২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রীপুরে অপহরণের ৬দিন পর নিখোঁজ শিশু ছাত্রের লাশ উদ্ধার

শ্রীপুরে অপহরণের ৬দিন পর নিখোঁজ শিশু ছাত্রের লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরের শ্রীপুরে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণের ৬ দিন পর মঙ্গলবার বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে এক পিএসসি পরীক্ষার্থীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই ছাত্রের নাম সাদমান ইকবাল রাকিনের (১০)। সে শ্রীপুর উপজেলার ফাউগান গ্রামের শামীম ইকবালের বড় ছেলে। রাকিন স্থানীয় ফাউগান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট’র (পিএসসি) সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার বাবা শামীম ইকবাল গাজীপুর জেলা পরিষদের কার্য্য সহকারী পদে চাকুরি করেন।

নিহতের বাবা শামীম ইকবালসহ পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাকিন আছরের নামাজ পড়তে বাড়ির পাশের মসজিদে যায়। নামাজ শেষে সন্ধ্যায় সে মসজিদ সংলগ্ন মাঠের পাশে বসে শিশুদের খেলা দেখছিল। এসময় সে নিখোঁজ হয়। সে মাগরিবের নামাজের জন্য মসজিদেও যায়নি। সন্ধ্যার পর রাকিন বাসায় ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্নস্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে।

নিখোঁজের ঘন্টা খানেক পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে রাকিনের বাবাকে মোবাইলে ফোন করে। এর পরপরই সিমটি বন্ধ করে রাখা হয়। অপহরণকারীরা যে সিমটি ব্যবহার করে মুক্তিপণের টাকার জন্য ফোন করে, ওই সিমটি সেটসহ রাকিনের মা প্রায় ৬ মাস আগে হারিয়ে ফেলেন। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরদিন রাকিনের বাবা শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

নিখোঁজের ৬দিন পর মঙ্গলবার স্থানীয়রা পঁচা দুর্গন্ধের সূত্রধরে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ের ভিতর রাকিনের অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে নিহতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। দু’ভাইয়ের মধ্যে রাকিন বড়। সামীর নামের তার ১৮ মাস বয়সের অপর একজন ভাই রয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অপহরণের পরপরই শিশু রাকিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ফলে তার লাশে পঁচন ধরেছে। লাশ অর্ধ গলিত হওয়ায় মুত্যুর আলামত চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

তবে ময়না তদন্তে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।