১২ ডিসেম্বর ২০১৮

বিএনপির ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার নেই : মতিয়া চৌধুরী

বিএনপির ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার নেই  :  মতিয়া চৌধুরী

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর ॥ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, বিএনপির ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা ইলেকশন ঠেকানোর জন্য রাতের বেলায় বাসে আগুন দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মা-বাবা মেয়েকে পুড়িয়ে মেরেছে, বাবার সামনে ছেলেকে খুন করেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেল লাইন জ্বালিয়ে দিয়েছে, পল্লী বিদ্যুত অফিসে আগুন দিয়ে প্রকৌশলীকে দগ্ধ করে মেরেছে।

মা-মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা মেরে শেষ করে দিয়েছে। তাই ওই সব অপকর্মের কৈফিয়ত দিয়ে বিএনপিকে ভোট নিতে হবে। তিনি ১২ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুর-২ আসনের নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ও চরঅষ্টধর ইউনিয়নে বিভিন্ন নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্যদানকালে ওইসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়। দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পায়। শ্রীহীন স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার সৌন্দর্য বাড়ে। নতুন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা হয়। দেশের মানুষের আয় বাড়ে। গ্রাম শহর হয়। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা মায়েরা ভাতা পায়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মী পালে, কর্মীদের মাস্তান, জুয়ারী ও মাদক কারবারি বানায়। টিআর কাবিটার টাকা নয়-ছয় করে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, জুয়া খেলা ইসলামে হারাম। অথচ তারেক রহমান ব্রিটিশ সরকারের কাছে তার আয়ের উৎস দেখিয়েছেন ক্যাসিনো। অর্থাৎ সে লন্ডনে থেকে জুয়ার ব্যবসা করে। ওইসময় তিনি উপস্থিত জনতাকে বলেন, বিদেশে বসে জুয়া খেলে ফ্ল্যাটে থেকে আরাম আয়েসে জীবন-যাপন করে তারেক। তাহলে কেমন জুয়ারী তারেক তা বুঝে দেখেন। এরা নাকি দেশে ইসলাম কায়েম করবে।

খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, যারা এতিমের টাকা মারে তারা মানবতার শত্রু। এতিমের মাথায় হাত বুলালে বেহেস্তে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। অথচ খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করে। ‘জেলখানায় বসে আওয়ামী লীগকে গালি দিয়ে লাভ নেই’ উল্লেখ করে তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে আপনার ভাই সাইদ এসকান্দারের ভাইরা ভাই জেনারেল মাসহুদ উদ্দিন। আমরা কি করব। ১১ বছর ওই মামলাটি আটকাতে আপনি তারে নারে, তারে নারে করেছেন। তখন মামলা শেষ হলে আজ আপনার এমন অবস্থা হতো না।

এদিন মন্ত্রীর সাথে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম সোহাগ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।