২১ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজয় দিবস এবং আমার মুক্তিযুদ্ধ

  • ইঞ্জিনিয়ার এম এ মান্নান

ডিসেম্বর মাস আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দের মাস। বিশেষ করে আমরা যারা রণাঙ্গনে দীর্ঘ নয় মাস লড়াই করেছি এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেন তাদের জন্য। মাসটি আমার কাছে আলাদা অনুভূতি, আলাদা চেতনা এবং শক্তি। বহু ত্যাগ, সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্ত এবং চার লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৯ মাস অবিরাম যুদ্ধ করে এদেশকে হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করেছি। তাই আমাদের জন্য এই দিনটি স্মরণীর, বরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এবং নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বে স্বাধীন সত্তার পরিচিতি লাভ করেছি। তাই ডিসেম্বর মাস বাঙালী জাতির মুক্তির মাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, ১৯৭১ সালে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম আজ যেন তা বিলীনের পথে। স্বাধীনতা আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রধান শর্ত ছিল নাগরিক জীবনে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুুক্তি অর্জন। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধিশালী দেশ ও জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক অদম্য বাসনা। তাই মৃত্যুকে সামনে রেখে সাহস নিয়ে মুুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু দুঃখ হয়, যে মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও দুঃখ-কষ্টের বিনিময়ে এ বিজয়, সেই মুক্তিযোদ্ধারা এখনও কামলা (মজুর) খেটে, কেউ কেউ ভিক্ষা করে, রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কেউ কেউ ছোট্ট একটি গৃহ সংস্থানের জন্য, এক টুকরো জমি পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনও বহু মুক্তিযোদ্ধা নানাভাবে লাঞ্ছিত, অবহেলিত। স্বার্থসিদ্ধির রাজনৈতিক কারণে আজ মুক্তিযোদ্ধারা নানাভাবে বিভক্তও। নানা মতের বিষাক্ত বাণে কেউ কেউ জ্বলে-পুড়ে মরছে। বহু সরকারী-বেসরকারী চাকরিজীবী ১৯৭১ সালে ৮/১০ হাজার টাকা বেতন পেত, তারা এখন ৮০/৯০ হাজার টাকা বেতন পায়। মুক্তবাজারের ব্যবসায়ীরা স্বাধীন দেশে অনেকেই মুনাফাকারী ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া বাকিরা নিরাশ মনে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারগুলো নানাভাবে সম্মান ও সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন।

ইতিহাসের পাঠ হলোÑ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছিল, যা ছিল পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান। স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানবাসী নানাভাবে পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক শোষিত-বঞ্চিত হতে থাকে। সে বঞ্চনা বিশেষ করে ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানবাসী তথা বাঙালীরা বুঝতে শুরু করে যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। পরবর্তী সময়ে এ বঞ্চনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হতে থাকে। এ বঞ্চনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য নানা আন্দোলন-সংগ্রাম ক্রমান্বয়ে জটিল হতে থাকে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জটিল পরিস্থিতির কারণে যখন সে স্বাধীনভাবে চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তার অধিকার অর্জন করতে চায়। এমনই এক পরিস্থিতির কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাঙালীরা পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন ও সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ি। অতঃপর লাখো শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা এ বাংলাদেশ অর্জন করি। বাঙালীর মুক্তির জন্য দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জন করি তার মূল লক্ষ্য ছিলÑ সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সোনার বাংলা গড়ে তোলা, যেখানে আমরা সকলে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারব।

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমি খেয়ে-পরে মোটামুটি ভালই চলছিলাম। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে না নিলেও বাল্যকাল থেকেই রাজনীতির প্রতি আমার একটা প্রবল আগ্রহ ও আকর্ষণ ছিল। ’৫২তে যখন ভাষা আন্দোলন হয় তখন প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের মতো বয়স না হলেও মায়ের ভাষার কথা বলার মতো পরাধীন হওয়ার মনোভাবটি ভাল করে বুঝতে পেরেছিলাম। ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট সম্বন্ধেও টিনের চোঙ দিয়ে যুক্তফ্রন্টকে ভোটে পাস করানোর সেøাগান দিয়েছি। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন গ্রহণ করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুর আগরতলা ষড়যন্ত্রের বিপক্ষে প্রতিবাদ আন্দোলন মিছিল করেছিলাম।

