২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার্থী নির্যাতন

বিগত এগারো মাসে দেশে ১৭১ শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে এমন একটি হিসাব সম্প্রতি তুলে ধরা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের সূত্রে এমন তথ্য জনসমক্ষে এনেছে। তবে কোন জরিপ না চালিয়েও আমরা সাধারণভাবে বলতে পারি দেশে ওই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্কুলে মানসিক পীড়নের শিকার এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার বিষয়টি সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে এবং এ নিয়ে সমাজে আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতো। প্রত্যেক শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে কিংবা একাডেমিক কাজ ছাড়াও কথা বলার সময় দিতে হবে। শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের সময় দেন তা হলে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ভাল হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকরা শুধু শিক্ষক নন অনেকটা গাইড, ফিলোসফারের মতো। কেননা বাংলাদেশের বাস্তবতায় সব শিক্ষার্থী শিক্ষিত পরিবার থেকে আসে না। তাদের কাছে শিক্ষকরাই হন সবচেয়ে কাছের মানুষ।

অতীতের দিকে ফিরে তাকালে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাব। বিশ, ত্রিশ বা পঞ্চাশ বছর আগেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল গুরু-শিষ্যের মতো। শিষ্য যে ভক্তি নিয়ে শিক্ষককে সমীহ করতেন, শিক্ষকরাও তার মর্যাদাকে ধরে রাখতে নিজেদের সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা করতেন, আদর্শবান হতেন। আধুনিক সময়ে বলা হচ্ছে শিক্ষক হবেন বন্ধুর মতো। কিন্তু তারপরেও শিক্ষক সেই সমীহ করার স্থান কী আগের তুলনায় অনেকটাই হারিয়ে ফেলেননি? যদি হারিয়েই থাকেন তার কারণ কি? উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের কারণে এমনটা ঘটছে। শিক্ষা জ্ঞান আহরণের বিষয় আর নেই। শিক্ষা হয়ে গেছে ভাল চাকরি পাওয়ার সিঁড়ি। আমাদের শিক্ষকরাই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শেখাচ্ছেন। বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে বলেই একই শিক্ষকের ক্লাস করে এসে তার কাছেই প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থী পীড়নের বিষয়টি খুব হাল্কাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের নির্মম আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এসব অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, বাড়িতেও শিশুরা শাসনের নামে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শিক্ষক-অভিভাবক সবাইকেই নির্যাতন করার মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। সরকারী পরিপত্র যথেষ্ট না হলে আইন প্রণয়নের কথা ভাবতে হবে।

শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেশি হলে অধিকাংশ অভিভাবককে প্রতিবাদী ভূমিকায় দেখা যায়। তবে কারও কারও কাছে বিস্ময়কর ঠেকলেও এটাও সত্যের অপর পিঠ যে, আপন সন্তানকে শাস্তি প্রদানের জন্য শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এমন লোক আমাদের সমাজের ভেতরেই বিদ্যমান। বাংলাদেশে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষককে পাঠদান করতে হয় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে। তাদের মাঝে কিছু শিক্ষার্থী খারাপ আচরণ করতেই পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীর এ আচরণ শিক্ষককে বিব্রত করে। তবে শিশুদের ওপর শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন অত্যন্ত নি¤œ রুচির কাজ। অনেক শিক্ষক, মা-বাবা মনে করেন শিশুর ভালর জন্য কিছুটা শাসন জরুরী। কিন্তু শাসনের মাত্রা বেশি হলে তা শিশুদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। শিশুদের কোন আঘাত করা কিংবা চড় দেয়া এক ধরনের নির্যাতন। এটা শিশু অধিকার পরিপন্থী।