১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিং নিষিদ্ধ স্থানে চালকবিহীন গাড়ি পেলেই ভিডিও মামলায় শাস্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে যত্রতত্র অবৈধ গাড়ি পার্কিং ঠেকাতে শুরু হয়েছে ভিডিও মামলা। পার্কিং নিষিদ্ধ স্থানে চালকবিহীন গাড়ি রাখা হলেই দায়ের করা হচ্ছে এ ধরনের মামলা। এ পদ্ধতিতে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইনের ১৪০ ও ১৫৭ ধারা মতে এ মামলার শাস্তি ৯০০ টাকা জরিমানা।

রাজধানীর গুলিস্তান মতিঝিল, ফার্মগেট, মহাখালী ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চালকবিহীন গাড়ি রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ধরনের গাড়ি পেলেই ওই এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ক্যামেরায় স্থিরচিত্র ধারণ ও ভিডিও করার পর অফিসে গিয়ে সেটা পর্যবেক্ষণের পর শাস্তি দেয়া হয়। চালকের অজান্তেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের মামলা দায়ের করা হচ্ছে। জরিমানার নোটিস ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই চালকের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোলচক্করের পশ্চিম পাশের প্রবেশ পথে নো পার্কিং জোনে চালকবিহীন একটা প্রাইভেট পার্কিং করে রাখতে দেখা যায়। কর্তব্যরত ট্রাফিক পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান ভুঁইয়া সেখানে গিয়ে দেখেন গাড়িতে চালক নেই। অনেকক্ষণ তিনি অপেক্ষা করার পরও চালকের কোন হদিস না পেয়ে তা ভিডিওতে ধারণ ও ছবি তোলেন। পরে ওই গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। এভাবে প্রতিদিনই রাজধানীতে দায়ের করা হচ্ছে ভিডিও মামলা। গত সপ্তাহে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়ও শুরু হয়েছে এ ধরনের মামলা দায়ের।

এ বিষয়ে ট্রাফিক নর্থ জোনের ডিসি প্রবীর কুমার রায় জনকণ্ঠকে বলেন, এটা রাজধানীতে আগেই শুরু হয়েছে। এখন সেটা বিমানবন্দরেও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কেননা দেখা গেছে, বিমানবন্দরে যত্রতত্র গাড়ি রেখে চালক নিরুদ্দেশ হয়ে যান কিছু সময়ের জন্য। এমন জায়গায় তারা গাড়ি রেখে চলে যান যাতে মুহূর্তেই যানজট দেখা দেয়। অনেক ডাকাডাকি করেও চালককে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত ট্রাফিক অফিসাররা ওই গাড়ির আশপাশের এরিয়াসহ ভিডিও করার পর মামলা দায়ের করা হয়। সাতদিনের মধ্যে জরিমানার কথা নোটিসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এটা চালুর আগে চালকদের সতর্ক ও সচেতন করার জন্য বিমানবন্দরের ক্যানপী ও বিভিন্ন এলাকায় নো পার্কিং বোর্ড টানানো হয়েছে। এটা জেনেও যারা গাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে যায় তাদেরই ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণাদি নিয়ে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

ভিডিও মামলায় শাস্তি পাওয়া এক চালক জানালেন, হঠাৎ আমার নামে ৯০০ টাকা জরিমানার একটি নোটিস আসে। যার মাধ্যমে আমি জানতে পারি-শাহজালালের ক্যানপীর সামনের খোলা জায়গায় আমার মালিকের প্রাইভেট কার রাখা ছিল। আসলে সেদিন আমি যাত্রী আনতে সেখানে যাই। গাড়িটি পার্কিং করে আমি গোলচক্করে লাঞ্চ করতে যাই। এই ফাঁকেই ট্রাফিক এসে আমার গাড়িটি ভিডিও করে নিয়ে গেছে। আমি সেদিন জানতে পারিনি। সেই অপরাধেই এ জরিমানা করা হয়।

পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ পদ্ধতিতে জরিমানা নিয়ে কোন চালক কখনোই কোন প্রশ্ন করতে পারেন না। চালকবিহীন খালি গাড়ি কোন লোকেশানে পার্কিং করা ছিল, বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে সেটার ভিডিও ধারণ করার পর অপরাধ প্রমাণ করা হয়। অভিযুক্ত চাইলে ভিডিও দেখতে পারেন। ট্রাফিক অফিসে এ সংক্রান্ত বিশেষ সফটওয়ার রয়েছে। যে কেউ চাইলে তা এসে দেখার সুযোগ পাবেন।