১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাহজালালের মাজারে নামাজ পড়ে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

শাহজালালের মাজারে নামাজ পড়ে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ফ্লাইট বিলম্বিত হলেও সিলেটে পৌঁছে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। বুধবার বেলা ৫টার দিকে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খানসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

বেলা দেড়টায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৪০১ এ সিলেট পৌছার কথা ছিল ড. কামাল হোসেনের। ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার কারণে বেলা ৪ টা ১১ মিনিটে ড. কামাল হোসেন সিলেট পৌঁছান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা সাড়ে ৪টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবারে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এই যে ধড়পাকড় হয়রানি, এসব সংবিধান পরিপন্থি। আমরা দাবি করেছি, এসব দ্রুত বন্ধ করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল আরো বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিন্ড আছে কি না বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমে আসছে। এর বিচার তো গণমাধ্যমকর্মীরাই করতে পারে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন করবো। বিএনপি আমার সাথে একমত কোনোভাবেই ইলেকশন ছাড়া যাবে না।

এর আগে ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর খবরে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা সকাল ১১টা থেকে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গনে সমবেত হতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব বেসরকারি একটি বিমানে করে সিলেট পৌছান। তারা বিমানবন্দরে ড. কামাল হোসেনের অপেক্ষা করতে থাকেন। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে দুপুরের দিকে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাইক ব্যবহারে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় মাজার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেন। শুধু মাজার এলাকাই নয়, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কেও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

বিমানবন্দরে সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির অভিযোগ করেন, মাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দিচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নেতাকর্মীদের চেয়ে বেশি পোশাকী ও সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে না করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়েই সমাবেশ করার জন্য প্রশাসন বলে দিলেই পারতো।

এদিকে বেলা ৫টার দিকে ড. কামাল হোসেন শাহজালাল (রহ.) মাজারে পৌঁছলে হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী তাকে শ্লোগানে শ্লোগানে স্বাগত জানান। নেতাকর্মীদের ঠেলে মাজার প্রাঙ্গণে ড. কামাল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা পৌঁছান। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ড. কামাল হোসেন সিঁড়ি মাড়িয়ে মাজার কমপ্লেক্সে উঠতে না পেরে প্রাঙ্গণে বসেই জিয়ারত করেন। মোনাজাতে অংশ নেন নেতৃবৃন্দ।

পরে কাদের সিদ্দিকী দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাজার কমপ্লেক্সে গিয়ে জিয়ারত ও কোরআন তেলাওয়াত করেন। ড. কামাল হোসেন মাজার মসজিদের নিচতলায় মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এছাড়া নজরুল ইসলাম খান মাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এদিকে জিয়ারত শেষে মাজার এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। পরে হযরত শাহপরান (র.) মাজার জিয়ারত করেন।