২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকি কানেকশন!

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নানাবিধ ষড়যন্ত্র। একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা থেকে তারা একটুও সরে যায়নি, বরং ক্রমশ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার জন্য সদা সচেষ্ট। তাদের অনুগত একাত্তরের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের সহযোগী আলবদর, আলশামস, রাজাকার ও শান্তি কমিটি তথা জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে নাশকতামূলক কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক জান্তা শাসকরা ক্ষমতা দখল করে পাকিস্তানী ভাবধারা ফিরিয়ে আনা শুধু নয়, পাকিস্তানী দর্শন ও চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হেন কাজকর্ম নেই যা করেনি। পাকিস্তানী চেতনা জাগাতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও দলগুলোকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন শুধু নয়, তাদের রক্ষায় ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়। সেই জামায়াত যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানো হয়। জিয়ার উত্তরসূরি তার স্ত্রী ও পুত্ররা জামায়াতকে আত্মীয়সম হিসেবে গ্রহণ করে তাদের মন্ত্রিত্বও প্রদান করেছিল। জামায়াতের আমির যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম স্বাধীনতার পর লন্ডনে বসে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ চালু করে। ১৯৭৭ সালে রাজাকার পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে জিয়া তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে অবাধে রাজনীতি করার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। আর তার উত্তরসূরি স্ত্রী তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেন। এদের শাস্তি প্রদানও করে আদালত। এতে ক্ষুব্ধ হয় একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা এবং তাদের প্রভু পাকিস্তান। সে দেশের সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের পাকিস্তানের ‘সাচ্চা’ নাগরিক হিসেবে অভিহিত করে শাস্তির বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করে। সে দেশের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল, এমনকি গায়েবানা জানাজাও হয়। পাকিস্তান স্বীকার করেছে জামায়াতী যুদ্ধাপরাধীরা তাদের দেশের নাগরিক। ঢাকায় পাকিস্তানী কূটনীতিককেও জঙ্গী সহায়ক এসব অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও নাশকতার ইন্ধনদাতা সেই বাহাত্তর সাল থেকেই। তাই দেখা যায়, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে বিজয়ী করার জন্য আইএসআই পাঁচশ’ কোটি রুপী দিয়েছিল বেগম জিয়াকে। দুবাই থেকে প্রকাশিত খালিজ টাইমস এ নিয়ে প্রতিবেদন ছেপেছিল। এমনকি সে দেশের হাইকোটও এই কথা বলেছে। পাকিস্তানের সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার কথা স্বীকার করা হয়েছিল। বিএনপি এ সম্পর্কে ‘টু’ শব্দটিও উচ্চারণ করেনি। অস্বীকার দূরে থাক। এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা সার্বিক সহায়তা প্রদান যে করবে তার আলামত অনেকদিন ধরেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার পূর্বাপর সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ডেকে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যার মতো নাশকতা চালিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। আর এতে মদদ দিয়েছিল আইএসআই। এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপিকে বসানোর জন্য বিএনপির দুর্নীতি ও গ্রেনেড হামলার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশকে প্রয়োজনে পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্র বানানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই পলাতক ব্যক্তি। যিনি লন্ডনে বসে এবার দলের ও ঐক্যজোটের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া শুধু নয়, মনোনয়ন বাণিজ্য করে সেই অর্থ হু-ির মাধ্যমে লন্ডনে নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে, বাংলাদেশের বিজয়ের মাসে পাকিস্তানী কূটনীতিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংসাদ প্রকাশিত হয়েছে। লন্ডন ও ঢাকায় পাকিস্তানী কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের খবর লুকোছাপা করা যায়নি। তবে বিএনপি তা অস্বীকার করেছে। কলকাতায় পাকিস্তানী ডেপুটি হাইকমিশনও ষড়যন্ত্রকারীদের পরামর্শ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে আনন্দবাজার মাস ছয়েক আগে প্রতিবেদন ছেপেছিল। আইএসআই বাংলাদেশে তাদের প্রভাব বিস্তারে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে এবার ঐক্যফ্রন্টকেও সহায়তা করছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতার গত ক’দিনের বক্তৃতা-বিবৃতি স্পষ্ট করে তিনি ষড়যন্ত্রকে মদদ দিচ্ছেন। পাকিস্তানীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সুবাদে আইএসআইয়ের কাছে এদের গুরুত্ব বেড়েছে। আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছে ঢাকা ও লন্ডনে গোপন বৈঠক বিষয়ে। সরকারের উচিত বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত, পর্যালোচনা শেষে জনগণকে তা জানানো। একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রের সকল দুয়ার বন্ধ করতে হবে। জনগণ ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলবেই।