২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২২০ আসনে জয় পাবে আ’লীগ ॥ জয়

২২০ আসনে জয় পাবে আ’লীগ ॥ জয়

অনলাইন ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিশ্বাস, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের দল আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ২২০ আসনে জয় পেতে যাচ্ছে।

ভোট সামনে রেখে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারকে (আরডিসি) দিয়ে করানো এক জরিপের ফলাফলে এই পূর্বাভাস এসেছে বলে বৃহস্পতিবার এক ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছেন জয়।

তিনি লিখেছেন, “এই জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং ১৯৯১-২০০৮ এর নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর আমার বিশ্বাস যে, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে ১৬৮ থেকে ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে।”

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনে ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন একক প্রার্থীরা।

এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২৩২টি আসনে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি ৩৩টি, ওয়াকার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ পাঁচটি, জেপি একটি, তরিকত ফেডারেশন একটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৩টি আসনে জয় পান।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছিল৷ দুই বছর জরুরি অবস্থার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০, বিএনপি ২৯, জাতীয় পার্টি ২৭, জাসদ তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, এলডিপি একটি, বিজেপি একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটি আসনে জয়ী হন।

জয় বলছেন, আরডিসির জরিপে ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা এবার আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন। এর ভিত্তিতে তিনি আশা করছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ২০০৮ সালের নির্বাচনকেও ছড়িয়ে যাবে।

গত আগস্ট মাসে করা এই জরিপে ৫১টি আসনে ৫১ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জয়।

তিনি লিখেছেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল নির্বাচনের ফলাফল দেখে ওই ৫১টি আসন বেছে নেওয়া হয়েছে। এই আসনগুলোর ভোটারদের মধ্যে একেক নির্বাচনে একেক দলের প্রার্থীদের জয়ী করার প্রবণতা বেশি। আর বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের পার্থক্যও থাকে কম। এই আসনগুলো নিয়েই আওয়ামী লীগ ‘সবচেয়ে বেশি চিন্তিত’ ছিল।

জয়ের জরিপের ফলাফল বলছে-

>> ৫১টি আসনেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে

>> সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা জয়পুরহাট-১ আসনে, সেখানে ভোটের ব্যবধান হতে পারে ১২.২ শতাংশ পয়েন্ট

>> সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা বরিশাল-৪ আসনে, ভোটের ব্যবধান হতে পারে ৭৫ শতাংশ

জরিপের ফলাফল তুলে ধরে জয় লিখেছেন, এখনো সিদ্ধান্ত নেননি এমন ভোটার সবচেয়ে কম দেখা গেছে টাঙ্গাইল-৩ আসনে, দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। এ আসনে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। আর সাতক্ষীরা-৩ আসনের ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা সিদ্ধান্তহীনতার কথা বলেছেন। সেখানে আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যবধানে।

“গড়ে আওয়ামী লীগের জন্য সমর্থন ৬৬ শতাংশ মানুষের, বিএনপির জন্য ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ, আর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নেননি।”

যারা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি, তাদের হারের চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থনের হার অনেক বেশি দাবি করে জয় লিখেছেন-

>> জরিপের কোনো আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য দশ শতাংশের এর মধ্যে নেই

>> দুটি আসনে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ২০ শতাংশ

>> ৫১টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ৫০ শতাংশের বেশি

জয় লিখেছেন, “সমর্থনের পার্থক্য ১০ শতাংশের বেশি হলেই দ্বিতীয় দলটির জন্য তা পার করা মোটামুটি অসম্ভব হয়ে যায়, আর ২০ শতাংশের বেশি পার্থক্য থাকলে একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেও তা টপকানো সম্ভব হয় না।”

জরিপে তিন শতাংশ ‘মার্জিন অফ এরর’ এবং কনফিডেন্স লেভেল ৯৫ শতাংশ ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়।

গত জুলাইয়ে রাজশাহী, সিলেট এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও আরডিসিকে দিয়ে একটি জরিপ করিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সে জরিপে বরিশাল ও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে সিলেটে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত সিলেটে বিএনপি প্রার্থী ছয় হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। আর বাকি দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বড় জয় পান।

ওই জরিপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জয় লিখেছেন, “আমার পেইজ থেকে সেই জরিপটিও শেয়ার করি, যার ফলাফল নির্বাচনের ফলাফলের সাথে মোটামুটি ভালোই মিলেছিল।”