২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

নিক্কাই ইন্টারন্যাশনালের সংবাদপত্র নিক্কাই এশিয়ান রিভিউয়ের সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এক সাক্ষাতকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি জোরদার হয়ে ১০ শতাংশে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের চলমান দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং তার ফলে বাড়বে প্রবৃদ্ধি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এক দশকের শাসনামলে অর্থনীতির ধারাবাহিক বিকাশে জাতীয় প্রবৃদ্ধি উন্নীত হয় ছয় থেকে সাত শতাংশে। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে। চলতি অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.২৫ শতাংশ এবং তা বাড়বে অব্যাহতভাবে। সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী সবিশেষ জোর দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচিত হই তাহলে অর্থনৈতিক উন্নতিতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি তাতে ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১০ শতাংশে। ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশের’ তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে। এর সপক্ষে প্রধানমন্ত্রী কতিপয় জোরালো যুক্তিও তুলে ধরেন। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বর্তমান সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। এর মধ্যে ১১টি চালু হয়েছে, ৭৯টি প্রক্রিয়াধীন। মাত্র সাত দিনে এসব জোনে বিদ্যুত দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বিদ্যুতের সমস্যাও নেই বললেই চলে। সর্বোপরি রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতায় রূপপুরে নির্মাণাধীন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ পাওয়া যাবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত। দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে জায়গা খোঁজা হচ্ছে, যেটির দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী বছর। অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও অনুন্নত এলাকায় এটি নির্মাণ করা হবে। আগামীতে একটি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। ১০ শতাংশ জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আগামীতে বাজেটের আকারও অনেক বড় করার পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরে জাতীয় বাজেট ছাড়িয়ে যেতে পারে ৪ লাখ ষাট হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫১ মার্কিন ডলার, টাকার অঙ্কে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। দেশে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৮ ভাগে। হতদরিদ্র মানুষের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩ ভাগে। উল্লেখ্য, অর্থবছরের শুরুতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। পরিকল্পনামন্ত্রীর মতে, যেভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে। তার আগে বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি আটকে ছিল ৬ শতাংশের কম-বেশি বৃত্তে। সে অবস্থায় জাতীয় প্রবৃদ্ধি অতিক্রম করেছে ৭-এর ঘর। অবশ্য এর কারণও আছে। এর মধ্যে বেড়েছে রফতানি আয় ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ প্রেরণের পরিমাণ। কৃষি খাত তো বরাবরই সাবলীল ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখে চলেছে। সর্বোপরি বেড়েছে বিনিয়োগ। জাতীয় আয়ের হিসাবে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের অর্থনীতি ছিল প্রায় ভগ্নদশাপ্রাপ্ত। মানুষের আয় ছিল সীমিত অথচ দ্রব্যমূল্য ছিল আকাশচুম্বী। সেই অবস্থা থেকে জাতীয় অর্থনীতি ও সমৃদ্ধিকে টেনে তোলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জন্য ছিল রীতিমতো একটি চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সমর্থ হয়েছে। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আশাব্যঞ্জক গতিতে এগিয়ে গেছে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রাক্কলিত জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ অতিক্রম করে ৮ শতাংশ অর্জন করা অসম্ভব কিছু নয়। সরকার অন্তত সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বলেই প্রতীয়মান হয়। সে অবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে অসম্ভব হবে না।