১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়ার আলোচিত দুই শখের প্রার্থী

সমুদ্র হক ॥ বগুড়ার দুই আলোচিত প্রার্থী। একজন প্রবীণ তবিবর রহমান (৬৫)। আরেকজন কম বয়সী হিরো আলম (২৮)। তবে তার পৈত্রিক প্রদত্ত নাম শুধু আলম। যদিও দু’জনই বলছেন জনগণের উন্নয়নে কাজ করবেন। তবে তাদের আচরণ বলে দেয়- তারা ‘শখের প্রার্থী’।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের সঙ্গে কলার ছড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তবিবর রহমান। তিনি সোনাতলা এলাকার পরিচিত মুখ। বাড়ি চকনন্দন গ্রামে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তিনি বিশ্বাসী, এমনটি দাবি করেন। কেন নির্বাচনে এলেন এমন প্রশ্নে বলেন, শেষ বয়সে এমপি হওয়ার শখ হয়েছে। এমপি হতে পারলে তিনি সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর করবেন। বগুড়ায় বিমানবন্দর করবেন।

এদিকে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে তোলপাড় তুলেছেন হিরো আলম। মহাজোট, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে তিনি সাত নম্বর প্রার্থী। তার বাড়ি নন্দীগ্রাম এলাকায়।

বাবা আহম্মেদ আলীর মৃত্যুর পর তিনি বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকায় আশরাফুল হোসেনের বাড়িতে আশ্রিত হন। তিনি তাকে পুত্র স্নেহে লালন করেন। আলম সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।

এরুলিয়া এলাকায় কেবল সংযোগের ব্যবসা শুরু করেন। বাকপটু হওয়ায় জনপ্রিয়তা পান। স্ত্রী, ২ মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে সংসার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই বার মেম্বর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিত করে হেরেছেন। তিনি ইউটিউবে বিচিত্র ঢঙ্গে নানা ধরনের কমেডি অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। এরপর মিউজিক ভিডিও বানিয়ে এগিয়ে যান। বিচিত্র পোশাক পরেন।

প্রতিদিন পোশাক পাল্টান। ভার্চুয়াল জগতে তার লাইক এত বেশি পড়ে যে তাল হারা হয়ে পড়েন। নিজের নাম দেন ‘হিরো আলম’। ইউটিউব অনুষ্ঠান ও মিউজিক ভিডিওর জন্য তিনি পছন্দের শিল্পীদের নিয়ে ভারতে গিয়েও স্যুটিং করেছেন। একাদশ সাধারণ নির্বাচনে শখ হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রথমে যোগদান করেন জাতীয় পার্টিতে (জাপা)।

জাপা মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। যাচাই বাছাইয়ে ভোটারদের স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। উচ্চ আদালতে আপীল করেন। প্রার্থিতা ফিরে পান।