২০ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কালিদাস বড়াল হত্যা মামলায় খালাস ৬

কালিদাস বড়াল হত্যা মামলায় খালাস ৬

অনলাইন রিপোর্টার ॥ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কালিদাস বড়াল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন এবং যাবজ্জীবন সাজার তিন আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।

আসামিদের করা আপিল ও মুত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিকরণের আবেদন) শুনানি শেষে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেয়। ২০০০ সালের ২০ আগস্ট বাগেরহাট শহরের সাধনা মোড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কালিদাস বড়ালকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনা বাগেরহাটসহ সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পর বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আসামিদের মধ্যে নয়জন ওই রায়ে বেকসুর খালাস পান।

আপিল শুনানি শেষে হাই কোর্ট মঙ্গলবার যে রায় দিয়েছে, তাতে চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে সাঈদুল ইসলাম ওরফে সাঈদ ফকির, ঘোলা গ্রামের আবদুল হক কাজীর ছেলে সাইফুর রহমান ওরফে বাবলু কাজীর ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়েছে।

আর বিচারকি আদালতে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া চিতলমারী উপজেলার রহমতপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর দুই ছেলে আলমগীর সিদ্দিকী ও নাছির সিদ্দিকী এবং কলাতলা গ্রামের সোনা মিঞা সরদারের ছেলে স্বপন খালাস পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আলমগীর সিদ্দিকী জেলে, বাকিরা পলাতক। জজ আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া তিন আসামির সবাইকে হাই কোর্ট খালাস দিয়েছে।

এরা হলেন- চিতলমারীর রহমতপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর আরেক ছেলে শওকত সিদ্দিকী, সদর উপজেলার চরগাঁ গ্রামের হাশেম মোল্লার ছেলে বাবলু মোল্লা এবং একই উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে মানিক। তাদের মধ্যে শওকত সিদ্দিকী জেলে; বাকি দুজন পলাতক।

আলমগীর সিদ্দিকী ও শওকত সিদ্দিকীর পক্ষে হাইকোর্টে আপিল শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও জি এম বাবুল আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মান্নান মোহন। কালিদাস বড়ালের স্ত্রী হ্যাপি বড়ালের রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন নকিব সাইফুল ইসলাম। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিয়োজিত আইনজীবী হাসনা বেগম।

হাইকোর্টের রায়ের পর খালাস পাওয়া শওকত সিদ্দিকীর আইনজীবী জি এম বাবুল আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আলমগীর সিদ্দিকী ও শওকত সিদ্দিকীর করা আপিল গ্রহণ করে হাই কোর্ট তাদের খালাস দিয়েছে।

আর জজ আদালতে নয় আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে কালিদাস বড়ালের স্ত্রী হ্যাপি বড়ালের করা রিভিশন আবেদনটি হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে।

কোন যুক্তিতে ছয় আসামি খালাস পেলেন জানতে চাইলে আইনজীবী বাবুল বলেন, বিচারিক আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলমগীর সিদ্দিকী ও কালিদাশ বড়ালের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরে ২০০০ সালে কালিদাশ বড়াল নিহত হন। কিন্তু ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা পদ্ধতিই ছিল না।

“আমি মনে করি আমাদের এ যুক্তি গ্রহণ করে আদালত আসামিদের খালাস দিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করায় এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”

২০০০ সালে কালিদাস বড়াল খুন হওয়ার পরদিন তার স্ত্রী হ্যাপি বাগেরহাট মডেল থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।ওই বছরের ৩১ অক্টোবর বাগেরহাট থানার তখনকার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

তাদের মধ্যে অছিকার রহমান নামে অপর এক আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ও গণপিটুনিতে আব্দুর রশিদ ওরফে তাপু ওরফে মামুন, জুয়েল শিকদার ওরফে রাসেল, কবির ডাকুয়া ও তুষার মোল্লা নামে চার আসামির মৃত্যু হয়।

জীবিত ১৭ আসামির বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ জুন রায় ঘোষণা করেন বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ এস এম সোলায়মান।

পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে নয়জনকে মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন তিনি।

সে সময় খালাস পাওয়া নয় আসামি হলেন- চিতলমারীর বড়বাড়িয়া গ্রামের আবুল বাশার ওরফে পান্না, বড়বাড়িয়া গ্রামের কামরুল, চরবানিয়ারী গ্রামের গৌরপদ মণ্ডলের তিন ছেলে মুকুল তরুয়া, শ্যামল তরুয়া ও তুষার তরুয়া, সদর উপজেলার চরগাঁ গ্রামের ছোট ফকির ওরফে মারুফ, জেলা শহরের হাড়িখালী এলাকার খায়রুজ্জামান নিক্সন, হরিণখানা এলাকার আবদুল কুদ্দুস ওরফে কালা কুদ্দুস এবং চিতলমারী উপজেলার আড়ুয়াবর্নি গ্রামের চান মোল্লা।

নির্বাচিত সংবাদ