১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাশরাফি খেলার মাঠে, হাজার মাশরাফি ভোটের মাঠে

রিফাত-বিন-ত্বহা, নড়াইল ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিততে খেলার মাঠে লড়াই করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকা এবং মাশরাফির পক্ষে এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার পক্ষে ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন হাজার মাশরাফিভক্ত।

এক মাশরাফি খেলার মাঠে, হাজার মাশরাফি এখন ভোটের মাঠে এই সেøাগানে মাশরাফির পক্ষে পথসভা, গণসংযোগ আর উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। ভোটের মাঠে মাশরাফিকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে ভোটের মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ এবং হাজার- হাজার মাশরাফিভক্ত ও নৌকা সমর্থকরা। মাশরাফি ভোটের মাঠে না থাকলেও নির্বাচনে তার কোন প্রভাব পড়বেনা। এ আসনে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে মাশরাফি জয়ী হবে-জানালেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা। নড়াইল-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৮২জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১শ ৫জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬শ ৭৭ জন। পুরুষ ভোটার থেকে নারী ভোটার রয়েছে ৩ হাজার ৫শ ৭২ জন বেশি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ বরাবরই ভাল ফলাফল করেছে। ৭৩, ৯১, ৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জয়লাভ করে। আসনটিতে ৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি এবং ১৯৭৯ এবং ২০০১ উপ-নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে। নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ছাড়াও ৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন দলের হয়ে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সভাপতি এ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল প্রতীক) এনপিপির (ছালু) জেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম (আম প্রতীক) ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম নাসির উদ্দীন (হাতপাখা প্রতীক) ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান (মিনার প্রতীক) এবং ঋণখেলাপীর দায়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর আপীলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (রব) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকির শওকত আলী (তারা প্রতীক) নির্বাচন করছেন। মাশরাফির বিপক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী এসব প্রার্থী হালে পানি পাচ্ছে না। মাশরাফির পক্ষে প্রচারে নারী-পুরুষ ও সাধারণ মানুষের ঢল নামছে।

মাশরাফি খেলায় ব্যস্ত থাকলেও নেতাকর্মীরা আছেন ভোটের মাঠে। এ ক্ষেত্রে ভোটারসহ বিভিন পেশার মানুষের মন্তব্য- মাশরাফি লড়ছেন বাংলাদেশের জন্য আর হাজার-হাজার নেতাকর্মী ভোটের মাঠে লড়ছেন মাশরাফির জন্য। মাশরাফিভক্তরা জানান, মাশরাফির কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। মাশরাফি খেলার মাঠে থাকলেও সর্বদা আছেন ‘নড়াইলবাসীর হৃদয়ে’। এই আসনের ভোটাররা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজাকে আপাতত ভোটের মাঠে না পেলেও তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী, ভক্তসহ বিভিন শ্রেনী ও পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। মাশরাফিকে বিজয়ী করতে দলীয় সবাই ঐক্যবদ্ধ বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। মাশরাফির বন্ধু সুমন দাস বলেন, নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মাশরাফির জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৯ সালের এসএসসি পর্যায়ের বন্ধুরা। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের এসএসসির বন্ধুরাও মাশরাফির জন্য বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত অবধি বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মাশরাফির পক্ষে মতবিনিময়, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ করেছে তার বন্ধুরা। মাশরাফি খেলার মাঠে থাকলেও প্রচার থেমে নেই বলে জানান তিনি।মাশরাফির বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন জানান, খেলা শেষ করে ১৭ ডিসেম্বর নড়াইলে আসতে পারে মাশরাফি। নড়াইলে এসে নির্বাচনী প্রচারে- অংশগ্রহণ করবে মাশরাফি।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ মাশরাফির নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, মাশরাফি নির্বাচন করলে এমপি এবং মন্ত্রী হবেন বলে মনে করেন তারা। ফলে অবহেলিত নড়াইলের সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী । নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস সাংবাদিকদের জানান, মাশরাফি দেশের জন্য ক্রিকেট খেলছে। আর নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাশরাফিকে (নৌকা প্রতীকে) বিপুল ভোটে জয়ী করতে বিরামহীন কাজ করছে। মাশরাফি ভোটের মাঠে না থাকলেও নির্বাচনে তার কোন প্রভাব পড়বেনা।