২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশু জবাইখানা

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই এদেশে অনেক পুরনো। এতে যে মাংসে রোগীজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে, সেই উপলব্ধি বা বোধ যেন নেই কারও। ফলে স্বাস্থ্যহানি, রোগশোক রোধ করা সহজ হয় না। পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতি এখনও দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। যেখানে সেখানে পশু জবাই করার প্রবণতা দূর করার জন্য শেখ হাসিনার সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি আইন প্রণয়নও করেছে। পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জন্য মানসম্মত মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ’ আইন চালু করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক পশু জবাইখানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। পুরান ঢাকার হাজারীবাগ ও কাপ্তানবাজারের পুরনো জবাইখানা দুটি ভেঙ্গে নতুন করা হচ্ছে। এতে খরচ হবে প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার দিকটিকে গুরুত্ব দিয়ে এই জবাইখানা করা হচ্ছে। হাজারীবাগ পশু জবাইখানা হবে সবচেয়ে বড়। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের গোড়ায় শুরু হওয়া নির্মাণ কাজের অর্ধেক হয়েছে।

২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। সিটি কর্পোরেশন দেরিতে হলেও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। এ জবাইখানা ভবনের নিচ তলায় প্রথমে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। তৃতীয় তলায় পশুগুলো নির্দিষ্ট সময় সারিবদ্ধ করে রাখা হবে। পরে দ্বিতীয় তলায় পশুগুলোকে জবাইয়ের আধুনিক পদ্ধতি ‘ক্লিং বক্সে’ ঢুকিয়ে জবাই করা হবে। চামড়া ছাড়ানো বা ডি-স্কিনিং পোস্টে’ চামড়া আলাদা করে যন্ত্রের সাহায্যেই পশুর মাংস আলাদা করা হবে। মাংস ঠান্ডা করতে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। এ ছাড়া বর্জ্য ও রক্ত সংগ্রহ এবং ব্যবস্থাপনা, চামড়া, শিং, হাড় সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার পৃথক ব্যবস্থা থাকছে। এর বাইরে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করার জন্য আলাদা প্লান্ট থাকছে। চতুর্থ তলায় কর্মচারীদের দফতরসহ আনুষঙ্গিক কক্ষ থাকবে।

দ্বিতীয় জবাইখানা হতে যাচ্ছে কাপ্তানবাজারে। দ্বিতল এই ভবন নির্মাণে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চলতি বছরের গোড়ায় দরপত্র চূড়ান্ত হলেও কাজ শুরু হয়েছে গত আগস্টে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ কারখানার কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ দেখানো হচ্ছে, নতুন জবাইখানা নির্মাণের আগে পুরনো এক তলা জবাইখানা ভাঙতে হচ্ছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী নয়া জবাইখানা নির্মাণের জন্য মুরগিপট্টির একাংশ জায়গাও নিতে হয়েছে।

গবাদিপশু জবাইয়ের জন্য শুধু রাজধানীতেই জবাইখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু বিভাগীয় শহর বা অন্য সিটি কর্পোরেশনগুলোতেও তা করা উচিত। জবাইখানাগুলো আধুনিকায়ন করা হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন কমে যাবে, তেমনি রোগজীবাণুর বিস্তার হ্রাস পাবে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া না হলে সারাদেশের জবাইখানাগুলো থেকে রোগের বিস্তার ঘটবে। কোরবানির পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত স্থানে কোরবানি করা হয়, যা কোনভাবেই স্বাস্থ্য ও বিধিসম্মত নয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও দক্ষিণ নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আরও কয়েকটি স্থানে জবাইখানা চালু করতে পারে, যা হবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।