২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামছে আওয়ামী লীগ

কাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামছে আওয়ামী লীগ
  • বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেই দলীয় সভানেত্রী প্রচার শুরু করবেন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সর্বাত্মক ভোটযুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারে নামছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাপ্নিক স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতের পর নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের পর তার নিজ নির্বাচনী আসন টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়ায় দুটি জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। টুঙ্গিপাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল এবং যশোর হয়ে ঢাকা ফিরতে পারেন। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে নানা চমক আনবে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও শেষ করেছে দলটি। তরুণ ও প্রথম ভোটারদের নৌকার পক্ষে আকৃষ্ট করতে তৈরি করা হয়েছে নানা ভিডিও কনটেন্ট। নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন চমকসহ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রাধান্য দেয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের প্রচার কমিটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কৌশলগত প্রচারের জন্য এবার দেশের সেলিব্রেটিদের মাঠে নামাবে আওয়ামী লীগ। এজন্য বেছে নেয়া হয়েছে দেশবরেণ্য অভিনয়শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী এবং চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের। তারা ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে গিয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন। এছাড়া গত দুই নির্বাচনের মতো একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর আওয়ামী লীগ প্রকাশ করবে আরেকটি চমকের নির্বাচনী ইশতেহার।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করবেন। প্রথমে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর টুঙ্গিপাড়ায় একটি জনসভায় বক্তৃতা করবেন। এই বক্তৃতা শেষ করে দুপুরেই কোটালিপাড়ায় অপর এক জনসভায় বক্তৃতা দেয়ার মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারের পূর্ণাঙ্গ সফরসূচী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কৌশলগত কারণে বেশ কিছু সফরের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় একাধিক বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তবে রুট, পরিবহন ব্যবস্থা, স্থান ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সফরসূচী চূড়ান্ত করা হবে। জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল এবং যশোর হয়ে ঢাকা ফিরতে পারেন। যাওয়া ও আসার একটি হতে পারে সড়ক পথে। তবে জেলাগুলোতে তিনি সফর করবেন সড়ক পথেই।

দলটির একাধিক সূত্রে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচার শেষে ঢাকা ফিরেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেতে পারেন পুণ্যভূমি সিলেটে। সেখানে হযরত শাহজালাল (রা.) এবং হযরত শাহ পরানের (রা.) মাজার জিয়ারতের পর সিলেট বিভাগে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন। সিলেট শহরেই একটি জনসভায় অংশ নিয়ে ওই অঞ্চলের প্রস্তাবিত দুটি রুটের একটি হয়ে তিনি রাজধানীতে ফিরবেন।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রুটের একটি হলো সিলেট থেকে সড়ক পথে সুনামগঞ্জ হয়ে অথবা সড়কপথে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরা। সিলেটে যাওয়ার অথবা ফেরার পথে একবার বিমানে এবং আরেকবার সড়ক পথে যাতায়াত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ময়মনসিংহসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি জেলা এবং রংপুরসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা সফরে যেতে পারেন সরকার প্রধান। সফরে তিনি জনসভার পাশাপাশি সুধিসমাবেশ ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। তবে চূড়ান্ত সফরসূচীতে এগুলোর অনেকটাই পরিবর্তন আসতে পারে।

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন দেশবরেণ্য শিল্পীরা। এরমধ্যে আছেন নাট্য অভিনেতা জাহিদ হাসান, তার স্ত্রী নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ, শমী কায়সার, আফসানা মিমি, তানভিন সুইটি, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ, শাকিল খান, অরুণা বিশ্বাসসহ অনেকে। দলীয় প্রচারের অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তাদের প্রচার কমিটির সদস্যও মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান এমপি ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের গান তৈরি করেছেন দলের প্রচারের জন্য। সেগুলো সিডি আকারে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করা হবে।

আওয়ামী লীগের প্রচার কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কতগুলো ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। ভিডিও কন্টেন্টগুলো শিল্পীরা তাদের ফেসবুকে শেয়ার করবেন। ভিডিও কন্টেন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে। আওয়ামী লীগকে কেন আবার ক্ষমতায় আনা জরুরী সেসব বিষয় দেশবরেণ্য শিল্পীরা নিজ মুখে ভিডিও কন্টেন্টে তুলে ধরবেন।

এছাড়া তরুণ ও নতুন ভোটারদের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতেও কিছু ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। আরও আছে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্পকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, তারিক আনাম খান, চিত্রশিল্পী হাসেম খান, মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী নাসির উদ্দিন ইউসুফের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের ভিডিও বার্তা; যা ধারণ করা হয়েছে শিখা চিরন্তনের সামনে। এটিও নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করবে আওয়ামী লীগ।

প্রচার কমিটি সূত্রে আরও জানা গেছে, কবে, কে, কোথায় এবং কীভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন এবং তা কীভাবে সফল করবে সেই বিষয়েও বৈঠক করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে আওয়ামী লীগের প্রচারপত্র বিলি, ডোর টু ডোর ক্যাম্পেন, পথনাটক, কণ্ঠশিল্পীদের লাইভ গান ও অন্যান্য ইভেন্ট বেইজড প্রচার চালাবেন অভিনয়শিল্পী ও কণ্ঠশিল্পীরা।

সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনী প্রচারে থাকছে ছাপা কাগজে ২০১৩-১৪ সালে নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের ভয়ালচিত্র। সেগুলো বিলি করা হবে সাধারণ মানুষের কাছে। এছাড়া গ্রাফিক্স ব্যবহার করে নানা ধরনের পোস্টার তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে দলের প্রকাশনা কমিটি। এসব পোস্টারে আওয়ামী লীগের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া হবে। এছাড়া গত ১০ বছরে সরকারের করা উন্নয়নের বিষয়ে পকেট সাইজ পুস্তিকাও প্রচার করা হবে সারাদেশে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান সরকার টানা ১০ বছরের যে উন্নয়ন করেছে, তার সঠিক চিত্র গ্রাম পর্যায়ে ভোটারদের নামনে তুলে ধরতে পারলে আগামীতেও দেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে নৌকাকে বেছে নেবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে নিমিষেই পৌঁছে এবং তাদের আকৃষ্ট করতে সেলিব্রিটিদের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত করা হচ্ছে।