২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টেনশনে শাস্ত্রীর হৃৎপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল

টেনশনে শাস্ত্রীর হৃৎপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল

অনলাইন ডেস্ক ॥ কেপ টাউনে হতে হতেও ঘটেনি। বার্মিংহামে মুঠোর মধ্যে পেয়েও পিছলে যায়। অবশেষে অ্যাডিলেডে যে জয় ছিনিয়ে নেওয়া গিয়েছে, সেটা দেখে খুশি রবি শাস্ত্রী। ভারতীয় দলের হেড কোচ মনে করছেন, ‘ফিনিশিং লাইন’ অতিক্রম করা নিয়ে বার বার যে সমস্যা হচ্ছিল, সেটা এ বার দূর হওয়ার অভিযান শুরু হল।

ভারতীয় দলের কোচ হয়ে আসার পর থেকে তীরে এসে তরী ডোবার নানা কাহিনির সাক্ষী শাস্ত্রী। এই অ্যাডিলে়ডেই চার বছর আগে টেস্ট জেতার মুখে এসে দেখেছেন, বিরাটরা হেরে গিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় গলে গিয়ে প্রথম টেস্টে জেতা ম্যাচ হেরেছে। কেপ টাউনে ২০৮ তাড়া করতে নেমে ১৩৫ অলআউট। বার্মিংহামে ১৯৪ তাড়া করতে নেমে ১৬২ অলআউট। গলে চান্ডিমল এবং রঙ্গনা হেরাথের সামনে চূর্ণ হওয়া। অ্যাডিলেড বিরাটদের সংসারে নতুন টেমপ্লেট নিয়ে হাজির হল। শাস্ত্রী তাই হারের শাপমোচন ঘটিয়ে খুশি। অ্যাডিলেডে ঐতিহাসিক জয়ের প্রতিক্রিয়া চাওয়ায় আনন্দবাজারকে বললেন, ‘‘বোলারদের ধৈর্য ধরা এবং শেষ পর্যন্ত গোটা দলের স্নায়ু ধরে রাখাকে কৃতিত্ব দেব। অস্ট্রেলিয়া দারুণ লড়াই করেছে, তবে আমরা এ বার কাজটা করেই ছেড়েছি। নাছোড় হয়ে লেগেছিল ছেলেরা।’’

শাস্ত্রী নিজে চেন্নাইয়ে (তখনকার মাদ্রাজে) সেই টাই টেস্টের সদস্য ছিলেন। যে ভাবে অস্ট্রেলিয়ার টেলএন্ডাররা লড়ছিলেন, তাতে অনেকের টাই টেস্টের স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছিল। যদিও পিছন ফিরে তাকাতে চান না ভারতের হেড কোচ। অধিনায়ক কোহলির মতোই তাঁর লক্ষ্য, অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিজ জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেরা। তবে তা নিয়ে আগাম মন্তব্যে যেতে চান না। সিরিজের বাকি ম্যাচ নিয়ে কী আশা করছেন? জিজ্ঞেস করায় অতীতে আশা জাগিয়েও স্বপ্নভঙ্গের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত বলে দিলেন, ‘‘এক লাফে বেশি দূর ভাবতে চাই না। একটা একটা করে সিঁড়ি অতিক্রম করার কথাই ভাবছি আমরা। অ্যাডিলেডে আমরা জিতেছি, স্কোরলাইন ১-০। পরের স্কোরের জন্য আমাদের আবার পরিশ্রম শুরু করতে হবে।’’

এ দিন অধিনায়ক কোহলির মতোই শাস্ত্রীও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ম্যাচের সেরা চেতেশ্বর পূজারার। হেড কোচ বলেন, ‘‘পূজারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।’’ তবে ব্যাটিং বিভাগে যে আরও শৃঙ্খলা আনতে হবে, সেটা জয়ের দিনে দাঁড়িয়েও জানাতে ভোলেননি শাস্ত্রী। বলেছেন, ‘‘কয়েকটা বাজে শট নিয়েছি আমরা। সেগুলো হতে দেওয়া যাবে না।’’ পূজারার পাশাপাশি বোলারদের কৃতিত্ব দিতেও ভোলেননি তিনি। প্রথম ইনিংসে অল্প রানে আউট হয়ে গেলেও বোলাররা প্রত্যাঘাত করে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন, বলে দিচ্ছেন শাস্ত্রী। ম্যাচের পরে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময়ে এ দিন ঋষভ পন্থকে নিয়ে শাস্ত্রী বলেন, ‘‘ওকে নিজের খেলা খেলতে দিতে চাই। কিন্তু ঋষভকেও স্মার্ট হতে হবে। লায়নকে ও ফিল্ডিং ছড়াতে বাধ্য করেও ভুল করল। সেটা বার বার করলে চলবে না। তা হলে আমি ওর কানের কাছে পড়েই থাকব।’’ এই সাক্ষাৎকারের সময়েই সুনীল গাভাস্কার তাঁকে মনে করিয়ে দেন, এই সিরিজের স্লোগান হচ্ছে ‘ছোড়না নহী’। জবাবে শাস্ত্রী এমন একটি মন্তব্য করেন, যা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। তিনি যেটা বলেছিলেন, তার সাংরাশ— টেনশনে তাঁরও হৃৎপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল!

এ দিন অস্ট্রেলীয় টিভি সম্প্রচারকারী সংস্থার একটি ফুটেজে আবার ধরা পড়ে, উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে প্যাট কামিন্সকে স্লেজিং করে চলেছেন ঋষভ। বার বার তাঁর কানের কাছে বলছেন, ‘‘এই পর্যায়ের ক্রিকেটে তোমার পক্ষে ব্যাট করা কিন্তু সহজ হবে না প্যাট।’’ যদিও খারাপ কিছু বা ব্যক্তিগত কোনও আক্রমণ করেননি। তাই অ্যাডিলেডে সৌজন্যের ছবির খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেনও ম্যাচের শেষে বলে গেলেন, স্লেজিংয়ের রাস্তা থেকে সরে এসেছে দল। তিক্ততা সৃষ্টি না করেও যে ম্যাচ থেলা যায়, জেতা যায়, সেটাই তাঁরা তুলে ধরতে চাইবেন।

ঋষভের স্লেজিং নিয়েও কাউকে কোনও অভিযোগ করতে শোনা যায়নি। অস্ট্রেলীয় মিডিয়া প্রশ্ন তুলেছেন শেষ উইকেটের ক্যাচটি নিয়ে। তাদের দাবি, কে এল রাহুল ক্যাচটি নিয়েছেন মাটিতে বলটি ছোঁয়ার পরে। আম্পায়ারের উচিত ছিল টিভি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। তবে অস্ট্রেলিয়া শিবির থেকে কেউ কোনও অভিযোগ, অনুযোগ করেনি। ঋষভকেও বেশ হাসিখুশি মুখে বেরোতে দেখা গেল। এগারোটি ক্যাচ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। তবে মুখের হাসি ধরে রাখতে গেলে দ্রুতই তাঁকে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।

অ্যাডিলেডে ঐতিহাসিক জয়ের দিনেই অনুশীলনে নেমে পড়লেন পৃথ্বী শ। যদিও দেখা গেল, পায়ে এখনও স্ট্র্যাপ বাঁধা তাঁর। শাস্ত্রী জানিয়েছিলেন, মেলবোর্ন টেস্টে দলে ফিরতে পারেন পৃথ্বী। এ দিন থেকেই যে ভাবে প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন তিনি, তাতে পথে দ্বিতীয় টেস্টেই খেলতে পারেন।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা