২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হলিউড বক্স অফিসের সেরা পাঁচ ২০১৮

  • সারতাজ আলীম

হলিউড নামটি শুনলেই মনে ভেসে উঠে চোখ ধাঁধানো কোন এ্যাকশন বা মিষ্টি চেহারার কোন অভিনেত্রীর কথা।

বছরটা প্রায় শেষ হতে চলল। এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি ছবি মুক্তি পেয়েছে হলিউড থেকে। কোনটির জন্য দর্শকের আগ্রহ ছিল আকাশচুম্বী। প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির হিসাবে কিছু ছবি উতরে গেছে, কিছু হয়েছে ব্যর্থ। সময় এসেছে বছরের সেরা কিছু সিনেমার দিকে ফিরে তাকানোর। একনজরে তাহলে দেখে নেয়া যাক এ বছর সর্বোচ্চ আয় করা ৫টি হলিউড সিনেমা।

এভেঞ্জার ইনফিনিটি ওয়্যার

এ বছরের সবচেয়ে প্রত্যাশিত সিনেমা ছিল এটি। পরিচালকদের ওপর চাপ ছিল। এতসব সুপারহিরোদের মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ঠিকঠাক হাজির করাতে পারবেন তো তারা। নির্মাতারা সফল, দর্শকরাও দুর্দান্তভাবে উপভোগ করেছেন ছবিটি। ইনফিনিটি ওয়্যার সবমিলে যেন একটা উৎসব। প্রত্যেক সুপারহিরোর ফ্রেন্ডরা এসে যেন এক হয়েছেন এই উৎসবে। পাথুরে মুখের থানোস, যার ক্ষমতার আন্দাজ নেই কারোর। হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে ইনফিনিটি স্টোন। সব সুপারহিরো মিলে কি থামাতে পারবে তাকে?

ছবিটি সবমিলে আয় করেছে ২.৮ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়াও সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবির তালিকায় ইনফিনিটি ওয়্যারের অবস্থান চারে।

ব্ল্যাক প্যানথার

আয় বা গল্পের কথা বলার আগে দুটি দারুণ দিক জেনে নেয়া যাক। সাদাদের ভিরে কৃষ্ণ বর্ণের সুপারহিরো ব্ল্যাক প্যানথার। এছাড়াও রক্ষণশীল সৌদিআরবের সিনেমা প্রদর্শন শুরু হয় এই সিনেমাটি দিয়ে। এর পূর্বে সিনেমা প্রদর্শন সেখানে নিষিদ্ধ ছিল।

ছবির শুরু হয় ওয়াকান্ডার অতীত ইতিহাস দিয়ে। তারপরের গল্পটা রাজপুত্র টি’চালা এর রাজা টি’চালা হয়ে ওঠা নিয়ে। শেষে নিজেদের খোলস ছেড়ে বিশ্বের কাছে বেড়িয়ে আসার অসাধারণ গল্পে সিনেমাটি জয় করেছে সবার মন। দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, মারাত্মক সব এ্যাকশন আর অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সঙ্গে একটা সুন্দর গল্প চোখ পর্দায় আটকে রাখতে বাধ্য করে।

মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক সাড়া ফেলা দেয়া ছবিটি আয় করেছে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার।

জুরাসিক ওয়ার্ল্ড ফলেন কিংডম

দর্শক কি অতিকায় প্রাণীর দৌড়াদৌড়ি দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন? তবে ১ম সিনেমার ঠিক ২৫ বছর পর মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি শুধু ডাইনোসরের দৌড়াদৌড়ির চেয়ে অনেক বেশি কিছু। মানুষ বনাম ডাইনোসরের চেয়েও যে ভয়ানক কিছু হতে পারে তাই যেন ফুটে উঠে ছবিতে।

ডাইনোসরদের আবাসস্থল জীবন্ত এক আগ্নেয়গিরির আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। তাদের বাঁচানোর সিদ্ধান্তে দোটানা এবং ভয়ঙ্কর প্রাণীদের থেকেও ভয়ঙ্কর ‘কালোবাজারিদের’ হাতে পড়া নিয়ে এবারের গল্প। শেষ পর্যন্ত জুরাসিক পার্কের জুরাসিক ওয়ার্ল্ড হয়ে ওঠার গল্পটা দেখতেই হয়।

সমালোচকদের মতে পূর্বের থেকে গল্প এবার বেশ দুর্বল। স্পেশাল ইফেক্টসে যদিও এই ছবির প্রশংসা করতে হবে। দিনশেষে ছবিটি আয় করে নিয়েছে ১.৩০ বিলিয়ন ডলার।

ইনক্রেডিবলস ২

হলিউডে এখন চলছে সুপারহিরোদের যুগ। এত কিছুর ভিড়েও আনিমেশনে খুনসুটি আর ফ্যামিলি ড্রামার আবেদন হারিয়ে যায়নি সেটাই ইনক্রেডিবলস আবার প্রমাণ করে দিল। দিলে গেল ১৪ বছর আগের প্রথম পর্বের মতোই তৃপ্তি।

প্রথম সিনেমাটি যেখানে শেষ হয়েছিল সেখানেই শুরু দ্বিতীয়টির। বড় অবদানের পরেও শহরের ধ্বংসযজ্ঞের দায় আসে সুপারহিরোদের উপর। নানা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে সুপারহিরোদের গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে চায় এক মেধাবী ব্যবসায়ী। এরই মধ্যে আগমন ঘটে ভিলেনের। একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে ইনক্রেডিবলরা!

২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ছবিটি তুলে নিয়েছে ১.২ বিলিয়ন ডলার।

ভেনম

ভেনমকে শুরুতে ভাবা হচ্ছিল সুপার ফ্লপ। কিন্তু বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির বক্স অফিসে দৌড় এখনও শেষ হয়নি। সিনেমার শুরু এক রকেট দুর্ঘটনা থেকে। রকেটে বহন করা হচ্ছিল এক ধরনের মিথোজীবী প্রাণীদের যাদের বেঁচে থাকতে অন্যের দেহ প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ঘটনায় ১টি প্রাণী হারিয়ে যায়। ঘটনাক্রমে রকেট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের অমানবিক কিছু কাজের অনুসন্ধানে গিয়ে সবকিছুতে জড়িয়ে পড়ে এক সাংবাদিক।

টম হার্ডির দারুণ অভিনয়, গ্রাফিক্স এবং এ্যাকশনে ভরপুর এই সিনেমা এরই মধ্যে তুলে নিয়েছে ৮৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি। বক্স অফিস অবলম্বনে