১৯৭১ সালে আমি একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে কিশোরগঞ্জের গর্ব আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের নির্দেশে কিশোরগঞ্জ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি জনগণের মতামত সংগঠিত করার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করি। সেই লক্ষ্যে আমার নিজের থানা কটিয়াদীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে সর্বদলীয় এ্যাকশন কমিটি গঠন এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। মুক্তিযোদ্ধা এবং নির্যাতিত হিন্দু-মুসলিমদের আশ্রয়ের জন্য আমার নিজ বাড়িতে নিজ খরচে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করি।

উল্লেখ্য, আমি একজন কর্মী হিসেবে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ’৭০-এর নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। ’৬৬ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আওয়ামী লীগ করে আসছি। আমার রাজনীতির শুরুটা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্নেহভাজন একজন কর্মী হিসেবে। ১৯৭১ সালে তার নির্দেশে এবং নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে এমএনএ এবং এমসিএদের গোপন সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। সভাশেষে নেতা আমাকে কিশোরগঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের থানাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিংয়ের জন্য যেসব যুবক ভারতে যেতে ইচ্ছুক ছিল তাদের বালাত ক্যাম্প ইনচার্জ এমএনএ এ্যাডভোকেট জুবেদ আলীর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক বলে সার্টিফিকেট প্রদান করতাম। আমি সংগঠক এবং আমার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প এবং সার্টিফিকেট ইস্যুর বিষয়টি হানাদার বাহিনীর দোসররা জানিয়ে দিলে আমাকে আটকের জন্য বহু চেষ্টা করা হয়। একবার তো অল্পের জন্য বেঁচে যাই। পরে কয়েক শ’ যুবককে নিয়ে ৫/৬টি নৌকা ভাড়া করে ভারতে যেয়ে ফ্রিডম ফাইটার হিসেবে ট্রেনিং গ্রহণ করি। এক পর্যায়ে রণাঙ্গনে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ভারতের ঢালু হাসপাতালে, পরে সদ্য সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সহৃদয় চেষ্টায় ভারতের তুরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। হাসপাতালে মরণাপন্ন অবস্থায় থাকাকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম হাসপাতাল ভিজিট করার সময় অত্যন্ত সহৃদয়ভাবে আমার সুচিকিৎসার দায়িত্বভার নেয়ার কারণে আমি আল্লাহর রহমতে বেঁচে উঠি। পরে স্বাধীন বাংলার মাটিতে ফিরে আসি। যদিও দুবার বাড়িতে খবর এসেছিল যে, আমি মৃত্যুবরণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে আমি সদ্য বিবাহিত ছিলাম। বাসরঘর না করেই স্ত্রীকে চট্টগ্রামে রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। অতঃপর যুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলি। এই প্রসঙ্গে আরও একটি স্মৃতির কথা মনে পড়ছেÑ মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে যাওয়ার প্রাক্কালে বাবা-মার কাছে বিদায় নিতে গেলে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। অশ্রুভরা মার চোখ টলমল করছে। বাবা নির্বাক। আমিও যেন কথা বলতে পারছি না। মায়ের চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। বাবার বেদনাবিধুর চাহনি আমাকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে। আমি অতি কষ্টে অশ্রু সংবরণ করে দ্রুত চলে আসি এক অজানা পথের সন্ধানে। যুদ্ধে যাওয়ার অর্থ ফিরে আসা অথবা রণাঙ্গনে জীবন উৎসর্গ করা। বাবা-মা কী ভাবছিলেন তা বুঝতে পারিনি। হাজার হাজার যোদ্ধা জীবন বিসর্জন দিয়েছেন এ দেশের স্বাধীনতার জন্য তার কতজনের খবরইবা আমরা রাখি। শহীদ পরিবার এবং বেঁচে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃখ-বেদনার অনেক কথাই আমরা জানি না। যাক সে কথা, মুক্তিযুদ্ধের পর আবার সরকারী চাকরিতে কর্মরত থাকায় পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছি। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত আমার এলাকা কিশোগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর পাশে থেকে আওয়ামী লীগের দুর্দিণ্ডে আপদে-বিপদে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধরে রেখে রাজনৈতিক মাঠে নিজের অবস্থান তৈরি করেছি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি এবং পেনশনের টাকা দান করে, নিজের ৩ বিঘা জমি ওয়াক্্ফ করে দিয়ে একটি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (এমপিওভুক্ত), নিঃস্ব হতদরিদ্রদের সেবা এবং মানবতার সেবায় অর্থাৎ ক্ষুধামুক্ত এবং দারিদ্র্যমুক্ত দেশগড়ার জন্য একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছি। এলাকার মুসল্লিদের জন্য একটি বৃহৎ জামে মসজিদও প্রতিষ্ঠা করেছি। এলাকার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মক্তব, ক্লাব, সমিতি, মন্দির, পূজা-পার্বণসহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি।

