১২ ডিসেম্বর ২০১৮

‘আবার ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগ’

‘আবার ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগ’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে হওয়া মজবুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে পূনরায় ক্ষমতায় আসার অন্যতম কারন হিসেবে উল্লেখ্য করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকনোমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অর্থবিষয়ক ম্যাগাজিন দ্যা ইকোনোমিস্টের বিশেষ এ অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তার প্রতিবেদনে একই সঙ্গে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা, অভাবনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন এবং বিরোধীদলগুলোর দুর্বলতার কারণেই আবার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

ইআইইউ বিশ্বব্যাপী জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিগত ৬০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশের ব্যবসার উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং রাজনীতির ট্রেন্ড, সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং কর্পোরেট প্রাকটিসের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চারভাবে ইআইইউ তাদের তথ্য প্রকাশ করে থাকে, এর ডিজিটাল পোর্টফলিও যেখানে নিয়মিত নতুন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়, গ্রাহকদের জন্য প্রিন্ট করা নিউজ লেটারের মাধ্যমে যেখানে বার্ষিক কাজের বিবরণী থাকে।

নির্বাচনের আগে গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআই সিসার্স ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলকি ইন্সটিটিউটে (আইআরআই) জড়িপে শেখ হাসিনা সরকারের স্বস্তিদায়ক চিত্র আসার মধ্যেই এবার প্রতিবেদন প্রকাশ করলো ইআইইউ। গত ৪ ডিসেম্বর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাদের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে। আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে গড়ে ৭ দশমিক ৭ করে থাকবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সার্বিক বিনিয়োগে স্থিতাবস্থা থাকবে বলেও তারা জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় বেশ কিছু মতামত জরিপে শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অসাধারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী দলের পিছিয়ে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। আর সে কারণেই বিএনপি বা আরও বড় পরিসরে দেখলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইআইইউ বলছে, আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিবেশ নির্ধারিত হবে আগামী ২০১৯-২০২৩ সালের মধ্যকার সামাজিক অস্থিরতার সম্ভাবনা ঘিরে। এর পাশাপাশি রয়েছে সন্ত্রাসীদের হামলার সম্ভাবনা, বিরোধীদলের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর। এসবে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণ নতুন সরকার নির্বাচনে ভোট দেবে। বিরোধীদলীয় বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় এখনই দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইআউইউ

প্রত্যাশা করে, ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার আসন্ন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করবে। তবে এর আগ পর্যন্ত দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকবে।

প্রতিবেদনে নানা ঝুুকির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চলমান ও আসন্ন রাজনৈতিক ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনে সন্ত্রাসী হামলা। এতে করে ব্যাপক আকারে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বা প্রধান শহরগুলো টার্গেট করবে। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও ভূমিকা রাখবে বিরোধীদলগুলোর বিক্ষোভ। বর্তমানে পপ্রান অনানুষ্ঠানিক বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী রয়েছেন। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে, তারা খালেদার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বাতিল হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২০১৪ সালে যেক্ষেত্রে তারা নির্বাচন বর্জন করেছিল। ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ধারণা, খালেদার সমর্থকরা তার মুক্তির জন্য বিক্ষোভ-মিছিল অব্যাহত রাখবে। তাদের থামাতে মোতায়েন করা হবে নিরাপত্তা বাহিনী।

ইআইইউ রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধিও আরেকটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চলমান রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটকে। তাদের ধারণা, এই সংকট আরও চার থেকে পাঁচ বছর স্থায়ী হবে। এই সংকট যত দীর্ঘমেয়াদী হবে তত বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠনের উৎপত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। রাজনৈতিক দল বা সন্ত্রাসী ছাড়াও বিভিন্ন নিরপেক্ষ দলের বিক্ষোভের কারণেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র করে তুলতে পারে। যেমন চলতি বছর সড়কে নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ইআইইউ জানিয়েছে, এতে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাদের প্রধান বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ঝানু রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের সংবিধানের লেখক কামাল হোসেন। বিশ্বজুড়ে তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। দেশে তার আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাদের ওপর বলপ্রয়োগ তরুণ ভোটারদের মধ্যে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি বিরোধীদলের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করায় তা বিরোধীদলের পক্ষে কাজ করতে পারে। তারপরও আসন্ন নির্বাচনে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা অদ্বিতীয়।

