২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মে’র আস্থা ভোট লাভ

  • জনসনের স্বপ্নভঙ্গ, বেকায়দায় প্রতিপক্ষ

অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। বুধবার রাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ২০০-১১৭ ভোটে তিনি দলীয় নেতৃত্বের পরীক্ষায় পাস করেন। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি আনে। মে’র জয় তার প্রতিপক্ষ বিশেষ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের রাশ টেনে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি, এএফপি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার শর্ত নির্ধারণে ব্রেক্সিট চুক্তি থেকেই অনাস্থার সূত্রপাত। এ নিয়ে দুই দুই জন ব্রেক্সিট মন্ত্রীর পাশাপাশি পদত্যাগ করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। পদত্যাগের ধারা অবশ্য থামেনি। একের পর এক মন্ত্রী ও এমপি পদত্যাগ করেছেন। বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন মে’র ব্রেক্সিট বিষয়ক চুক্তির বিরোধিতা করে। এমন অবস্থায় নিজ দলের সদস্যরাই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান। জনসন ও তার সমমনাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল ইউরোপীয় রিসার্চ গ্রুপ বা ইআরজি। আস্থা ভোটে মে’র জয় ইআরজির দুর্বলতাই তুলে ধরল। বিশ্লেষকরা বলছেন, মে’কে ঘায়েল করার জন্য তার প্রতিপক্ষ ভুল সময়ে একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিল। মে তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় ইইউ নেতৃবৃন্দের সম্মতি আদায়ের কয়েক দিন পর অনাস্থা ভোট আনা হয়। এটি তার নেতৃত্বকে খর্ব করার পরিবর্তে আরও জোরদার করে। জুলাইয়ের প্রথম দিকে মে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে তার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জনসন।

আস্থা ভোটে টিকে থাকার জন্য মের দরকার ছিল ১৫৯ ভোট। ১৭৪ জন টোরি এমপি ভোটের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তারা মের পক্ষে ভোট দেবেন। আর বিপক্ষে ভোট দেয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে ছিলেন ৩৪ জন। আরও এক বছরের জন্য কনজারভেটিভ পার্টির পার্লামেন্টরি প্রধানের পদ নিশ্চিত থাকল মের জন্য। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে নতুন কোন আস্থা ভোটের দাবি গৃহীত হবে না। তবে মে বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষ আর দাঁড়াবেন না। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর যোগাযোগমন্ত্রী ক্রিস গ্রেলিং বলেছেন, এটা একটা কঠিন দিন ছিল তাদের জন্য। তবে দিন শেষে মে ব্যাপক সংখ্যক সংসদ সদস্যের ভোট পেয়েছেন। কনজারভেটিভ পার্টি এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে আগাবে। ২০১৬ সালে মের নেতৃত্বের প্রতি যত এমপি সমর্থন জানিয়েছিলেন, এবার তার চেয়ে বেশি এমপির ভোট পেয়েছেন। আস্থা ভোটে দলের ২০০ জন সংসদ সদস্য মের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ১১৭ জন। ক্রিস গ্রেলিং ২০০ এমপির সমর্থন পাওয়াটাকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন। সমালোচকরা বলেছেন, যিনি নিজ দলের ১১৭ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন হারিয়েছেন তার নেতৃত্বে থাকা উচিত নয়। শ্যাডো চ্যান্সেলর ম্যাকডোনেল টুইটার বার্তায় ১১৭ জনের অনাস্থা জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক দল এসএনপির সংসদ সদস্য আয়ান ব্ল্যাকফোর্ডও ১১৭ জনের অনাস্থার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। তার ভাষ্য, ওই ১১৭ জন কনজারভেটিভ সংসদ সদস্যের মতো তার দলও চায় না মের সরকার টিকে থাকুক। কিন্তু মে জিতেছেন এবং আগামী এ বছরের জন্য কনজারভেটিভ নেতৃত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কোন আস্থা ভোটের আবেদন গৃহীত হবে না। এর আগে সোমবার ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি স্থগিত হওয়ার পর মে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মে মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। আস্থা ভোটে জেতার মে আবার কূটনৈতিক মিশন শুরু করবেন বলে জানা গেছে।