২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌকায় ভোট চাইলেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

নৌকায় ভোট চাইলেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষায় আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশের তরুণ সমাজের প্রথম ভোট মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামীলীগের পক্ষে নৌকায় দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘হ্যাশট্যাগ আই অ্যাম বাংলাদেশ বা আমিই বাংলাদেশ’ প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌকার পক্ষে এভাবেই ভোট প্রার্থনা করা হয়। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে রয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এমসিসিআই, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডিসিসিআই ও পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। শীর্ষ এ্যাপেক্স বডি হিসেবে এফবিসিসিআই থেকে এই উদ্যোগের ফলে দেশের সকল চেম্বার ও এ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ীরা এবার সরাসির নৌকার জন্য ভোট প্রার্থনা করে মাঠে নামবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিককে নৌকার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

এছাড়া উন্নয়নের স্বার্থে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে সব ধরনের সহযোগীতারও আশ্বাস দিয়েছে এফবিসিসিআই। শুধু তাই নয়, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামলেন। এছাড়া হ্যাশট্যাগের মূল উদ্দেশ্য দেশের তরুণ সম্প্রাদায়ের প্রথম ভোট মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জন্য আহ্বান করা। তাদের ভোট উন্নয়নের স্বার্থে হোক, শান্তির পক্ষে হোক।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই চার সংগঠনের পাশাপাশি হ্যাশট্যাগ আই অ্যাম বাংলাদেশ প্রচারণায় যুক্ত আছেন স্থগিত হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এ ছাড়া যুক্ত রয়েছে অপরাজেয় বাংলা নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান, চিত্রনায়ক ফেরদৌস নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বার সভাপতি আবুল কাসেম খান, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক ফরহাদ আনোয়ার, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজাসহ সাংস্কৃতিক, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, চিকিৎসক ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁরা নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং অতিথিরা সেই প্রশ্নের উত্তর দেন।

দেশের জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন সাকিব ॥ অনুষ্ঠানে তরুণ নতুন ভোটারদের কাছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চান ক্রিকেটার সাকিব। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর উন্নয়নের পক্ষে সবাই ভোট দেবেন। আমরা সবাই জানি কোথায় ভোট দেব। অবশ্যই নৌকায় ভোট দেব।

হ্যাশট্যাগের আই এম বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেন, এটি হলো-আমিই বাংলাদেশ। তার মানে আপনাকে সব বিষয় পারদর্শী হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়েই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে যেতে হবে। তাহলে দ্রুত গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। নিজেদের উন্নতি করতে পারলে বাংলাদেশের উন্নতি হবে। তরুণদের উদ্দেশ্য করে বিশ্বসেরা এই ক্রিকেট তারকা বলেন, আমি সিওর আপনাদের সবার স্বপ্ন আছে। তবে এ স্বপ্নটাকে আরও বেশি বড় করা উচিত। সাকিব বলেন, একজন বলেছেন চাকরির কথা। আপনি চাকরি করতে চাচ্ছেন ভালো কথা। কিন্তু আমি সিওর আপনি চেষ্টা করলে এক হাজার মানুষের চাকরি দিতে পারবেন। এভাবে বড় চিন্তা এক হাজার মানুষ করলে এক কোটি মানুষের চাকরি দিতে পারবেন। এটিই হবে অবিশ্বাস্য বিষয়।

তিনি বলেন, আমার কাজ মাঠে খেলা। আমরা যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বিজয়ের মাসে জয় লাভ করেছি। এ ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে সেই চেষ্টা করছি। নৌকার সমর্থক দেশের সব জায়গায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল যখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জয়লাভ করেছি, তখন গ্যালারিতে ৬ থেকে ৭ হাজার দর্শক নৌকা, নৌকা স্লোগান দিয়েছে। আমি সিওর দেশের মানুষ এ কথাই বলবে। নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের এ ধারাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সাকিব আল হাসান।

প্রধান অতিথি হিসেবে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই দিন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যার যার অবস্থান থেকে অনেক কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা ব্যবসায়ী সমাজকে নিয়ে তার প্রতিবাদ করি। যেমন গত ভ্যাট আইন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করেছি। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, ব্যবসায়ীমহলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ভ্যাট আইন স্থগিত করলাম। সে জন্য আমরা ব্যবসায়ীরা গর্বিত হয়েছি। আমরা সেই নেতার পেছনে থাকতে চাই, যিনি মানুষের কথা শোনেন ও মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন বোঝেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সঠিক নেতৃত্ব দরকার। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে খুজলি-পাচড়ার সংক্রমণ আছে। সেগুলো দূর করতে পারে কেবল একটি মাত্র নেতৃত্ব এবং সেটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব। যেমনভাবে সিঙ্গাপুরকে বদলে দিয়েছেন লি কুয়ান ইউ এবং মালয়েশিয়াকে বদলে দিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি আরও বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর আপনার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করবেন, কোন মার্কায় ভোট দিতে হবে? আপনারা অবশ্যই উন্নয়ন ও সত্যের পক্ষে ভোট দেবেন।

তরুণদের উদ্দেশে চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশে যখন বড় বড় কনসার্ট হয়, তখন রাস্তায় টিকিট হাতে তরুণদের লম্বা লাইন দেখি। গত মাসে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফোক ফেস্টে দেখছি, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য লম্বা লাইন। কমপক্ষে এক মাইল তো হবেই। ভোটের দিন সকালে যেন সেই একই দৃশ্য দেখি। ওই দিন সবাই নৌকায় ভোট দিবেন।