আমার বহুমুখী কর্মকা-ে সন্তুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের পিরিয়ডের এমপি ডাঃ মান্নানকে মনোনয়ন না দিয়ে প্রথমে আমাকে মনোনয়ন দেন। কিন্তু পরে ডাঃ মান্নান মনোকষ্টে স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হলে নেত্রীর নির্দেশে সেবার আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করি। নেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিবেন। কিন্তু অনিবার্য কারণে অন্য একজনকে সেবার মনোনয়ন দেয়া হয়। উল্লেখ্য, তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টি, পরে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। আমি বুকভরা আশা নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে নির্বাচনী মাঠ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু এবারও হঠাৎ করে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আমার আসনে। যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তার সঙ্গে আমার কোন বৈরিতা নেই। তিনি আমার সুপরিচিত। কিন্তু শত-সহস্র কর্মীর প্রশ্ন হচ্ছে- আমার সুদীর্ঘ ৫২ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থেকে আমি কেন বঞ্চিত হলাম? দুঃখ হয়, যারা এক সময় বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে ছিলেন তারা নানাভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত নীতির মালিক হয়ে উঠছেন। এখানে আদর্শ বা চেতনা তারা কতটুকু ধারণ করেন তা সময়ই বলে দেবে।

আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে গেলেও শোষণমুক্ত সমাজ এখনও গড়ে তুলতে পারিনি। জাতির পিতা কি এই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন? সবাই বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মুখে বললেও আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে শিখেছি। এখনও চেতনার বিভেদ! এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি রয়েছে। অথচ যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি তাদের সর্বজনীন সম্মান দিতে পারছি না। যাদের আত্মত্যাগে স্বাধীন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি তারা কেন বঞ্চিত, অবহেলিত! ১৯৬৬ সাল থেকে ৫২ বছর যাবত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দুর্দিনে-দুঃসময়ে, আপদে-বিপদে জড়িয়ে থেকে কাজ করেছি। সরকারী চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর অদ্যাবধি ১৭ বছর যাবত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন সহযোগিতা নেইনি। তারপরও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিজয় দিবসের আনন্দ উৎসাহ উদ্দীপনা থেকে দূরে থাকতে চাই না। আগামী ৩০ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশ আজ উৎসবে-আনন্দে মাতোয়ারা নির্বাচনকে সামনে রেখে। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয় নিশ্চিত হোক এই প্রত্যাশা করছি। বিজয় দিবস সফল হোক, আমাদের জীবন আনন্দময় হয়ে ভরে উঠুক। সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

লেখক : রাজনীতিবিদ ও সাবেক পরিচালক বিআরটিএ

নির্বাচিত সংবাদ