প্রযুক্তি গবেষণা ও টিস্যুকালচার ল্যাব স্থাপন। অন্যদিকে ফুলচাষীরা ফুল রফতানির ক্ষেত্রে বিমানের ভাড়া কমানোসহ কার্গো নিশ্চিত ও কোল্ড ভেসেলের ব্যবস্থার পক্ষপাতী। তারা ঢাকা শহরে প্যাকেজিং ও গ্রেডিংয়ের জন্য মার্কেট সংলগ্ন শেল্টার তৈরিরও দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া ফুল চাষের উপযোগী। মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে ফুলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের দেশে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফুল চাষের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রত্যাশিত।