২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জয় ক্যারিবীয়দের

  • বাংলাদেশের হার ৪ উইকেটে, সিরিজে ১-১ সমতা

মোঃ মামুন রশীদ ॥ মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরজ বাঁচানোর লড়াইয়ে প্রতি মুহূর্তেই ম্যাচে টিকে ছিল ক্যারিবীয়রা শাই হোপের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তার অপরাজিত ১৪৬ রানে ভর দিয়ে ৪ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা আনে তারা। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম ও তামিম ইকবালের অর্ধশতক বড় সংগ্রহের ভিত দিয়েছিল বাংলাদেশকে। বাকিরা সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দলীয় সংগ্রহকে বড় করতে পারেননি। ৭ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে স্বাগতিকরা। তবে তামিমের পাশাপাশি বাকি ৩ ওপেনার- ইমরুল কায়েস, লিটন দাস ও সৌম্য সরকারকে নিয়ে যে আলোচনা তারা এদিনও হয়েছেন ব্যর্থ। তিনজনের কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছুতে পারেননি। জবাবে ২ বল হাতে রেখেই ৪৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৬ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয় ক্যারিবীয়রা। শেষদিকে বাংলাদেশী বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিং, ফিল্ডিং মিসের মহড়া ও কয়েকটি ক্যাচ হাতছাড়ার সুবাদে সপ্তম উইকেটে ৬৪ বলে অবিচ্ছিন্ন থেকে ৭১ রানের জুটি গড়ে মাশরাফিদের হারের স্বাদ উপহার দেন।

ক্যারিয়ারের ৬৯তম ম্যাচে নেতৃত্ব দিতে নেমে টানা দ্বিতীয়বার টস হারেন মাশরাফি। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ৬৯ ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বের রেকর্ড ছিল হাবিবুল বাশার সুমনের, তাকে স্পর্শ করেন। প্রথম ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেই ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। লিটন দাস ক্যারিবীয় পেসার ওশান টমাসের ইয়র্কারে গোঁড়ালিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে। তাকে হাসপাতালে যেতে হয়। টমাসের ঝড়োগতিতে বেসামাল হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ওয়ানডাউনে নেমে ইমরুল কায়েস এদিনও হয়েছেন ব্যর্থ (০)। তামিম ইকবাল তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১১১ রান যোগ করেন। দারুণ অর্ধশতক হাঁকিয়ে তামিম ৬৩ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৫০ রানে সাজঘরে ফেরেন। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরমেট মিলিয়ে ১২ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়ে যান তিনি। মুশফিকও টানা দ্বিতীয় ফিফটি হাঁকান। ক্যারিয়ারের ৩২তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে তিনিও তামিমের পর দ্রুতই ফিরে গেছেন ৮০ বলে ৫ চারে ৬২ রান করে। ১৩২ রানে ৩ উইকেট হারানো এবং লিটন আহত হয়ে মাঠ ছাড়াতে কিছুটা বিপাকেই পড়েছিল স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতে বেশ সাবলীলভাবেই ব্যাট চালিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের চতুর্থ উইকেটে ৬১ রানের জুটি ভাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। মাহমুদুল্লাহ ৫১ বলে ৩০ রান করার পর আউট হলেও সাকিব দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে টমাসের বলে ক্যাচ আউট হলেও সে যাত্রা বেঁচে যান নো-বলের সুবাদে। এরপর ক্যারিয়ারের ৪০তম ফিফটি পেয়েছেন ছক্কা হাঁকিয়ে। ৬২ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৬৫ রান করার পর থামেন তিনি।

এর আগেই মাহমুদুল্লাহর বিদায়ে ক্রিজে এসেছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু তিনি অবিবেচকের মতো শট খেলে সাজঘরে ফেরেন ৬ রানে। তার বিদায়ের পর লিটন আবার আসলেন। ৫ রানে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন, ফেরার পর আর ৩ রান যোগ করেই কিমো পলের শিকার হন। শেষদিকে কেমার রোচ ও টমাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। শেষ ২ ওভারে মাত্র ৫ রান এসেছে। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে টমাস ৫৪ রানে নেন ৩ উইকেট। ১ উইকেট করে পেলেও ১০ ওভার বোলিং করে রোচ ৩৯ ও দেবেন্দ্র বিশু মাত্র ২৭ রান দিয়ে বাংলাদেশের রানের গতি কমিয়েছেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই মিরাজের বলে চন্দরপল হেমরাজের (৩) উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এরপর সতর্ক ব্যাটিংয়ে শাই হোপ ও ড্যারেন ব্রাভো দ্বিতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন। ব্রাভো ৪৩ বলে ২৭ রান করে রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হলে জুটি ভাঙ্গে। তবে এতেও আশাহত হয়নি ক্যারিবীয়রা। হোপের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে মারলন স্যামুয়েলস ৬২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের আশা দেখাতে থাকেন। স্যামুয়েলসকে (২৬) দারুণ কাটারে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর আক্রমণাত্মক শিমরন হেটমায়ারকে (১০ বলে ১৪) রুবেল ও রোভম্যান পাওয়েলকে (১) মাশরাফি তুলে নিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় টাইগাররা। দলীয় ১৫৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও ক্যারিবীয়দের আশার আলো জ্বালিয়ে রাখেন হোপ। উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান উইকেট ভালভাবেই ধরে রেখেছেন। রোস্টন চেসও (৯) মুস্তাফিজের শিকার হন, এরপরই ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক তুলে নেন ২৫ বছর বয়সী হোপ। সপ্তম উইকেটে কিমো পলের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন। হোপ দুইবার ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যান বদলি ফিল্ডার নাজমুল ইসলাম অপু তা মিস করাতে। শেষ ৩ ওভারে ৩২ রানের প্রয়োজন ছিল ক্যারিবীয়দের। ৪৮তম ওভারে রুবেল ১০, ৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজ ১৬ রান খরচা করে ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দেন। শেষ পর্যন্ত হোপের ১৪৪ বলে ১২ চার ৩ ছক্কায় করা ১৪৬ রানে ৪ উইকেটের জয় পায় ক্যারিবীয়রা ৪৯.৪ ওভারে। মুস্তাফিজ ও রুবেল নেন ২টি করে উইকেট।