২৪ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগানে চ‚ড়ান্ত আ.লীগের ইশতেহার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহার সমৃদ্ধিশীল বাংলাদেশের রোডম্যাপ। একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে এতে। ২০০৮ সালের ‘দিন বদলের সনদ’, ২০১৪ সালের ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’-এর ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারের সেøাগান ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ।’ ক্ষমতাসীন দলটির নির্বাচনী ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত। দুই-একদিনের মধ্যেই এটি ছাপানোর কাজ শুরু হবে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইশতেহার প্রকাশ করবেন। জানা যায়, ইশতেহারের খসড়া সংশোধন করে ইতোমধ্যে তা দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি চোখ বুলিয়ে ছাপানোর সম্মতি দিলেই প্রেসে চলে যাবে ইশতেহার। আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা সোমবার একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জনমনে যে উন্মাদনা ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল এবার তার থেকেও ব্যাপক আকারে সাড়া পড়বে। আওয়ামী লীগ এবার নতুন ভোটারদের গুরুত্ব দিচ্ছে। বরাবরের মতো এবারের ইশতেহারেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ১৯৯৬-২০০১, ২০০৯-২০১৩ এবং ২০১৪-২০১৮ মেয়াদের সাফল্য উল্লেখ থাকবে। থাকবে ২০১৯-২০২৩ মেয়াদে নির্বাচিত হলে এ সময়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা। ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় থাকবে ব-দ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা। এছাড়া ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুঃশাসনের চিত্রও তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। এবার নতুন করে ‘বিশেষ অঙ্গীকার’ হিসেবে কিছু বিষয়কে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রæত বাস্তবায়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বøু ইকোনোমি, ব-দ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুত-জ্বালানি, সার্বিক উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন, টেকসই উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ, নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গীবাদ ও মাদক নির্মূল; নিরাপদ সড়ক ও দারিদ্র্য নির্মূল উল্লেখ থাকবে ‘বিশেষ অগ্রাধিকার’ হিসেবে। পাশাপাশি গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলা, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শিরোনামে গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন তথা গ্রামে আধুনিক সুবিধার উপস্থিতি, শিল্প উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সুরক্ষা, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য খাতে থাকবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

প্রতিটি খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের অতীত পদক্ষেপ তুলে ধরে সেগুলোর অগ্রগতি উল্লেখ করে ভবিষ্যতের করণীয় থাকবে। এবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিশ্বজনীন স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। এতে ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ শিরোনামে থাকবে তরুণদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা। যাতে শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য একটি এবং গ্রামের তরুণদের জন্য আরেকটি আলাদা পরিকল্পনা থাকবে।

এছাড়া ইশতেহারে থাকছে বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিস্তারিত পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা। এতে ২০৩০ সাল, ২০৪০ সাল, স্বাধীনতার ১০০ বছরপূর্তিতে ২০৭১ সালে দেশকে আওয়ামী লীগ কোথায় নিয়ে যেতে চায়, তারও উল্লেখ থাকবে। ডেল্টা প্ল্যানে সন্নিবেশিত থাকবে ২১০০ সালের বাংলাদেশের অবয়ব। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এতে। সূত্র জানায়, ডেল্টা প্ল্যানে আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ১০০ বছরের কয়েকটি ধাপ উল্লেখ করে কোন সময়ে কী করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা থাকছে ইশতেহারে। ১০০ বছর পর অর্থাৎ আগামী ২১০০ সালে দেশ কোথায় থাকবে তা নিয়ে রয়েছে সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য। আর বস্তু ইকনোমিতে সমুদ্রসীমা জয়ের পর সেখানকার সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কীভাবে সমুদ্র সুরক্ষা করা হবে, এসবের দিকনির্দেশনাও থাকছে এবারের ইশতেহারে। প্রকৃতি ও পরিবেশ ঠিক রেখে সমুদ্রসম্পদকে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, তার বিস্তারিত থাকছে ইশতেহারে। এছাড়াও ইশতেহারে থাকতে পারে ‘মুজিববর্ষ’ পালন নিয়ে একটি অধ্যায়। এছাড়া ভবিষ্যত দিকদর্শন এবং যথারীতি পরিশেষে দেশবাসীর প্রতি থাকবে উদাত্ত আহ্বান।