১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাংকিংখাত নিয়ে সিপিডি’র বক্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত : অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকিংখাত নিয়ে সিপিডি’র বক্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত :  অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংকিংখাত নিয়ে সিপিডি’র বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) সম্প্রতি যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা ঠিক নয়। এছাড়া বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঋণ সহায়তার, প্রথম বছরের অংশ হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় ১২ ডিসেম্বর অনুমোদন লাভ করেছে। এর ফলে দেশে ব্যাপকভিত্তিতে কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পগুলোতে বেসরকারীখাতের বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আর বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়টিও অর্থমন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করা হয়। মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, সিপিডি’র বক্তব্য রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

এই সংগঠনিট গত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আসছে। ব্যাংকিংখাত নিয়ে সংস্থাটি যে বক্তব্য দিয়েছে তা বছরের অধিকাংশ সময়ে পত্রপত্রিকায় এসেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু বড় ঋনের টাকা ফেরত আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টাকা আসবে। সিপিডি যেভাবে অর্থ লোপাট হওয়ার কথা বলছে তা সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ঢাকার একটি স্থানীয় হোটেলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আমাদের করণীয় কী’ শীর্ষক এক সেমিনারের সিপিডি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, গত এক দশকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার নামে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। ওই সেমিনারে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ব্যাংকিংখাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। সুশাসনের অভাবে বিভিন্নভাবে লুটপাট হওয়ায় পুরো আর্থিকখাতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সংলাপের মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে বলেন, গত ১০ বছরে ব্যাংকিংখাত থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। সংস্থাটির মতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল অবধি সরকারী-বেসরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলিয়ে ১৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসব অর্থ খোয়া গেছে। এছাড়া এ খাতের প্রকৃত চিত্র চিহ্নিত করতে আগামী সংসদ নির্বাচনের পর নাগরিক কমিশন গঠন করার ঘোষণা দেয় সিপিডি।

সিপিডি’র পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার পর অর্থমন্ত্রী বুধবার সিলেটেও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ওই সময়ও তিনি সংগঠনটির এই বক্তব্যকে ‘রাবিশ’ বলে অভিহিত করেন।

কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ॥ কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দিবে বাংলাদেশকে। তিন কিস্তিতে প্রদেয় এই ঋণের প্রথম কিস্তি ২৫০ মিলিয়ন ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদন হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আধুনিকায়ন, শ্রমিকের অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সকল শ্রেণীর মানুষের কর্মে অধিকতর প্রবেশে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এ সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতি-কৌশল সংস্কারের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই এই ঋণ দিচ্ছে বলে মনে করে অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রণালয় মনে করে এই ঋণ অনুমোদন বর্তমান সরকারের প্রতি বিশ্বব্যাংকের আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারীত্বমূলক সম্পর্ক আরও গভীরতর হবে বলে সরকার মনে করে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ব্যবসা-বানিজ্য, আমদানি-রফতানি সহজীকরণ ও কর্ম পরিবেশ উন্নতকরণে আইন-বিধি, নীতি-পদ্ধতি সংস্কার কাজে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। দ্রুত দারিদ্র হ্রাস, আয় বৃদ্ধি ও চলমান জনমিতি লভ্যাংশকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নে আরও গতি সঞ্চারের জন্য কর্মসংস্থানের যথাযথ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয় এই যে, কর্মসংস্থানের সুযোগ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম হয়েছে। শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত ও বহুমুখী করার উদ্দেশ্যে শিল্প ও বানিজ্য পরিবেশের আধুনিকায়ন, শ্রমিকের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকহারে কর্মে প্রবেশের উপযোগী নীতি-কর্মসূচী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক কর্মসংস্থান কর্মসূচীভিত্তিক নীতি-কৌশল ঋণ সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছে। আগামী ৩ বছর মেয়াদী (২০১৯-২০২২) আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা হতে বাংলাদেশ সর্বমোট ৭৫০.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ঋণ সহায়তা লাভ করবে। গত দশ বছরে বাংলাদেশে এটি বিশ্বব্যাংকের প্রথম নীতি-কৌশল ঋণ সহায়তা।