আগামীকে বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০১৯-২৩ সালের মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তবে আসামে অবৈধ বাংলাদেশীদের অভিবাসন দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে চির ধরাতে পারে। এছাড়া তিস্তার পানি বণ্টন নিয়েও দেখা দিতে পারে বিরোধ।

চীনের সঙ্গেও ২০১৯-২৩ সালের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হবে বলে ধারণা ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে চীনা সহায়তায়। এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতির আরো কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে টাকার মান কমবে। সে হিসেবে আগামী বছর ভোক্তাদের খরচ বৃদ্ধি পাবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পূর্বে এই বৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইআইইউ আগামী বছরের জন্য আমদানি হার নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তাদের প্রত্যাশানুযায়ী, ব্যাপক আর্থিক ঘাটতি সৃষ্টির কারণে কমবে টাকার দর। বর্তমান মার্কিন ডলারের তুলনায় ১ ডলার হচ্ছে ৮৬.৪ টাকার সমান। পূর্বে তা ছিল ৮৫.৮টাকা। আগামী বছরগুলোতে অবকাঠামোগত প্রকল্প নির্মাণে খরচ বৃদ্ধি ও কর খাতে অনঅগ্রতি ২০১৮/১৯ অর্থবছরের সমপরিমাণ বাজেট ঘাটতির সৃষ্টি করবে ২০২২-২৩ সালে। বিগত পাঁচ বছরের এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ৪ শতাংশে বৃদ্ধি পেলে তা বিগত পাঁচ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

ইআইইউ অর্থনীতির এ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আমদানি খরচ ৭৫ বেসিস পয়েন্টে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি রিজার্ভ রেপো হার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এর সঙ্গে ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক ইস্যুতে কিছুটা নরম হতে পরামর্শ দিয়েছে ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

এতে করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বাড়বে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পুনরায় হার বৃদ্ধি করতে হবে তাদের। এই উপায় অবলম্বনে ২০১৮/১৯-২০২২/২৩ অর্থবছরে গড় জিডিপি বৃদ্ধি হবে ৭.৭ শতাংশ। শক্ত হবে বেসরকারি খাত।

এর আগে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআই সিসার্স ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলকি ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) জড়িপে উঠে এসেছিল বাংলাদেশের রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য নানা দিক। আইআরআই এর এ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইড অ্যান্ড সার্ভের জড়িপ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ^াস করেন দেশ সঠিক পথেই আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্তাধানীন সরকাওে আস্থাশীল অধিকাংশ মানুষ। তারা সন্তুষ্ট দেশের গনতন্ত্র, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপ ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের ৬২ ভাগ নাগরিক মনে করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক। জরিপের ফলাফলের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন দেশ সঠিক পথেই আছে। ৬৯ শতাংশ মানুষ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। ৬৮ শতাংশ মানুষ দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। ৫৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন আগামী দিনগুলোতে দেশ আরো নিরাপদ হবে। ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

এছাড়া অধিকাংশ মানুষ আস্থার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেষখ হাসিনা ও তার সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের ওপর। ৬৬ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থাশীল, ৬৪ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর আস্থাশীল, ৪৯ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী। ৫১ শতাংশ মানুষ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সন্তুষ্ট। বর্তমান সংসদের ওপর আস্থাশীল ৫১ শতাংশ মানুষ। তবে ৪৯ শতাংশ মানুষ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল। ৬৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সন্তুষ্ট। ৬৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সন্তুষ্ট ৬১ শতাংশ মানুষ। আর ৮১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা আসন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ ভাগ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ ভাগ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরোউন্নতি হবে।

সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জন সন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে।

দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ ভাগ জানান, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করবেন।

এর আগে আইআরআই-এর গবেষণা প্রতিবেদনেও কাছাকাছি ফল পাওয়া গিয়েছিল। তাদের প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ব নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে প্রায় ৭৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। এই প্রতিবেদনেই ২৬ দশমিক ৬ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অপর এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন।

আইআরআইয়ের জরিপ রিপোর্ট শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার কারণেই দল জনপ্রিয় বলে মত দেয়া হয়। এছাড়া বলা হয়, ক্ষমতায় থাকাকালে স্বৈরশাসন এবং ধর্মীয় চরমপন্থার জন্য আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পিছিয়ে থাকবে বিএনপি ও জামায়াত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থানে তারেক রহমান।