২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেশবপুরে হনুমানের খাদ্য সঙ্কট ॥ হানা দিচ্ছে বাসাবাড়িতে

কবির হোসেন, কেশবপুর, ৯ ডিসেম্বর ॥ কেশবপুরের হনুমানের চরম খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সরকারীভাবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিঅল্প পরিমাণ খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন চার পয়েন্টে সরকারীভাবে যে পরিমাণ খাবার দেয়া হচ্ছে তাতে এক পয়েন্টের হনুমানের পেট ভরে না। তারপর ঠিকাদার বরাদ্দের খাবার ঠিকমতো দেয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন হনুমানের খাবারের জন্য ২ হাজার ৬৬ টাকার খাবার বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয় মাত্র ১২শ’ টাকার মতো। আর খাবারের অভাবে হনুমান প্রতিনিয়ত বাসাবাড়ি ও খাবারের দোকানে হানা দিয়ে এবং হাসপাতালের রোগীর খাবার ছিনিয়ে নিয়ে খাচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালায় হনুমান দলছুট হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। প্রয়োজনীয় খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমেই কমে যাচ্ছে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। এক সময় হাজার হাজান হনুমান থাকলেও এখন তা কমে হাতে গোনা ২শ’ ৬০টিতে নেমে এসেছে।

উন্নয়ন, মাথাপিছু আয়সহ সবকিছু বাড়লেও হনুমানের খারারের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। খাবার বাজেট কমে যাওয়ায় এবং তাদের রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ না করায় বিরল প্রজাতির হনুমানদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ক্ষুধার্ত হনুমানগুলো পেটের জ্বালায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিতে গলিতে, বাসাবাড়িতে, হাসপাতালে। হামলা করছে দোকান পাটে, কেঁড়ে নিচ্ছে পথচারীর খাদ্য খাবার। হনুমানের খাদ্য তদারকির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে একটি কমিটি থাকলে বছরের পর বছর তাদের কোন ভূমিকাই নেই।

কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মিজান জানান, তিনি প্রায় দেড় বছর কেশবপুরে আছেন। তার আমলে কোন মিটিং হয়নি খাদ্য তদারকি কমিটির। তিনি হনুমানের খাবার সঙ্কটের কথা স্বীকার করে জানান, প্রতিদিন হনুমানের যে খাবার দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে কম। বরাদ্দকৃত খাবারে এক বা দুটি পয়েন্টের হনুমানের কোন রকম পেট ভরে। এক পয়েন্টের খাবার চার পয়েন্টে দিতে হয়। প্রতিটি পয়েন্টে ২০ থেকে ২৫টি হনুমান রয়েছে। এত অল্প খাবারে হনুমানের পেট ভরে না। আমি বার বার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে হনুমানের খাবার বাড়ানোর আবেদন করেছে। তাতে কোন ফল হয়নি। উপজেলা বন কর্মকর্তা আরও জানান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে বছরে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় যশোর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিসের মাধ্যমে।

হনুমানের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার যশোরের আলমগীর ট্রেডার্সের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে হনুমানের খাবার সরবরাহ করছি। হনুমানের তুলনায় খাবার খুবই কম। প্রতিদিন ১শ’ কেজি কলা, ৮ কেজি বাদাম ও ৮ কেজি রুটি হলে কোন রকম হনুমানের পেট ভরে। বর্তমান বাজার দর কম স্বীকার করে তিনি জানান, কোন কোন সময় খাবারের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। হনুমানের খাবার অপর্যাপ্ত জানিয়ে যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ার আলম জানান, বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। আমরা বছরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছিলাম সেখানে ৭ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। আগামীতে আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যুতের তারে কভার ও হনুমানের অভয়ারণ্য করার জন্য এবং ফলজ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে হনুমানের খাবার বৃদ্ধি করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব করেছি। আগামী বছর সুফল নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে হনুমানের জন্য।