২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘সহিংসতা সৃষ্টিতে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্তার বিষয়টি দেশবাসী অবগত’

‘সহিংসতা সৃষ্টিতে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্তার বিষয়টি দেশবাসী অবগত’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সহিংস উগ্রবাদ, জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িকতা দমনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মসূচী উল্লেখ থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি বলেন, সহিংস উগ্রবাদ সৃষ্টিতে বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্তার বিষয়টি দেশবাসী অবগত।

দেশের সাধারণ মানুষ সব সময় উগ্রবাদ, জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের মদদপুষ্ট বাংলা ভাই, হুজিসসহ বিভিন্ন সহিংস উগ্রবাদী ও জঙ্গী সংগঠনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কর্মসূচীসমূহকে স্বাগত জানিয়ে জনগণ তা বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই সহিংস উগ্রবাদ, জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িকতার উন্মাদনা সৃষ্টির দায় বিএনপি-জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দলগুলো কখনো এড়াতে পারে না।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সহিংস উগ্রবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। এটি বিভিন্ন দেশে নানা প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে উগ্রবাদ থেকে সহিংসতা এবং সহিংসতা থেকে জন্ম নেয় জঙ্গীবাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক অনেক আগেই সহিংস উগ্রবাদ, জঙ্গী ও সম্প্রদায়িক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সফলতাও দেখিয়েছেন। জিরো টলারেন্স দেখিয়ে এসব অপ শক্তির বিরুদ্ধে নানা উপায়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি অভিযান কর্মসূচীর পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায় থেকেও সক্রিয় উদ্যোগ আসতে হবে। এক্ষেত্রে গণ জাগরণ সৃষ্টিতে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে দেশের গণ মাধ্যম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ সহিংস উগ্রবাদ প্রতরোধ : গণমাধ্যম সহায়িকা ’ মিডিয়া রিসোর্স গাইডের মোড়ক উন্মোচন এবং ‘ সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভুমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ তথ্য কমিশনের সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান এর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. রফিকুজ্জামান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামাল, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি কল্যাণ সাহা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সেন্টারের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু , বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মমতাজ বিলকিস বানু, ডিপ্লোমেটিক কারেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশনের মহাসচিব মাহফুজ মিশু , ঢাকা ট্রিবিউন এর নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফাহমিদুল হক প্রমুখ।

বুক রিভিউ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা ও দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার শেখ সাবিহা আলম।

ড. অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদে বিশ্ব আজ খুব চিন্তিত। বাংলাদেশের অবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথাযথ কঠোর কর্মসূচী গ্রহণে সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়লেও অস্তিত্বহীন হয়ে যায়নি। সমন্বিত উদ্যোগে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। অভিযানের অংশ হিসেবে জন মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ দুষিত হয়ে পড়ার কারণে এসব উপ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা পারভিন বলেন, সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গি এখন বৈশ্বিক সমস্যা। এককভাবে সরকারের পক্ষে তা নির্মূল করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে পরিবারিক ও সামাজিকভাবেও কর্মসূচী থাকতে হবে।

সাংবাদিক নেতা খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, যেকোন উগ্রবাদবেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহিংসতায় ধাবিত হয়। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গি দমনে ভুমিকা রাখতে পারে সাংবাদিক সমাজ।

গোলটেবিলে অন্য আলোচকবৃন্দ বলেন, সহিংস উগ্রবাদ ও জঙ্গী দমনে সমন্বিত কার্যক্রমের বিকল্প নেই। সমাজে শান্তি ও সহনশীলতা উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে গণ মাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু দিবসে কিংবা উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা না ঘটলে সহিংস উগ্রবাগ বিষয়ক খবরাখবর সাধারণত গণমাধ্যমে আসে না। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকবৃন্দ।