১২ ডিসেম্বর ২০১৮

ঐক্যফ্রন্ট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকবে ॥ ড. কামাল

  ঐক্যফ্রন্ট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকবে ॥ ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট ॥ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাদামাটা ভাবেই নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছে। গত ২৪ অক্টোবর জনসভা করে সিলেট থেকে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আয়োজন করা হলেও সেদিন ফ্রন্টের সেই সভা জনমনে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এরপর এবার সিলেট থেকেই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করল ঐক্যফ্রন্ট। বুধবার বিকেল চারটার দিকে সিলেট এসে পৌঁছান ড. কামাল, কাদের সিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এর আগে দুপুর বারোটা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছে ড. কামালের জন্য অপেক্ষা করছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও জেএসডি প্রধান আসম রব। বেলা দুটো ১০ মিনিটে সিলেট এসে পৌঁছার কথা থাকলেও ফ্লাইট বিলম্বের কারণে বিকেল চারটা ১৫ মিনিটে সিলেট এসে পৌঁছান তারা। বিমানবন্দর থেকে ড. কামালসহ নেতৃবৃন্দ হযরত শাহজালালের (রঃ) মাজারে যান। দুপুর থেকে মাজার এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের আগমনের অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল পৌনে পাঁচটায় জিয়ারত শেষে এই এলাকায় সিলেট-১ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের সমর্থনে গণসংযোগ করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। ঐকফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মালিক যে জনগণ তাদের মালিকানা থাকে না। জনগণের মালিকানা না থাকলে স্বাধীনতা থাকে না। স্বাধীনতার লক্ষ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন। মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রতিদিন আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত নয়। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকব। সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ তারিখ সকালে আপনারা ভোট প্রয়োগ করবেন। ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। দুই নম্বরী করতে দেবেন না। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়ে যাব আমরা। নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়া হবে না। তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ করতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ১০-১২ কোটি ভোটার। তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোট না দিলে দেশের মালিকানা রক্ষা হবে না। স্বল্প সময়ে ঐক্যফ্রন্ট অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট খুব কম সময়ে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যফ্রন্টের পক্ষেই আছে। ঐক্যফ্রন্ট কি কোন অবস্থাতেই নির্বাচন বর্জন করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন বর্জনের কোন আশঙ্কা নেই। ঐক্যফ্রন্ট ছিল, আছে, থাকবে। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট মাঠ ছাড়বে না।

মাগরিবের নামাজ আদায় করে হযরত শাহপরাণের (রঃ) মাজার জিয়ারত শেষে সেখানে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। বয়সের ভারে নুয়ে গেছেন প্রবীণ এই বুদ্ধিজীবী। ফ্রন্টকে টেনে নিয়ে যেতে শারীরিক ও বক্তৃতায় যে শক্তির প্রয়োজন সেটা এখন আর তার মাঝে অবশিষ্ট নেই। উদ্যমী নেতাকর্মীরা এখন নেতার কণ্ঠে বাঘের গর্জন আশা করে। যে গর্জন শুনে নেতাকর্মীরা মাঠে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়বে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে ড. কামালের নেতৃত্বে ফ্রন্টের এই যাত্রা ছিল প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মিছিলের মতো। ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সিলেট সফর উপলক্ষে নগরীর রেজিস্টারি মাঠে জনসভা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনসভা না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবশেষে তারা দরগাহ প্রধান ফটকের মুখে নেতৃবৃন্দের বক্তৃৃতার আয়োজন করেন। অনুমতি না থাকায় মাজারের ফটকের কাছে ঐক্যফ্রন্টের পথসভার মাইক খুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এছাড়া সেখানে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চের চেয়ার-টেবিলও জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়।