১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উৎস কর আহরণে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

উৎস কর আহরণে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বর্তমানে ৫৬টি খাত থেকে উৎস কর আদায় করা হয়। এর সঙ্গে আগামী বাজেটে আরও পাঁচটি খাত যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

রাজস্ব বাড়ানোর সহজ পদ্ধতি হলো সেবা ও আয়ের উৎস থেকে টিডিএস (ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স) কর কেটে নেওয়া। প্রতি মাসে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে পাঁচ শতাংশ হারে এ কর কর্তন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই উৎস কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করাই এখন এনবিআরের লক্ষ্য।

সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয়কর খাতে আদায়কৃত মোট রাজস্বের ৬৭ শতাংশই এসেছে উৎস আয়কর থেকে। যার পরিমাণ ৪৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এনবিআরের লক্ষ্য মোট করের ৮০ শতাংশ উৎস কর থেকে আহরণ করা। ১২ ডিসেম্বর, বুধবার বণিক বার্তার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে ৫৬টি খাত থেকে উৎস কর আদায় করা হয়। এর সঙ্গে আগামী বাজেটে আরও পাঁচটি খাত যুক্ত করে মোট ৬১ খাত থেকে এই কর আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। উৎস করের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কর অঞ্চলগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

চিঠিতে এনবিআর জানিয়েছে, এ কর আদায়ে করদাতাদের পাশাপাশি কর কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে। কর আহরণে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি উৎস কর আহরণে ব্যর্থ হন, তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে তার কাছ থেকে সুদসহ কর আদায় করা হবে। উৎস কর আদায়ের উল্লেখযোগ্য খাত

এনবিআরের উৎস কর আদায়ের উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, ঠিকাদারের বিল, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের আমানতের সুদ আয়, জমি কেনাবেচা, সংবাদপত্র, রেডিও-টিভিতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন, ক্যাটারিং সার্ভিস ও ক্লিনিং সার্ভিস।

রয়েছে পেশাগত কারিগরি সেবাদানকারী অথবা কারিগরি সহায়তা ফি, কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি সার্ভিস, প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস, ম্যানপাওয়ার সাপ্লাই সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কারিগরি সেবা প্রদানকারী বা সেবা সরবরাহকারী এজেন্টের ফি, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া সার্ভিস।

এ ছাড়াও পাবলিক রিলেশন সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস, ট্রেনিং-ওয়ার্কশপ ফি, ক্রেডিট রেটিং সেবা ফি, মোটর গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপের ফি, বেসরকারি কনটেইনার পোর্ট বা ডকইয়ার্ড সেবার ফি, শিপিং এজেন্সি কমিশনের বিপরীতে নির্ধারিত হারে উৎস কর আদায় করা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আয়কর বাবদ আমাদের মোট আহরণের ৬০ শতাংশের বেশি উৎস কর থেকে আসে। এটি আরও বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য উৎস করের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিকভাবে কর্তন করা হচ্ছে কিনা কিংবা কর্তন হলেও সময়মতো জমা দেওয়া হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে মনিটরিং বাড়ানো জরুরি।’