২১ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবাধিকারের বিষয় পাঠ্যপুস্তকে সংযুক্ত করা প্রয়োজন

মানবাধিকারের বিষয় পাঠ্যপুস্তকে সংযুক্ত করা প্রয়োজন
  • আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মানবাধিকারের বিষয়ে এখনও মানুষের মধ্যে পূর্ণ সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাই আগামী প্রজন্মকে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করে গড়ে তুলতে পাঠ্যপুস্তকে মানবাধিকারের বিষয়টি সংযুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কোন ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- করা যাবে না বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। মানবাধিকার দিবস ২০১৮ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ইউএনডিপি কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব-দ্বিপাক্ষিক (এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর) মাহবুব উজ জামান, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোটা শ্লাইটার, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেনস্টাইন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্টো, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রফেসর আক্তার হোসেন। এর আগে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দুপুর আড়াইটায় রমনা পার্কের অরুনোদয় গেট থেকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের অংশগ্রহণে একটি র‌্যালি বের হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমেই জন্মই হয়েছিল বাংলাদেশের। ১৯৭২ সালে রচিত স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকারের প্রায় সবগুলোই সংযুক্ত করা হয়েছে। আইনের চোখে সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী পুরুষের সমঅধিকার, সরকারী নিয়োগ লাভে সমতা, আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতাসহ অনেক কিছুই। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত। আর মৌলিক অধিকার আইনীভাবে স্বীকৃত। আর জাতিসংঘ যে মানবাধিকারগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে সেসব আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, যারা মাদকসেবন করে, বিক্রি ও বহন করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সরকার। আমরা বলেছিলাম মাদককে সবাই অপছন্দ করি, না বলি। এটা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কোন ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- করা যাবে না। মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে হবে। কিভাবে চালাতে হবে, বাংলাদেশের সংবিধান কি বলেছে, আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি কি বলেছে, আমাদের পুলিশের অর্ডিনেন্স বেঙ্গল ও পুলিশ এ্যাক্ট রয়েছে। সেখানে পুলিশ কিভাবে পরিচালিত হবে ও ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা কি হবে তা বলা রয়েছে। এসব যদি অনুসরণ করা হয় তাহলে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ হবে। তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার এসব ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে আমরা সুস্পষ্ট গাইডলাইন দিয়েছি। সরকার কিভাবে চললে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কিভাবে ব্যবহার করা হলে, তারা মাদকবিরোধী অভিযানটাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ছাড়াও কিভাবে করতে পারবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি হত্যাকা-ের পরে পুলিশের দ্বারা যেকোন ধরনের ঘটনা ঘটুক না কেন, প্রতিটি হত্যাকা-ে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার তদন্ত করতে হবে। আমরা বলেছি তদন্ত করতে হবে, প্রয়োজনে অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে যেতে হবে। সাক্ষী রাখতে হবে। আলামত কি উদ্ধার করলেন, কেন করলেন, তার কি খুব প্রয়োজন ছিল? তা উল্লেখ করতে হবে।

তিনি বলেন, আইন যতটুকু এ্যালাউ করে তাই শুধু ফলো করতে হবে। উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট অবজারভেশনগুলো ফলো করতে হবে। তাহলে মানবাধিকারের আরও অনেক দূর পথ আমরা এগিয়ে যেতে পারব। বাংলাদেশে যে আমরা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি, এরপরও যতটুকু কালির দাগ লাগছে সেটুকুও থাকবে না বলে আমি মনে করি।

মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, সারাবিশ্বে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেখানে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভাল। এরপরেও দেশী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখতে পাই নিখোঁজ হচ্ছে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- হচ্ছে। যেসব সেনসেশনাল ঘটনা সেসব ক্ষেত্রে আমরা (মানবাধিকার কমিশন) তদন্ত করি। সরকারকে প্রতিবেদনই দেই এবং সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে থাকি। বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে বাংলাদেশ। এই দেশের জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ যুব সমাজ। এই যুব সমাজের একটা বিরাট অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল। যারা কিনা আগামী দিনে বাংলাদেশকে পরিচালনা করবে। আমরা চেষ্টা করছি যেখানে যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে সেখানে ছুটে যেতে। তবে আমাদের জনবল ও আইনী কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যে কারণে চাইলেও আমরা সব জায়গায় যেতে পারছি না।

নির্বাচিত সংবাদ