১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সহিংস ভোটযুদ্ধ!

ভোটের বাদ্য বাজছে সর্বত্র। নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বইছে নির্বাচনী হাওয়া। শীতের আমেজে শীতার্ত বাতাসে প্রকম্পিত হচ্ছে স্লোগান। সংবিধানের পথ ধরেই দেশে একাদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আগামী ত্রিশে ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হবে তিনশ’ সংসদীয় আসনে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দলগুলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমে পড়েছে। জোটভুক্ত দলগুলোর অনেক দলই আবার এককভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়ন জটিলতা অনেক ক্ষেত্রেই কাটেনি জোটগুলোর। তথাপি দ্রুত মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট ঝুট ঝামেলা নিষ্পত্তি করার কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে জোটগুলো। একই সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা নামমাত্র পর্যায়ে আনতে পেরেছে। তা অবশ্য জোটগুলোর কৃতিত্ব বলা যায়। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রাথীরাও নেমেছেন প্রচারে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশেই শুরু হয়েছে প্রথম দিনের নির্বাচনী প্রচার। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দু’নেতাকে হত্যা করা হয়েছে প্রতিপক্ষ কর্তৃক। ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। চলছে ভোটের দিন উপলক্ষে ক্ষণ গণনা। প্রার্থীদের পক্ষে চলছে ‘শোডাউন’। সদলবলে ছুটছেন ভোটারের বাড়ি বাড়ি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিসে। কোলাকুলি এবং কুশল বিনিময় চলছে। মিছিল, গণসংযোগ পথসভা, উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও মনোসংযোগের কাজ চলছে। পোস্টার ও লিফলেট ছাপানোর কাজ চলছে জোরেশোরে। নির্বাচনী জোয়ারে ভাসা দেশে জনগণের মধ্যেও শুরু হয়েছে ভোটের উৎসবে মেতে ওঠার গানে উচ্ছ্বসিত হবার লগন। নির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ক্রমশ ঘোলাটে হচ্ছে। তবে জনগণ স্বস্তিতে রয়েছে যে, দেশ অসাংবিধানিক পথ ও পন্থায় যাচ্ছে না। শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় সংবিধানের পথ ধরেই হতে যাচ্ছে নির্বাচন। সংবিধান বহির্ভূত অনির্বাচিত সরকার ব্যবস্থার যে দাবি করা হয়েছে, তা জনগণ অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি আদালতও অনির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থার বিপরীতে। দেশবাসী উদ্বেগ ও শঙ্কামুক্ত এই কারণে যে, অনির্বাচিত অসাংবিধানিক সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশকে বিপথে নেয়ার সব আয়োজন ভেস্তে গেছে। দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে তিরোহিত। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে নেই নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্য। বিএনপি-জামায়াতের পুনর্বাসনে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করছে। এই ফ্রন্টের নেপথ্য নেতা তারেক রহমান পলাতক থেকে নির্বাচন পরিচালনা করছে। লন্ডনপ্রবাসী দন্ডিত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিটির হাতে জিম্মি এই ফ্রন্ট। প্রার্থী মনোনয়নের কাজ সে সম্পন্ন করেছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তথাপি আইনের শাসন বা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যারা গলা হাঁকায় তারা এই দন্ডিত পলাতক আসামির নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার। এরই সঙ্গে তাদের মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বিনাশ সাধন। ফ্রন্ট নেতারা হুমকি ধমকি দিয়ে বক্তব্য রাখছেন। হুমকির পর সরকারী দলের দু’জনকে হত্যা করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াতী ছত্রছায়ায়। তারা নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করতে চাইছে। পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও তাদের উদ্দেশ্য। নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না চাওয়া বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকালে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা ও সংশয় রয়েছে। কিন্তু জনগণ তা প্রতিরোধ করবেই। কোন অরাজকতা, হামলা, ভোট বানচালের প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার দশ কোটি একচল্লিশ লাখ নব্বই হাজার চার শ’ আশি জন। তিন শ’ আসনে এখন প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার আট শ’ একচল্লিশ জন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২৭২ এবং ধানের শীষ নিয়ে ২৯৫ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ছিয়ানব্বই জন। এ নির্বাচনে প্রতি আসনে গড়ে ছয়জন লড়ছেন। কুমিল্লা-৩ আসনে সর্বোচ্চ পনেরো জন প্রার্থী রয়েছেন। আর সর্বনিম্ন তিনজন রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬, বান্দরবানসহ কয়েকটি আসনে। দল ও জোটগুলো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে যাচ্ছে। দেশবাসী এখন অবাধ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।