২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুলিশের সেবা ১-০-০

ন্যাশনাল হেল্প ডেস্কের ৯৯৯-এর আদলে এবার চালু হচ্ছে পুলিশের সেবা ১-০-০। তবে তিন নয়ের সঙ্গে এক শূন্য-শূন্যের কিছুটা পার্থক্য আছে। প্রথমটিতে ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স অথবা পুলিশের সেবা মেলে। অন্যবিধ জরুরী সাহায্য-সহযোগিতা ও পরামর্শও মিলতে পারে। তবে পুলিশের হেল্প লাইনে ফোন দিলে প্রধানত পুলিশের সেবাই মিলবে, বিশেষ করে মামলা-মোকদ্দমা, চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি-জিম্মিদশা থেকে মুক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি। গত বছরের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরী সেবা-৯৯৯ চালু হওয়ার পর বেশ ভালই সাড়া পাওয়া গেছে জনগণের পক্ষ থেকে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে জরুরী সেবার আওতায় গত এক বছরে ৩৩টি সংযোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫ হাজারের ওপর কল এসেছে, যেগুলোর মধ্যে ৬০ হাজারের মতো কলের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এসব কলের মধ্যে পুলিশী সেবার হারই ছিল সর্বাধিক, ৫৫ শতাংশ। এরপরই ফায়ার সার্ভিসের জন্য ফোন কল এসেছে ২৯ শতাংশ এবং এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য গড়ে ১৬ শতাংশ। এ থেকে পুলিশী সেবা গ্রহীতার ব্যাপকতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা করা চলে বৈকি।

পুলিশের সেবার বিষয় অবশ্য একেবারে নতুন নয়। পুলিশ টেলিকম ও ইনফরমেশন ডেসপাস সেবা বর্তমানে পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। শীঘ্রই এই সেবার সম্প্রসারণ তথা দেশব্যাপী জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিটিআরসি সেবা প্রদানের জন্য পুলিশকে বরাদ্দ করেছে শর্ট কোড নম্বর ১-০-০। পুলিশ বিভাগ থেকে জনবল এবং যানবাহন বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো পুলিশকে জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে দাঁড় করানো। পুলিশ ও জনসাধারণের মধ্যে দূরত্ব কমানো, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশী সেবা প্রদান, সর্বোপরি সাধারণ মানুষের জন্য সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর ফলে একদিকে যেমন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা যাবে, তেমনি আস্থা অর্জন করা যাবে সাধারণ মানুষের। মানুষের মনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে পুলিশ সম্পর্কে। দেশের কোন্ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন, কোন্ অঞ্চলের মানুষ হেল্পডেক্সে ফোন বেশি করেন, কোন্ এলাকায় কি ধরনের সমস্যা বেশি, কোন্ এলাকায় কি ধরনের সেবা প্রয়োজন, সেসব খুব সহজে জানা এবং তদনুযায়ী সমাধান করা যাবে। এর মাধ্যমে এমনকি পুলিশের কার্যক্রম, ব্যাপ্তি, সুযোগ, দুর্বলতা ইত্যাদি সম্পর্কেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ ও সম্ভব হবে।

দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই যে, পুলিশ সম্পর্কে জনমনে ও সমাজে অদ্যাবধি নানা বিভ্রান্তি এবং ভীতি রয়ে গেছে। মূলত এই ধারণা গড়ে ওঠে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। পাকিস্তান আমলেও যা অব্যাহত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী সেই পুরনো ধ্যান-ধারণা ও সংস্কার থেকে অনেকাংশে মুক্ত এবং আধুনিক। মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাজারবাগ পুলিশ হেডকোয়ার্টার আক্রান্ত হলে তারাই প্রথম সর্বাত্মক ঝুঁকি নিয়ে গড়ে তোলে সশস্ত্র প্রতিরোধ। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদও তারাই। সুতরাং এই পুলিশ বাহিনী যে জনগণমুখী হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। নিকট অতীতে কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে পুলিশ যে ধৈর্য এবং সংযম প্রদর্শন করেছে তাও স্মরণযোগ্য। মাঝে-মধ্যে পুলিশের ভুলত্রুটি ও বাড়াবাড়ি যে হয় না তা নয়। তবুও বাংলাদেশের পুলিশকে গণবিরোধী বলা যাবে না কিছুতেই। সেক্ষেত্রে পুলিশী সেবা ১-০-০ যে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে অচিরেই তাতে কোন সন্দেহ নেই।