২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায় : তোফায়েল

বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায় : তোফায়েল

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা ॥ ভোলা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তোফায়েল আহমেদের নির্বাচনী প্রচারনায় গনমানুষের জোয়ার উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে ভেলুমিয়া ও ভেদুরিয়া বাজারে আওয়ামী লীগের পথ সভাকে কেন্দ্র করে এলাকার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করে। দুপুরের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ ভেলুমিয়া ও ভেদুরিয়া বাজারে এসে ভিড় করতে থাকে।

এমনকি বিভিন্ন বয়সী নারীরাও ছুটে আসে সভাস্থলে। এসময় উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারনা করা হয়। এসময় নৌকা আর তোফায়েলর পক্ষে গনমানুষের জোয়ার ওঠে। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য,ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন অংশ গ্রহন মূলক হতে চলেছে। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমানিত হবে মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলো স্বাধীনতার চেতনায় মূল্যবোধ বিজয়ী হবে, না স্বাধীনতা বিরোধীরা বিজয়ী হবে।

আমরা আশা করি বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতার চেতনার মূল্যবোধের পক্ষে থাকবে। তিনি আজ মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের জৈনপুর হুজুরের মাঠে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এছাড়াও সন্ধ্যার পর ভেদুরিয়া ব্যাংকের হাট বাজারে পৃথক পথ সভায় তিনি বক্তব্য রাখেন।

তিনি আরো বলেন, ড.কামালের মতো লোক বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলো,সে আজকে নীতি পরিবর্তন করে আজকে ধানের শীষের দল নিয়েছে। ধানের শীষ জামাতেরও প্রতীক ডা.কামাল হোসেনেরও প্রতীক। আমার কাছে লজ্জা লাগে। আমি তাকে ধিক্কার জানাই। তিনি আরো বলেন,ক্ষমতা বড় না,আমার কাছে এমপি বড় না। আমার কাছে বড় আত্ম মর্যাদা। সম্মান নীতি,আদর্শ। আমি দল বদলালে মন্ত্রী হতে পারতাম। তার থেকেও বড় কিছু হতে পারতাম। জিয়াউর রহমান চেষ্টা করেছ্ এরশাদ চেষ্টা করেছে। ৭ বার জেলে গিয়েছি। ফাঁসির আসামীর মতো আমাকে জেলের মধ্যে রাখা হয়েছে। কিন্তু মাথা নত করি নাই। আমি ময়মনসিংহ জেল,কুষ্টিয়া জেল,সিলেট জেল,রাজশাহী জেল,বরিশাল জেল, কুমিল্লা জেলসহ ৭ বারে ৭ জেলে ছিলাম। কিন্তু নীতি পরিবর্তন করিনি।

তিনি আরো বলেন,২০০১ সনের বিএনপি বোরহানউদ্দিনে আমার গাড়িতে গুলি মেরেছে,ভাংচুর করেছে,বোমা মেরেছে । কিন্তু আমি আপোস করিনি। বিএনপি আমার ভোলার বাসায় আক্রমন করেছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে মিটিং করতে দেয়নি। আবদুল মালেক উকিল সাহেব ভোলায় এসেছিলো। সরকারি স্কুল মাঠে মিটিং মরিচের গুড়া মেরে মিটিং পন্ড করে দিয়েছে এই বিএনপি। কিন্তু আমি ক্ষমতায় এসে বিএনপির সাথে খারাপ ব্যবহার করিনি।

দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অভূতপুর্ব উন্নয়ন হয়েছে দেশে। আজ আমাদের মাথাপিছু আয় ১৭’শ ৫১ ডলার। রপ্তানী ৪১ বিলিয়ন ডলার। রির্জাভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার। ঘরে ঘরে বর্তমান সরকার বিদ্যূৎ পৌছে দিয়েছে। মানুষের জীবন মানের অনেক পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনের পর ভোলা-বরিশাল ব্রীজ ণির্মানের কাজ শুরু করা হবে। ৩ বছরের মধ্যে সেতু ণির্মান কাজ সম্পন্ন হবে। সেতুটি হলে খুব সহজেই মানুষ সড়ক পথে বরিশাল হয়ে অল্প সময়ে ঢাকা যেতে পারবে। ভোলাকে কেউ আর তখন বিচ্ছিন্ন জেলা বলতে পারবেনা। এসময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধের পক্ষে ভোট দেবে।

ভেলুমিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: আব্দুছ সালাম মাস্টারের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, ভেলুমিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক লিটন মাল প্রমুখ।