২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পোশাক খাতকে বিশৃঙ্খল করার অপচেষ্টা চলছে

পোশাক খাতকে বিশৃঙ্খল করার অপচেষ্টা চলছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ নতুন বেতন নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পোশাক খাতকে বিশৃঙ্খল করার অপচেষ্টা করছে বলেও মনে করেন তিনি।

ভয়-ভীতি দেখিয়ে যারা বিভিন্ন কারখানার পোশাক শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালনে বাধ্য করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওয়াতায় আনার আহবান জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর নেতা ও কয়েকটি কারখানার মালিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘গাজীপুর ও আশুলিয়ার প্রায় ৫০টি কারখানায় কর্মবিরতির খবর পাওয়া গেছে। ৪ থেকে ৫ দিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে এই কর্মবিরতির সূত্রপাত। আন্দোলনের মাত্রা জানতে চাইলে সিদ্দিকুর বলেন, ‘দুপুরের পর তারা কাজ করছে না। হঠাৎ রাস্তায় নেমে আসছে। গাড়ি ভাঙচুর করছে। কোনো কিছু না বলেই বের হয়ে যাচ্ছে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরির গেজেট প্রকাশিত হয় গত ২৯ নভেম্বর, যা বাস্তবায়ন হবে ডিসেম্বর মাসের বেতনে এবং পরিশোধ করা হবে আগামী জানুয়ারির ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমাদের একান্ত অনুরোধ, জানুয়ারি মাসে আপনাদের বেতন প্রাপ্তির পর যদি কোনো শ্রমিক ভাই বা বোনের আপত্তি থাকে, তা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষ যদি তা সমাধান না করতে না পারেব, তাহলে বিজিএমইএর কাছে আসবেন। এরপরেও যদি মনে করেন আপনি খুশি নন তাহলে সরকারের কাছে যাবেন।’

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি পাওয়ার আগে কোনো আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নেই। আপনাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আসন্ন নির্বাচনের আগে আপনাদের উসকানি দিয়ে অপরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, ২০১৮ সালের এই মজুরি গেজেট ২০১৩ সালের মজুরি গেজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করা হয়েছে। তাহলে কারা এই প্ররোচনার সৃষ্টি করছে? আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, যারা আমাদের নিরীহ শ্রমিক ভাইবোনদের বিভ্রান্ত করে, তাদেরকে প্ররোচনা দিয়ে পরিস্থিতি অস্তিতিশীল করতে চাইছে, তাদেরকে আইনের আওয়াতায় আনুন৷

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর বলেন, শ্রমিকদের উদ্দেশে বলতে চাই এমন কিছু করবেন না যাতে ক্রেতাদের আস্থা বিনষ্ট হয়। কারণ ক্রেতারা মুখ ঘুরিয়ে নিলে আপনারা কর্মহীন হয়ে পড়বেন, যা কাম্য নয়।

পোশাক মালিকদের এই নেতা আরও বলেন, ১৫ দিন আগে গেজেট হয়েছে, এখন তিন চারদিন ধরে কেন কথা বলছে? কারণ ইলেকশনের সামনে একটি মহল সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা পেছনে আছেন, উসকানিদাতা তাদের আইনের আওয়াতায় আনতে হবে। এই সেক্টর নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। নিরীহ ভাই বোনদের নিয়ে কেউ খেলাধুলা করবেন না।

সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি ও হামীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা কিছুক্ষণ বসে থাকে, কাজ না করে চলে যায়। অনেকেই বলছে, তাদের বেতন কমে গেছে। কয়েকটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে না। টিফিনের পর কাজ করে না। গাড়িতে ঢিল মারছে। ফ্যাক্টরিতে ঢিল মারছে। আমি কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি, তারা ঠিকমতো তাদের সমস্যার কথাও বলতে পারছে না।’

এ কে আজাদ আরও বলেন, ‘দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেছে বেছে ফ্যাক্টরিকে টার্গেট করা হচ্ছে। আজ আমার ফ্যাক্টরিতে বিদেশিরা এসেছিল। হেলিকপ্টার দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এই মেসেজ তো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। তাই শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহবান জানান পোশাক কারখানার এই পোশাক মালিকও।’